Home জাতীয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যুবসমাজ

ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যুবসমাজ

মাদকের বিরুদ্ধে অর্থহীন অভিযান

সীমান্তের মাত্র একটি জেলার ৫০ স্থান দিয়ে দেশে মাদক প্রবেশ করছে। প্রতিদিন সেখানে মাদক ধরাও পড়ছে, অনেক মাদক কারবারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হচ্ছেন। মাদকের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযানের সময় ২২ জন মাদক কারবারি বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন সেই জেলায়। এর পরও সেখানে মাদকের কারবার রমরমা। কুমিল্লøা জেলার মাদক পরিস্থিতি নিয়ে একটি সহযোগী দৈনিকের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। সম্প্রতি জেলায় এক সাংবাদিককে মাদক কারবারিরা ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে র্যাবের ক্রসফায়ারে ওই সন্দেহভাজন মাদক কারবারি প্রধান আসামি প্রাণ হারায়। অন্য আরেকটি প্রতিবেদনে জানা যায়, মিয়ানমার সীমান্তে ১৪০টি ইয়াবা কারখানা রয়েছে। এগুলো থেকে কক্সবাজারের সীমান্ত দিয়ে বানের মতো মাদক প্রবেশ করছে। বাংলাদেশে মাদকের বিস্তৃতি কোন পর্যায়ে রয়েছে, এ দু’টি জেলার উদাহরণ থেকে আমরা বুঝতে পারছি। জাতির দুর্ভাগ্য হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যত এত কঠোরতার পরও কেন মাদকের সয়লাবে লাগাম টানা যাচ্ছে না?

কুমিল্লøার ১৭টি উপজেলার মধ্যে পাঁচটির সীমান্ত রয়েছে ভারতের সাথে। এগুলো মাদকের জনজমাট মোকাম। জানা যায়, মাদক নিয়ন্ত্রণে সেখানে সক্রিয় রয়েছে র্যাব, বিজিবি, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর স্বয়ং। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রায় প্রতিদিন অভিযান চালিয়ে ওইসব এলাকা থেকে ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক জব্দ করে। বিজিবি গত বছর ১০ মাসে ৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা মূল্যের মাদক জব্দ করে ধ্বংস করেছে। চলতি বছর মাদকের বিরুদ্ধে আরো বেশি অভিযান চলছে। মাদক আটকও হচ্ছে আগের চেয়ে বেশি। ২০১৮ সালে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি বলে অনেকে প্রাণ হারালেও মাদক কারবারিরা এখনো আগের চেয়ে বেপরোয়া। কেউ এসব নিয়ে প্রতিবাদ করলে তার ওপর তারা চড়াও হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও মাঝে মধ্যে ছাড় পান না যার সর্বশেষ নজির সাংবাদিক হত্যা।
এ ধরনের পরিস্থিতিকেই সম্ভবত ‘বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো’ বলা হয়। তাহলে সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এত কড়াকড়ি অবস্থান গ্রহণের অর্থ কী দাঁড়ায়? দিনশেষে মাদক কারবারিরাই যদি সবার চেয়ে শক্তিশালী প্রমাণিত হয়। আমাদের দেশে মাদকের ব্যাপক বিস্তারের নেপথ্যে শক্তিশালী রাজনৈতিক পক্ষই জড়িত। তারই প্রমাণ মিলছে এতে। মাদককে নির্মূল করতে হলে রাষ্ট্রের একেবারে শীর্ষ পর্যায় থেকে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রয়োজন। না হলে মাঠে কিছু চুনোপুঁটিকে সবসময় বলির পাঁঠা বানানো হতেই থাকবে। অন্যদিকে, মাদকের মূল কারবারিরা থাকবে ধরাছোঁয়ার বাইরে। আর দেশের যুবসমাজ মাদকের নীল দংশনে শেষ হয়ে যেতেই থাকবে। কক্সবাজার রুটটি দিয়ে মিয়ানমার থেকে সবচেয়ে ক্ষতিকর মাদকের অনুপ্রবেশ ঘটছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে সীমান্তে ইয়াবা কারখানা রয়েছে। তারা সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে জানানোর পরও দেশটির সেনা কর্তৃপক্ষ আমলে নিচ্ছে না। মিয়ানমার সরকার উল্টো বাংলাদেশ সীমান্তে মাদকের কারখানা থাকার তথ্য দিচ্ছে। যদিও বরাবরই তাদের জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর মাদক বাণিজ্যের শিকার। মিয়ানমার তাদের অন্যায় অবস্থান থেকে সরবে না। তবে চোরাকারবারি সিন্ডিকেট বাংলাদেশ কেন নির্র্মূল করতে পারে না সেটা এক বিস্ময়। টেকনাফে মাদক চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে একজন ওসি প্রদীপ কুমারই কয়েক শ’ বন্দুকযুদ্ধ করেছেন। তিনি একা নন, অন্যরা মাদক দমনের নামে এমন অভিযান চালিয়েছেন। তাহলে কক্সবাজার দিয়ে মাদকের কারবার কেন কমছে না?

বাংলাদেশ রাষ্ট্র্রটির মূল জায়গায় কোথাও গলদ রয়েছে। এখানে সব কিছু গলার জোরে চলে। কাজের ক্ষেত্রে তার প্রতিফলন দেখা যায় না। মাদক থেকে দেশের মানুষকে বাঁচাতে হলে প্রকৃতপক্ষে কাজ করতে হবে। মাদকের কারবারিকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রেখে মাদক নির্মূল করতে যাওয়া একটা প্রহসন ছাড়া অন্য কিছু নয়। কক্সবাজারে খোদ সরকারদলীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় মাদক কারবারি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সরকার ঘূর্ণাক্ষরেও এর সঠিক তদন্ত করার আগ্রহ দেখায় না। বরং এই পর্যায়ের লোকেরা পার্টির অবস্থানে থেকেই যায়। সেই কারণেই মাদকের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান আমাদের দেশে মাদক নির্মূলে কোনো ভূমিকা রাখছে না। দেশের যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে বাঁচাতে হলে সরকারকে তার নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Check Also

সুইডেন-ফিনল্যান্ডের ন্যাটোর সদস্য হতে আবেদন

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছে রা…