Home আজকের সংবাদ ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী
আজকের সংবাদ - জাতীয় - জানুয়ারি ৬, ২০২১

ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী

বাংলার ডাক ডেস্কঃ ‘কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল’ স্থাপন প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়নি। প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুব্ধ হয়েছেন এবং এ কারণে অনুমোদন না দিয়ে সেটি ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেরি হওয়ার কারণসহ প্রকল্পের সার্বিক দিক দ্রুত তদন্ত করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে গণভবন থেকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তিন বছরের প্রকল্প বাস্তবায়নে কেন ১১ বছর সময় লাগবে? কারণও তিনি জানতে চান। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন ক্রয়সহ ছয়টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

পরিকল্পনামন্ত্রী মান্নান আরও জানান, মেয়াদ শেষ হলেও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পের বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৫৫ শতাংশ। আর্থিক অগ্রগতি আরও কম। অর্থাৎ ৩৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এখন নতুন করে ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ২৭৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরে প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়েছিল একনেক।

এরপর প্রথম দফায় ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় দফায় ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। পরবর্তী সময়ে ব্যয় বাড়িয়ে ৬১১ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে বাস্তবায়নের জন্য ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত (তিন বছর বৃদ্ধি) মেয়াদ বৃদ্ধি করে প্রকল্পটির প্রথম সংশোধন করা হয়। প্রস্তাবটি ২০১৮ সালের ২১ জুন একনেকে অনুমোদন পায়।

সূত্র জানায়, দ্বিতীয় সংশোধনের মাধ্যমে প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৭৪২ কোটি টাকা এবং মেয়াদ ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করে প্রস্তাব পাঠানো হয়। গত বছরের ১২ মার্চ প্রথম পিইসি (প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। পুনর্গঠিত ডিপিপিতে প্রথম পিইসি সভার সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে পালন না করায় গত বছরের ২৬ আগস্ট প্রকল্পটির ওপর দ্বিতীয় পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ৬৮২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০২৩ সালের জুনে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধন প্রস্তাব একনেক বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

পরিকল্পনামন্ত্রী মান্নান জানান, প্রকল্পটির কাজের গতি সন্তোষজনক নয়। অত্যন্ত অসন্তুষ্টি এবং বিরক্তি প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- ‘এ ধরনের প্রকল্প গ্রহণযোগ্য নয়। এমন ধরনের প্রকল্প আমরা নেব না। আইএমইডির মাধ্যমে তাৎক্ষণিক তদন্ত করতে হবে। আদ্যোপান্ত, আর্থিক বৈষয়িক এবং ম্যাটেরিয়াল সব বিষয় দেখতে হবে। দরকার হলে যে কোনো সংস্থার সহায়তা নিতে পারে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।’

পরিকল্পনামন্ত্রী মান্নান আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ জারি হলেই আমরা তদন্তের কাজ শুরু করব। প্রকৃতচিত্র প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করার পর গণমাধ্যমের সামনেও সব তুলে ধরা হবে। প্রকল্পটিকে একটি কেসস্টাডি হিসাবে দেখা হচ্ছে।

প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাবে বলা হয়েছে- প্রকল্পের আওতায় প্রস্তাবিত নির্মাণ কাজের পরিধি ও ব্যয় বৃদ্ধি, জমির পরিমাণ ও ব্যয় হ্রাস, যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র, যানবাহন, এমএসআর সামগ্রী এবং অফিস সামগ্রীর ব্যয় বৃদ্ধি, নতুন কোড সংযোজনের কারণে প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধন প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসাবে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে- ২০১৮ সালে পিডব্লিউডির রেইট শিডিউল পরিবর্তন হওয়ায় প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে। এছাড়া প্রকল্পে কাজের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ করা, নতুন ভৌত কাজ সংযোজন (যেমন- আনসার ও ড্রাইভার ব্যারাক কাম গ্যারেজ নির্মাণ। সাব স্টেশন ভবন এবং জাতির পিতার ম্যুরাল স্থাপন), জমির পরিমাণ ও ব্যয় হ্রাস, নতুন স্থাপনার জন্য অতিরিক্ত আট একর জমির ব্যয় হ্রাসসহ প্রকল্পের মাস্টারপ্ল্যান সংশোধন, যন্ত্রপাতির ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় নতুন যন্ত্রপাতি অন্তর্ভুক্ত করায় ব্যয় বেড়েছে।

মঙ্গলবার একনেক অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলো হলো: কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডামিক প্রিপার্ডনেস প্রকল্প। এছাড়া জেলা পর্যায়ে আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ; সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্প; ভূমিকম্প ও অন্যান্য দুর্যোগকালে অনুসন্ধান, উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং জরুরি যোগাযোগের জন্য যন্ত্রপাতি সংগ্রহ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্প। জেলা মহাসড়কগুলো যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (সিলেট জোন) প্রকল্প এবং চিটাগাং সিটি আউটার রিং রোড প্রকল্প। সূত্র: যুগান্তর

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Check Also

ইরানে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে

পরমাণু ইস্যুতে পশ্চিমাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে ইরানের। অন্যদিকে ইউক…