Home জাতীয় দুই বছরে বদলে গেল পঞ্চগড়ের বিলুপ্ত ৩৬ টি ছিটমহলের মানুষের জীবন মান
জাতীয় - সর্বশেষ সংবাদ - জুলাই ৩১, ২০১৮

দুই বছরে বদলে গেল পঞ্চগড়ের বিলুপ্ত ৩৬ টি ছিটমহলের মানুষের জীবন মান

দুই বছরে বদলে গেল পঞ্চগড়ের বিলুপ্ত ৩৬ টি ছিটমহলের মানুষের জীবন মান
আবু তাহের আনসারী পঞ্চগড় জেলা সংবাদদাতা ঃ
পঞ্চগড় বিলুপ্ত ছিটমহলে উন্নয়ন ঃ
পঞ্চগড়ের বিলুপ্ত ৩৬টি ছিটমহলের মানুষের স্বাধীন দেশের ঠিকানা পাওয়ার তিন বছর পূর্ণ হলো আজ। স্বাধীন দেশের মুক্ত আবহাওয়ায় পাল্টে গেছে তাদের জীবন-মান। শিশুরা পেয়েছে পড়া-লেখার সুযোগ। সাধারণ মানুষ পেয়েছে কাজের ঠিকানা। এখন আর মিথ্যা পরিচয় দিয়ে কোন দেশে স্বাস্থ্য সেবার জন্য ছুটতে হয়না তাদের। ৬৮ বছর ছিটমহল নামক ভূখন্ডে অবরুদ্ধ জীবন থেকে মুক্তি মিলেছিল ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্য রাতে।
স্বাধীন দেশের মানচিত্রে মাত্র তিন বছরে পাল্টে গেছে পঞ্চগড়ের বিলুপ্ত ৩৬টি ছিটমহলের ২০ হাজার ৭১জন মানুষের জীবন-মান। পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড়ের বিলুপ্ত ৩৬টি ছিটমহলের আয়তন এগার হাজার ৯ শ বত্রিশ দশমিক আশি একর। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে এই ছিটমহলগুলোতে তিন বছর মেয়াদী প্রকল্পের আওতায় ১০৫ দশমিক পঁচিশ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরন,১৯৩ মিটার সেতু নির্মাণ,দশ দশমিক ৫ কিলোমিটার খাল খনন,১১ টি বাজারে শেড স্থাপন,সাতটি মসজিদ ও ৫টি মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে। ৮২ দশমিক ৬৬ কোটি টাকা ব্যায়ে এসব প্রকল্পের প্রথম ধাপের এক কাজ ইতোমধ্যে সমাপ্ত হয়েছে। জেলা পরিষদের মাধ্যমে ১৬২কোটি টাকা ব্যায়ে ছিটমহলবাসীদের উন্নয়নে ২৫ টি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে । প্রকৃতিতেও পাল্টে গেছে চিরচেনা সেই দৃশ্যপট। সরু মেঠোপথ এখন পাকা সড়কে রুপান্তরিত হয়েছে। প্রতিটি বাড়িতে দেয়া হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। স্বাস্থ্যসেবার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক, প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, আলিয়া মাদরাসাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। প্রত্যাশার ঘর প্রাপ্তি দিয়ে ভরে গেছে তিন বছরের ব্যবধানেই। কাজহীন বেকার শ্রমিকেরা পেয়েছে কাজের সন্ধান। তবে সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হয়েছে পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিলুপ্ত গারাতি ছিটমহলে।
ছিটমহলবাসীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য ৫ টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের কাজ চলছে । সরকারিভাবে পাঁচটি প্রার্থমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালনায় ৪২ টি প্রাক-প্রাথামক ও সহজ কুরআন শিক্ষাকেন্দ্রে শিশুরা পাঠ নিচ্ছে। এ ছাড়া বেসরকারি ভাবে গড়ে ওঠেছে প্রায় অর্ধশতাধিক স্কুল,মাদ্রাসা ও কলেজ। এসব প্রতিষ্ঠানে ছিটমহলের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত শিক্ষা গ্রহণ করছে। এছাড়া কৃষকদের উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রতিবন্ধিদের দেয়া হচ্ছে ভাতা। হত দরীদ্রদেরকে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা । জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরীর কাজ শেষ করা হয়েছে। এছাড়া ভ’মি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দখলের ভিত্তিতে প্রাক জরিপ সম্পন্ন করা হয়েছে । মাত্র তিন বছরে এত কিছু পেয়ে ভীষন খুশি এসব ছিটমহলের বাসিন্দারা। সর্বোপরী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মতে বিলুপ্ত ছিটমহলের অসমাপ্ত কাজ যথাসময়ে শেষ হবে এমন আশা বিলুপ্ত ছিটমহলবাসী তথা সংশ্লিষ্টদের।

আবু তাহের আনসারী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়ম দূর করুন

‘বলপ্রয়োগ’ সমস্যা সমাধানের উত্তম পন্থা নয়। তাতে বরং পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হয়, সঙ্কট আরো বাড়…