Home অপরাধ নওগাঁয় রাতের আধারে অবৈধ কারখানায় ব্যাটারি পুড়িয়ে শিষা তৈরি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে
অপরাধ - নভেম্বর ১২, ২০২০

নওগাঁয় রাতের আধারে অবৈধ কারখানায় ব্যাটারি পুড়িয়ে শিষা তৈরি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে

মোঃ ওয়াশিম রাজু নওগাঁ : নওগাঁর বলিহার ইউনিয়নে একটি অবৈধ কারখানায় ব্যাটারি পুড়িয়ে শিষা তৈরি করা হচ্ছে। উপজেলা সদরের বলিহার ইউনিয়নে কসবা গ্রামের বামনছাতা যাবার রাস্তার পার্শে বিলের মধ্যে কারখানাটির অবস্থান। এই কারখানার কারণে ব্যাটারির অ্যাসিডের প্রকট গন্ধে স্থানীয় লোকজন অতিষ্ঠ। কারখানা থেকে নির্গত ক্ষতিকর ও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর একদিকে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পরছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, এটা জনস্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। ব্যাটারির বজর্য পুড়িয়ে সিসা তৈরি করলে তা আশপাশে থাকা মানুষের শরীরে পয়জনিং (রক্তকণিকা ও মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতি করা) সৃষ্টি করে। এর ফলে মানসিক বিকৃতি, রক্তশূন্যতা ও মস্তিষ্কের ক্ষতিসাধন হতে পারে। কারখানাটির পাশেই বসতবাড়ি রাস্তা লোকজন চলাচল করে। সরেজমিন দেখা যায়, কারখানার ভেতরে শ্রমিকেরা কাজ করছেন। কেউ পুরোনো ব্যাটারির ওপরের অংশ খুলে প্লেট (ব্যাটারির ভেতর থাকা পাত) বের করছেন। কেউ ব্যাটারি থেকে অ্যাসিড বের করে সংরক্ষণ করছেন। শ্রমিক সোহাগ হোসেন জানান, চুলি­র মধ্যে কাঠ ও কয়লায় অ্যাসিড মিশ্রিত ব্যাটারির বজর্য বা প্লেট সাজানো হয়। এরপর আগুন ধরিয়ে দিলে তা গলতে থাকে। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক পাখা থেকে বাতাস দেওয়া হয়। এভাবে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় শিষা তৈরি হয়। পুরোনো ব্যাটারি থেকে প্লেট খুলে তিনি টনপ্রতি ৫০০ টাকা মজুরি পান। এই কাজ করতে তাঁর কোনো সমস্যা হয় না। শ্রমিকেরা জানান, কারখানায় দিনে বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগৃহীত ব্যাটারি থেকে প্লেট খোলা ও অ্যাসিড সংরক্ষণের কাজ করা হয়। আর রাত ১০টার পর প্লেটসহ আনুষঙ্গিক জিনিস পুড়িয়ে শিষা তৈরি করা হয়। কারখানার ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এক রাতে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ কেজি সিসা হয়। এ জন্য প্রায় দেড় টন ব্যাটারির প্লেট লাগে। ব্যাটারির ওপরের অংশ প্লাস্টিক দ্রব্য তৈরিতে কাজে লাগে, যা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করেন তাঁরা। উৎপাদিত শিষা তাঁরা বাংলাদেশের বিভিন্ন চায়না ফ্যাক্টরিতে বিক্রি করেন। তাঁদের কারখানার কোন বৈধ কাগজ পত্রের এখনো প্রয়োজন পড়েনি, তবে বলিহার ইউনিয়ন পরিশোধ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছি এলাকার বড় ভাই মোতাহার বলেছেন, সকল প্রকার সমস্য আমি দেখব সমাস্যা নেই। এই বিষয়ে মোতাহার এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, কাগজ পত্র নেই এই কাজে কাগজ পত্রের প্রয়োজন পড়ে না। এবং আওমীলীগের নেতাদের পরিচয় দিয়ে বলেন, আমার এলাকার বড় ভাই। এই বিষয়ে নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহি অফিসার মির্জা ইমাম উদ্দিন বলেন, এই বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি ২/১ দিনের মধ্য ব্যাবস্থা নেব।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Check Also

সুপ্রিম কোর্টের ১২ বিচারপতি করোনায় আক্রান্ত

ঢাকা: কয়েক দিন ধরে সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের ১২ জন বিচারপতি করোনা আক্রান্ত হও…