Home Uncategorized চালকদের ডোপ টেস্ট

চালকদের ডোপ টেস্ট

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিদিনের দুঃসংবাদ। সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। এ নিয়ে কম লেখালেখি হয় না। সড়ক নিরাপদ করতে দেশে বড় ধরনের আন্দোলনও হয়ে গেছে। এসেছে নানা ইতিবাচক সুপারিশ। প্রণীত আইন বাস্তবায়নের কাজও চলছে। তবু কিছুতেই থামছে না সড়কে হতাহতের পরিমাণ। এ বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণ সতর্ক ও সচেতন। বিভিন্ন সময়ে সরকারপ্রধানের বক্তব্য এবং সরকারী পদক্ষেপ থেকে এটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, সড়ক নিরাপদ করতে যা যা করা প্রয়োজন তা যে কোন মূল্যে করে যেতে হবে। মানুষের জীবন ঝুঁকিতে রাখা যাবে না।

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২০ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত দরকারি কিছু কথা বলেছেন। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, সড়কে চলমান যানের চালকের সুস্থতা এবং গাড়ির ফিটনেসের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। ড্রাইভারের অনিয়ন্ত্রিত অসতর্ক ভুলে বহু মানুষের জীবন বিপন্ন হতে পারে। কিন্তু মনে রাখা চাই কোন চালকই ইচ্ছে করে দুর্ঘটনা ঘটান না। মানুষকে আহত বা নিহত করার কোন পরিকল্পনা নিয়ে চালকরা সড়কে নামেন না। কিন্তু ভুল হয়ে যায় এবং সেই ভুল এড়ানো যায় না। এজন্য আগাম সতর্কতা জরুরী। সেজন্যই উঠছে চালকের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার কথা। চালকের মাদকাসক্ত হয়ে গাড়ি চালানো বন্ধে প্রয়োজনে চালকদের ডোপ টেস্ট করানোর ব্যবস্থা নিতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিদেশে মহাসড়কে এই নিয়ম চালু আছে। আমাদের দেশে করতেও বাধা নেই। পরীক্ষামূলকভাবে কোথাও কোথাও এ ধরনের মাদক টেস্ট হচ্ছেও।

প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, ‘আমরা শুধু ড্রাইভারদের কথা বলি। শুধু ড্রাইভারদের দোষ দিলে হবে না, পথচারীকেও সচেতন থাকতে হবে। সেখানে সচেতনতার বড়ই অভাব। আমরা শুধু মুখে বলে যাই, কিন্তু কাজের বেলা আমরা কি দেখি? পাশেই ফুটওভার ব্রিজ, রাস্তার মধ্যখান দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে পথচারী। একটা গাড়ি আসছে একটু হাত দেখিয়েই হাঁটা দিল।’ এমন সব ঘটনা প্রতিদিন প্রতিটি সড়কেই দেখা যায়। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানে ঘুষ-দুর্নীতি প্রতিরোধ করা চাই। একইসঙ্গে দুর্ঘটনা ঘটলেই আইন হাতে তুলে নেয়ার মানসিকতা পরিহার এবং সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বানও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

সরকার চালকদের জন্য সড়কের পাশে বিশ্রামাগার তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, এটি সাধুবাদযোগ্য। তবে গাড়ি মালিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে, সে কথা ভুললে চলবে না। প্রাইভেট সেক্টর হোক বা সরকারী, একজন গাড়িচালকের শ্রম দেয়ার সীমা আছে। অতিরিক্ত সময় গাড়ি চালালে সমস্যা হবেই। তাই দূরপাল্লার গাড়ির ক্ষেত্রে পালাবদল করে গাড়ি চালানো হলে দুর্ঘটনা যে কমে আসবে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। প্রধানমন্ত্রী এদিকে লক্ষ্য রাখার তাগিদও দিয়েছেন মালিকদের।

গাড়িচালকদের নির্দিষ্ট গতিসীমা ও আইন মেনে নিরাপদে যানবাহন চালাতে হবে। ওভারটেকিং এবং ওভারস্পীড প্রতিরোধে সড়ক-মহাসড়কে স্পিডোমিটার লাগানোর বিষয়েও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে চিন্তা-ভাবনার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সড়ক নিরাপদ রাখায় সব পক্ষকেই আন্তরিক হতে হবে। তবে চালক ও পথচারীর দায়িত্ব যে বিরাট, সেটি ভুললে চলবে না

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Check Also

তুরস্ক এবার যেসব শর্ত জুড়ে দিল

ফিনল্যান্ড-সুইডেন ন্যাটোতে যোগ দিতে চায়। কিন্তু তাদের ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার পথে বাধা হয়ে দাড়…