Home জাতীয় ‘দেহ নশ্বর, কীর্তি অবিনশ্বর’
জাতীয় - মতামত - মার্চ ৪, ২০১৯

‘দেহ নশ্বর, কীর্তি অবিনশ্বর’

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম বলেছেন, রক্ত মাংসের দেহ নশ্বর, কীর্তি অবিনশ্বর। অসাধারণ নির্মাণশৈলীর স্থপতিরা কাজের ভেতর অনন্তকাল বেঁচে থাকবেন। আসুন না প্রতিযোগিতা করি কীভাবে মৃত্যুর পরও বেঁচে থাকা যায়।

সোমবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশের (আইইবি) ২৩তম নির্বাহী পরিষদের অভিষেক, ২২তম নির্বাহী পরিষদের সদস্যদের সম্মাননা প্রদান ও বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠা দিবস উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথ বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘চোখের দৃষ্টিকে বন্ধ করে, মনের দৃষ্টিতে তাকান, বাংলাদেশ নামক ছোট্ট বদ্বীপটা কীভাবে সুন্দর করে সাজানো যায়, সে সাজানোর স্বপ্নটা আপনারা দেখেন, সেটা আপনাদের পক্ষেই সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, নীতির রাজা যেটা, সেটাই হওয়া উচিত রাজনীতি। রাজার নীতি যা, সেটা রাজনীতি হতে পারে না। শ্রেষ্ঠ নীতি যা, সেটাই হওয়া উচিত রাজনীতি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের সকলে মিলে কাজ করা দরকার। যে যেখানে আছি, দায়িত্বশীলতার সঙ্গে, সৃজনশীলতার সঙ্গে পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে, সততার সঙ্গে আমরা কতটা অবদান রাখতে পারবে, সে জায়গাটা ধারণ করা দরকার। সেক্ষেত্রে মেধাবী মানুষরা একটু বেশি পারেন।’

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার স্বপ্ন বাস্তবায়নে অবিরাম গতিতে এগিয়ে যাওয়া একজন মানুষের, দৃপ্ত প্রত্যয়ের মানুষের নেতৃত্বে চলছে। দৃপ্ত প্রত্যয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করার অভিযাত্রী মানুষ শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক স্থাপত্যে সমন্বিত একটি ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সে আঙ্গিকে আমরা বিল্ডিং কোডসহ মূল প্রবন্ধে উপস্থাপিত প্রস্তাবগুলো যতটা সম্ভব দ্রুত পরিবর্তন করে সময়োপযোগী, যুগোপযোগী করার সক্রিয় সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যত দ্রুত সম্ভব এগুলো আমি করার চেষ্টা করব। আমি সেটাই বলি, যেটা করা সম্ভব বা যেটা করতে পারব। আমি না পারলে থেমে থাকব না, ছেড়ে দিয়ে চলে আসব।’

প্রাসঙ্গিক আলোচনায় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ সেবা চায়। সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে।’

অনেক ভালো কাজ করা সম্ভব উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এ জন্য আমরা একটা যুদ্ধে নেমেছি। এ যুদ্ধের রণকৌশলে স্থপতিরা ক্যাপ্টেন হতে পারেন, সহযোগিতা করতে পারেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাহী পরিষদের স্থপতিরা বলছেন বিল্ডিং ব্যবস্থাপনায়, নির্মাণে ও অন্যান্য ক্ষেত্রে অনেক আধুনিকতা নিয়ে আসা সম্ভব, যারা সম্পৃক্ত থাকবে, তাদের দায়বদ্ধতা থাকবে।’

স্থাপতিদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমাকে সাজেশন দিন, অন্তত আমি সনাতনী প্রথার মন্ত্রীত্ব করতে চাই না, সেক্ষেত্রে আপনাদের সকলের সহযোগিতার প্রয়োজন।’

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের ২২তম পরিষদের সভাপতি এবং স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসের। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের বর্তমান সভাপতি স্থপতি জালাল আহমেদসহ নির্বাহী পরিষদের অন্যান্য প্রাক্তন ও বর্তমান সদস্যবৃন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Check Also

বাজেট অধিবেশন বসছে ৫ জুন

একাদশ জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন আগামী ৫ জুন শুরু হবে। ওই দিন বিকাল ৫টায় অধিবেশন শুরু হব…