Home জাতীয় অগ্নিকাণ্ড রোধে প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ নির্দেশনা
জাতীয় - মতামত - এপ্রিল ১, ২০১৯

অগ্নিকাণ্ড রোধে প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ নির্দেশনা

 

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা রোধ ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে সংশ্লিষ্টদের এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক শেষে দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা যাতে কমানো যায়, সে বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর এসব নির্দেশনা হলো-

১. যথাযথ প্রক্রিয়ায় ও আইনকানুন মেনে বহুতল ভবন নির্মিত হয়েছে কি না তা সরেজমিন পরিদর্শন করে ক্লিয়ারিং সনদ দেবে ফায়ার সার্ভিস।

২. ভবনগুলোতে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধের সক্ষমতার বিষয়ে নিয়মিত তদারকি করবে ফায়ার সার্ভিস।

৩. ফায়ার সার্ভিসের সনদ এক বছর পরপর নবায়ন করা যায় কি না তা দেখতে হবে, যেভাবে কলকারখানার সনদ প্রতিবছর নবায়ন করা হয়।

৪. অগ্নিকাণ্ডের সময় ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করতে হবে।কারণ, আগুনে দগ্ধ হওয়ার ধোঁয়ায় আক্রান্ত হয়ে বেশি মানুষ মারা যায়। এজন্য ধোঁয়া কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তার ‍উপায় বের করতে হবে।

৫. ফায়ার সার্ভিস যাতে অবাধে কাজ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার সার্ভিস অবাধে কাজ করতে পারে না। এ বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে।

৬. বহুতল ভবনে শতভাগ ফায়ার সেফটি নিশ্চিত করতে হবে। যাতে অগ্নিকাণ্ডের মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটলে নিরাপদে মানুষ বের হয়ে আসতে পারে।

৭. ঢাকা শহরের জলাধার সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার সার্ভিসের পানি পেতে সমস্যা না হয়। এখন ঢাকা শহরে খাল-ডোবা ভরাট হয়ে গেছে। যেসব খাল-ডোবা ভরে গেছে সেগুলো খনন করে সংস্কার করতে হবে। ঢাকার লেকগুলো সংরক্ষণ করতে হবে। ধানমন্ডি ও গুলশান লেক যাতে কেউ দখল করতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। নতুন জলাশয় তৈরি করার ওপর গুরত্ব দিতে হবে।

৮. ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা ও ল্যাডারের সংখ্যা বাড়াতে হবে।এখন ফায়ার সার্ভিসের সাকুল্যে তিনটি ল্যাডার আছে, যেগুলো ২৩ তলা পর্যন্ত যেতে পারে। ল্যাডার বৃদ্ধি করে যাতে ২৩ তলার ওপরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা যেতে পারে।

৯. হাইরাইজ বিল্ডিংয়ে একাধিক বের হবার পথ রাখতে হবে। অনেক ভবনে একটি পথ থাকায় হুড়োহুড়িতে মানুষ মারা যায়। একাধিক পথ থাকলে প্রাণহানি কমবে।

১০. ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিবেশ ও বাস্তবতার দিক চিন্তা করে  নকশা তৈরি করতে হবে। স্থপতিরা যাতে সতর্কতার সঙ্গে প্ল্যান তৈরি করেন। যে ঘরগুলো তৈরি করা হয় তা অনেকটা ম্যাচ বাক্সের মতো। এখানে কোনো দরজা-জানালা থাকে না। অগ্নিকাণ্ডের সময় এবার এটা ভেঙে বেরুতে হয়েছে। দরজা, জানালা বা বারান্দা যাই থাক, বের হওয়ার একটা সুযোগ যেন থাকে। ফায়ার এক্সিট নিশ্চিত করতে হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অনেক ভবনে ইলেকট্রনিক সিস্টেমে দরজা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। যখন ইলেকট্রনিক সিস্টেম ফেইল করবে, বিদ্যুৎ থাকবে না, তখন এটা চলবে না। এজন্য এটা যাতে ম্যানুয়ালি হ্যান্ডেল করা যায় এভাবে রাখতে হবে।

তিনি বলেন, অনেক দেশে আছে, তারপলিনে (কাপড়ের মতো জিনিস) ঝুলে মানুষ নামতে পারে। এ সিস্টেমটা যে কেউ ব্যবহার করতে পারে। শুধু ফায়ার সার্ভিস করবে তা নয়। তারপলিনে ঝুলে একসঙ্গে অনেক লোক উঁচু ভবন থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে। লাফ দিয়ে পড়ার কারণে অনেকে গুরুতর আহত হয়েছে, মারাও গেছে। তারপলিন থাকলে এটা করা লাগবে না। অনেক জায়গায় নেট সিস্টেম আছে। সেটা ধরে ধরে নামা যায়।

‘বিশেষ করে হাসপাতাল ও স্কুলগুলো যেখানে লোকসমাগম বেশি হয়, ওখানে অবশ্যই বারান্দা বা খোলা জায়গা রাখতে হবে। ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন যারা করে তারা অনেক সময় এগুলো ব্লক করে দেয়, এটা যেন না করে। আগুন লাগার সময় অনেকে লিফট ব্যবহার করেন। সারা বিশ্বেই আগুন লাগার সময় লিফট ব্যবহার করা নিষেধ। এসব বিষয়ে সচেতনতার অভাব আছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। অগ্নিকাণ্ডের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এমন নির্দেশনা দিয়েছেন’, বলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

তিনি বলেন, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী বৈঠকে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করেছেন, পুরো ঢাকা শহরের জন্য ২৪টি টিম গঠন করা হয়েছে। টিমগুলো পুরো ঢাকা শহরে যত ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও হাইরাইজ বিল্ডিং আছে পরিদর্শন করবে। যেটা কমপ্লায়েন্সের আওতায় আসবে তা ফিট বলে ঘোষণা দেবে। যেটা আনফিট সেটা বন্ধ করে দেবে। কঠোরভাবে এটা এনফোর্স করবে কমিটি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Check Also

ইরানে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে

পরমাণু ইস্যুতে পশ্চিমাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে ইরানের। অন্যদিকে ইউক…