Home সম্পাদকীয় গায়েবি মামলার পুনরাবির্ভাব

গায়েবি মামলার পুনরাবির্ভাব

২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে যে গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছিল, তার রেশ এখনো কাটেনি। কোথাও বিরোধী দল কর্মসূচি নিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সেই মামলাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। সম্প্রতি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, সরকার বিএনপির কর্মসূচিতে জনজোয়ার দেখে তাঁদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে নতুন করে গায়েবি মামলা দিচ্ছে, আবার পুরোনো মামলার সূত্র ধরেও অনেককে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এ ধরনের মামলায় কয়েকজন আসামির নাম-পরিচয় উল্লেখ করা হলেও বাকিরা থাকেন অজ্ঞাতনামা।

এদিকে ঝিকরগাছা পৌরসভার নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দলের ৩৪ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা করেছে স্থানীয় থানার পুলিশ। মামলার বিবরণ অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বর ঝিকরগাছা উপজেলার পায়রাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বিএনপির কিছু উচ্ছৃঙ্খল নেতা-কর্মী ও দুষ্কৃতকারী ধ্বংসাত্মক ও সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য একত্র হয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। মামলায় ৩৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর বাইরে ৬০ থেকে ৭০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এরই নাম কি নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ?

বিস্ময়কর হলো, এই মামলায় যাঁদের সাক্ষী করা হয়েছে, তাঁরা বলেছেন, এ রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাঁরা ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনেননি। যে ঘটনা ঘটেনি, সেই ঘটনার কথা বলে কারও বিরুদ্ধে মামলা হলো গায়েবি মামলা। প্রথম আলোর যশোর অফিস থেকে পাঠানো খবরে মামলার আসল রহস্য জানা গেল। ১৬ জানুয়ারি ঝিকরগাছা পৌরসভার নির্বাচন হতে যাচ্ছে ২২ বছর পর। এর আগে সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছে ২০০০ সালে। সেই নির্বাচনে জয়ী হন বর্তমান মেয়র, যিনি এবারও ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। অভিযোগ আছে, সীমানাসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে নির্বাচন আটকে রাখায় তাঁর মুখ্য ভূমিকা ছিল। পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়ে ২২ বছর মেয়র পদে অধিষ্ঠিত থাকার নজির একমাত্র সব সম্ভবের দেশ বাংলাদেশেই সম্ভব।

নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে বিরোধী দলের তিনজন কাউন্সিলর প্রার্থী ও বিএনপির নেতা ও মেয়র পদপ্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের আজগুবি মামলার আসামি করার উদ্দেশ্য হলো আওয়ামী লীগ প্রার্থীর জয়ের পথ নিরঙ্কুশ করা। পুলিশ যে ধারায় মামলা করেছে, সেটি জামিন-অযোগ্য। এ কারণে আসামিরা হাইকোর্টে রিট করেছেন। তাঁদের মধ্যে তিন কাউন্সিলর প্রার্থীসহ ১০ জন জামিন পেয়েছেন। ইতিমধ্যে তাঁদের যা ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ হওয়ার নয়।

এ রকম গায়েবি মামলার ঘটনা কেবল ঝিকরগাছায় নয়, অনেক স্থানেই ঘটছে। বিশেষ করে যেখানে বিএনপি কর্মসূচি নেয়, সেখানে এই মামলা ও ধরপাকড়ের ঘটনা বেশি হচ্ছে। মানুষ ২০১৮ সালের পুনরাবৃত্তি চায় না। তারা একটি গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই চায়। বিরোধী দলের কর্মসূচি পণ্ড করতে এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের জিতিয়ে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে যথেচ্ছ গায়েবি মামলা ব্যবহার করছে, তা কেবল অগ্রহণযোগ্য নয়, নিকৃষ্ট নজিরও বটে। অবিলম্বে ঝিকরগাছাসহ বিভিন্ন স্থানে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে যেসব গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছে, তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also

ড. ইউনূসের ব্যাংক হিসাব তলব

নোবেলজয়ী একমাত্র বাংলাদেশি ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহম্মদ ইউনূসের ব্যাংক হিসাবে…