Home তথ্যপ্রযুক্তি অনলাইন বুটিক :সফল উদ্যোক্তা –নাদিয়া আফরিণ
তথ্যপ্রযুক্তি - নভেম্বর ১২, ২০১৮

অনলাইন বুটিক :সফল উদ্যোক্তা –নাদিয়া আফরিণ

নাদিয়া আফরিন, জনপ্রিয় অনলাইন বুটিক ডিআরিন এলেগেন্স এর  প্রতিষ্ঠাতা এবং
ফ্যাশন ডিজাইনার।  কথা বললেন তার কর্মজীবন এবং কর্মকান্ড নিয়ে। এই
জগতটাকে কেন বেছে নিলেন পেশা হিসেবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসলে আমি
মূলত সফটওয়্যার ইঙ্গিনিয়ার। সময়ের দাবিতে কাজের ধরণ ও পরিধি বদলেছে। আমি
সব সময় ভেবেছি  একজন উদ্যোক্তা হবো। বিশেষ করে বুটিক নিয়ে অনেক ছোট বয়স
থেকেই ভেবেছি। যখন ইস্কুলে পড়তাম তখনই ভাবতাম, আমাদের সমাজে চাইলেই
উদ্যোক্তা হওয়া যায় না। অনেক প্রতিবন্ধকতা। প্রথম বাঁধা আসে পরিবার
থেকেই। আমি খুব  ভাগ্যবতী সেদিক দিয়ে। কারণ আমার আম্মু আর বড় খালামনি
সবসময় আমাকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। সফটওয়্যার জগতের পরে এই জগতটাকে  পেশা
হিসেবে বেছে নিয়েছি কারণ এটা আমার প্যাশনও, আর বুটিকে মেয়েরাই মূলত কাজ
করে। তাই শুরুতেই অনেকের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়ে যায়। তাদের চাহিদাই আমাকে
অনুপ্রেরনা যোগায়’।
২০১১ সালে প্রথম নিজের ডিজাইন করা পোশাক পরিচিত মহলে বিক্রি  করেন নাদিয়া
আফরিন। ক্রেতাদের প্রশংসা পান। তখন আমাদের দেশে অনলাইন বুটিক ছিল না বলতে
গেলেই চলে। ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে জনপ্রিয় সামাজিক  যোগাযোগের মাধ্যম
ফেইসবুকে তার পেইজ ‘ডিআরিন এলেগেন্স’ খোলেন। শুরুতেই অর্ডার পেয়ে যান।
কিন্তু অনেক প্রতিবন্ধকতা ছিল। মানুষ যেহেতু এখনকার মত লাইভে পোশাক দেখতে
পেতো না তাই অর্ডার করতে অনেকেই ভয় পেতেন। আপনি কিভাবে বিশ্বাস যোগ্যতা
অর্জন করলেন জানতে চাইলে নাদিয়া বললেন, ‘আমি প্রথম থেকেই ব্যাংক
অ্যাকাউনটে টাকা নিতাম আর অর্ডার যেদিন দেবার কথা সব সময় তার ৩ থেকে ৪
দিন আগে ডেলিভারি দিতাম। এভাবেই মানুষ আমাকে বিশ্বাস করেছে আর কাছে টেনে
নিয়েছে।’
নাদিয়া আফরিন শুধু নিজে কাজ করে বসে থাকেননি। ভেবেছেন সমাজের নারীদের
নিয়ে যারা ঘরে বসে উপার্জন করতে আগ্রহী।  এ ব্যাপারে তিনি বললেন, ‘আমাকে
অনেক আপুরা এবং আনটিরা তাদের মনের কষ্টের কথা বলতেন, তাদের প্রত্যেকেই
শিতি, কিন্তু অনেক প্রতিবন্ধকতার কারণে তারা বাড়ির বাইরে গিয়ে কাজ করতে
পারেন না। তখনই আমি ভাবলাম  যে,  আমি কিছু করতে পারি কিনা। আমি আসলে অনেক
ভেবেছি তা নয়। হঠাৎ করেই ঘোষণা করে দেই যে,  যারা আমার সঙ্গে কাজ করতে
চান তারা করতে পারেন। এতো রেসপন্স পেয়েছিলাম যা অকল্পনীয়। বর্তমানে
একুশজন আমার সঙ্গে কাজ করছেন। তারা উপার্জন করছেন। তারাও খুশি আমিও
খুশি’।
নাদিয়া বললেন, ‘বেশিরভাগ মানুষের ভুল ধারণা এটাই যে, উদ্যোক্তা হতে হলে
টাকা থাকাই প্রথম শর্ত। একেবারেই তা নয়। যদি সেটা হতো আমি তাহলে
উদ্যোক্তা হতে পারতাম না। যা দরকার তা হলো মনোবল, কঠোর পরিশ্রম আর অটুট
ল্য আর সঠিক কাজ নির্বাচন করা’।
আপনি তো তাহলে এখন আপনার লক্ষ্যে পৌঁছে গেছেন। নাদিয়া এই কথা শুনে বললেন,
‘পুরোপুরি নই। আমার ল্য আমার দেশীয় জিনিস নিয়ে কাজ করা। যা হবে সব
বাংলাদেশী। আমি বিশ্বাস করি এই  কথায় যে দেশীয় পণ্য কিনে হও ধন্য।
কিন্তু ব্যবসায়িক কারণে ইচ্ছে থাকা  সত্তে¡ও তা করা হয়নি , কিন্তু এখন
আমি দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ যে এখন থেকে দেশীয় পণ্যের ওপরেই কাজ করবো।’ আপনি তো
জামদানির ওপর কাজ করেন? ‘জি জামদানি নিয়ে আমার অনেক বড় পরিকল্পনা ছিল এবং
আছে। আমি ভারতে জামদানি এ·পোর্ট করি। আর নকশা আমার নিজের বরাবরের মত।
কিন্তু শুধু শাড়ি বা কামিজ কেন? হতে পারে জামদানির গাউন, ব্যাগ আরও অনেক
কিছুই।’
সাক্ষাৎকার গ্রহণে মাশিয়াত খান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also

‘প্রস্তুতি বহু আগে থেকে ছিল’

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে আইন পাসের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার অনেক দিন …