Home জাতীয় ঝিনাইদহে দুর্ঘটনায় নিহত ১২ জনের ৫ জনই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র
জাতীয় - সারাদেশ - ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২১

ঝিনাইদহে দুর্ঘটনায় নিহত ১২ জনের ৫ জনই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র

ঝিনাইদহে বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে যশোর সদর হাসপাতালে আরও একজন মারা গেছেন। তার বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামে। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১২ জনে। হাসপাতালে এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন বেশ কয়েকজন। বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা জে কে ট্রাভেলস পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস ঝিনাইদহের বারোবাজার এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারায়। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা পণ্যবাহী একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।

জান যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়ে বাড়ির ফিরতে বাসে উঠেছিলেন তারা। তবে আর বাড়ি ফেরা হয়নি তাদের। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১২ জনের মধ্যে পাঁচজনই ছিলেন যশোর সরকারি এম এম কলেজের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। পরীক্ষা দিয়ে ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা এলাকায় নিজেদের বাড়ি ফিরছিলেন তারা। ওই পাঁচ শিক্ষার্থী হলেন- ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার হরিনদিয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে হারুনর রশিদ সোহাগ (২৪), ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের ইছাহকের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান কল্লোল (২৫), একই উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের রনজিত দাসের ছেলে সনাতন দাস (২৫), সদর উপজেলার নাথকুন্ডু গ্রামের আব্দুল ওয়াহেদের ছেলে ইউনুস আলী (২৪) এবং চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ গ্রামের আব্দুর রশিদের মেয়ে রেশমা (২৬)। ইউনুস, হারুন ও সনাতন দাস জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন এম এম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। এছাড়া মোস্তাফিজুর রাষ্ট্রবিজ্ঞানের হলেও রেশমার বিভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বারোবাজার হাইওয়ে থানার ওসি শেখ মেজবাহ উদ্দীন জানান, বিকেল ৩টার দিকে খুলনা থেকে কুষ্টিয়াগামী গড়াই পরিবহনের বাসটি বারোবাজার তেল পাম্পের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওপর উল্টে যায়। এ সময় একটি দ্রুতগামী ট্রাক বাসটিকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই ৯ যাত্রী নিহত হন। হাসপাতালে নেয়ার পর আরও একজন মারা যান। আর যশোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। এম এম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের পরীক্ষার্থী হারুন অর রশিদ বলেন, তার তিন বন্ধু ইউনুস, হারুন ও সনাতন পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফিরছিল। কিন্তু দুর্ঘটনা তাদের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। তাদের আরও কয়েকজন বন্ধু দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক কামরুল এনাম আহমেদ জানান, তাদের বিভাগের তিন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। আরও দুইজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পরপরই হতাহতদের খোঁজ-খবর নেওয়া হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার ব্যয় বহনের দায়িত্ব নিয়েছেন অধ্যক্ষ। এদিকে রেশমার মৃত্যুর খবরে তার বাবা আব্দুর রশিদ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রেশমার ফুফাতো ভাই নজরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Check Also

ইরানে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে

পরমাণু ইস্যুতে পশ্চিমাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে ইরানের। অন্যদিকে ইউক…