Home জাতীয় দ্বি-কক্ষের সংখ্যানুপাতিক সংসদের প্রতিশ্রুতি জাসদের ইশতেহারে
জাতীয় - মতামত - সর্বশেষ খবর - ডিসেম্বর ২০, ২০১৮

দ্বি-কক্ষের সংখ্যানুপাতিক সংসদের প্রতিশ্রুতি জাসদের ইশতেহারে

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) বিজয়ী হলে বর্তমান এক কক্ষবিশিষ্ট সংসদের বদলে শ্রমজীবী, পেশাজীবী, নারী, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, আদিবাসী ও স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের নিয়ে সংসদে উচ্চকক্ষ গঠন করে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থা চালুতে ভূমিকা রাখবে। বর্তমান সংসদ গঠনের ক্ষেত্রে অঞ্চলভিত্তিক প্রতিনিধিত্বের বদলে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি চালু করতেও ভূমিকা রাখবেন এ দলের সাংসদরা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারে এ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

ইশতেহার ঘোষণা করেন দলের সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, কেন্দ্রীয় নেতা মীর হোসাইন আখতার, অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন, মোশাররফ হোসেন, অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান শওকত, নাদের চৌধুরী, নূরুল আখতার, শহীদুল ইসলাম, সফি উদ্দিন মোল্লা, নইমুল আহসান জুয়েল, সাজ্জাদ হোসেন, সৈয়দ শফিকুল ইসলাম মিন্টু, মো. নুরন্নবী, ইদ্রিস ব্যাপারী প্রমুখ।

হাসানুল হক ইনু বলেন, জাসদ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে সমর্থন করে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার থাকবে, অথচ একটি শক্তিশালী আইন থাকবে না— এটা তো কাম্য হতে পারে না। তা ছাড়া গণমাধ্যম সম্পাদকরা কেউ এর বিরুদ্ধেও বলেননি। তবে এতে যদি কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকে তা সংশোধন হতে পারে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন যারা সমর্থন করে না, তারা সাইবার অপরাধীদের উৎসাহিত করে।

তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। ড. কামাল হোসেন বিএনপি-জামায়াতকে রাজনীতিতে পুনর্বাসনের কাজ করছেন।

আগামী নির্বাচনে জাসদ থেকে তিনজন প্রার্থী ১৪ দল ও মহাজোটের অভিন্ন প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এ ছাড়া আরও চারটি আসনে দলীয় প্রতীক মশাল এবং একটি আসনে সিংহ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এ দলের প্রার্থীরা।

জাসদ সভাপতি বলেন, জাসদ বাকি ২৯২টি আসনে ১৪ দল ও মহাজোট মনোনীত অভিন্ন প্রার্থীদের সমর্থন দিয়ে তাদের বিজয়ী করতে ভূমিকা রাখবে।

ইশতেহারে যা আছে: পরিবর্তনের ধারা সংহত করা ও এগিয়ে নেওয়াই জাসদের লক্ষ্য— এ কথা জানিয়ে জাসদের নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছে, সরকার পরিচালনার সবক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা বাহাত্তরের সংবিধানে বিধৃত মূল রাষ্ট্রীয় চার নীতি গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ অনুসরণ করা হবে। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও তার পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের তালিকা প্রণয়ন ও তাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। সরকার ও সংসদে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা নিয়ে কঠোর অবস্থান নেবে এ দল। সোচ্চার থাকবে যুদ্ধাপরাধের বিচার অব্যাহত রাখার দাবিতে। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ তথা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্প্রসারণেও সোচ্চার থাকবে জাসদ। ভূমিকা রাখবে ই-গভর্ন্যান্স ও ই-পরিসেবা সম্প্রসারণ করতে।

ইশতেহারে বলা হয়, সংসদের কাছে সব বিষয়ে সরকারের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সংসদীয় কমিটিগুলো গঠন ও সংসদীয় কমিটিগুলোর প্রকাশ্য গণশুনানির ব্যবস্থা চালু করতে এবং ৭০ ধারা সংশোধন করে সংসদ সদস্যদের স্বাধীন ভূমিকা নির্ধারণে ভূমিকা রাখা হবে। গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষি-অকৃষি খাতের বিকাশ, কর্মসংস্থান তৈরির বিশেষ রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ, গ্যাস-কয়লাসহ খনিজসম্পদ ও সামুদ্রিক উপকূলীয় সম্পদের ওপর জাতীয় মালিকানা নিশ্চিত করা হবে।

ইশতেহারে আরও বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রচেষ্টা চালানো, ৫৪টি আন্তর্জাতিক নদ-নদীর পানিপ্রবাহ ও বণ্টনে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা, ভারতের আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প ও টিপাইমুখ বাঁধ স্থগিত করতে কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ, দক্ষিণ হিমালয় অঞ্চলে যৌথ পানিসম্পদ ব্যবহার, পরিবেশ-প্রকৃতি রক্ষায় বহুপক্ষীয় উদ্যোগ গ্রহণ, নদীদূষণ ও দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে জাসদ।

এ ছাড়াও ইশতেহারে জাসদের পক্ষ থেকে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সব নাগরিককে বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিঃশর্তভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগের পাশাপাশি মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Check Also

তুরস্ক এবার যেসব শর্ত জুড়ে দিল

ফিনল্যান্ড-সুইডেন ন্যাটোতে যোগ দিতে চায়। কিন্তু তাদের ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার পথে বাধা হয়ে দাড়…