Home আজকের সংবাদ নেতাদের কাঁদা ছোড়াছুড়িতে বিব্রত আওয়ামী লীগ
আজকের সংবাদ - রাজনীতি - জানুয়ারি ১২, ২০২১

নেতাদের কাঁদা ছোড়াছুড়িতে বিব্রত আওয়ামী লীগ

বাংলার ডাক ডেস্কঃ সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিচ্ছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র ব্যরিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এবং সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন। দুজনের অভিযোগের তীর দুজনের দিকে। দুজনেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা।

অন্যদিকে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সহসভাপতি ও বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা সম্প্রতি নির্বাচন, রাজনীতি, আওয়ামী লীগের এমপি ও নেতাদের নিয়ে একাধিক বক্তব্য দিয়েছেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। ফলে উভয় ঘটনায় দলের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে বিব্রত বোধ করছে ক্ষমতাসিন দল।

সম্প্রতি, গুলিস্তান এলাকায় সিটি করপোরেশনের মার্কেটগুলোতে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ নিয়ে বাহাস তৈরি হয়- ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস এবং সাবেক মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের মধ্যে। যে দোকানগুলো অবৈধ বলে উচ্ছেদ করছেন- মেয়র তাপস, সেই দোকানগুলো বৈধ বলে দাবি করেছেন সাবেক মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।

এদিকে মোহাম্মদ সাঈদ খোকন তাপসকে নিয়ে নানা অভিযোগ করে বলেছেন, তিনি মেয়র পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। মেয়র তাপস মোহাম্মদ সাঈদ খোকনকে নিয়ে কোনো মন্তব্য না করে বলেছেন, এটি তার ব্যক্তিগত বিষয়। ইতোমধ্যে মোহাম্মদ সাঈদ খোকনকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারের দাবিও উঠেছে। এমন অবস্থায় বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে আওয়ামী লীগ।

এ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের বিষয়ে সাবেক মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন যে বক্তব্য দিয়েছেন এগুলো তাদের ব্যক্তিগত বিষয়।

অন্যদিকে নোয়াখালীতে ওবায়দুল কাদেরের ভাই মির্জা আবদুল কাদের বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন। ৩১ ডিসেম্বর বসুরহাট পৌরভবন চত্বরে নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণাকালে আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ‘বৃহত্তর নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগের কিছু কিছু চামচা নেতা আছেন, যারা বলেন অমুক নেতা, তমুক নেতার নেতৃত্বে বিএনপির দুর্গ ভেঙেছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বৃহত্তর নোয়াখালীতে তিন-চারটি আসন ছাড়া বাকি আসনে আমাদের এমপিরা দরজা খুঁজে পাবে না পালানোর জন্য। এটিই হলো সত্য কথা। সত্য কথা বলতে হবে। আমি সাহস করে সত্য কথা বলছি।’

আবদুল কাদের মির্জার এ বক্তব্যের ভিডিও ফেসবুক ও ইউটিউবে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় দলীয় কিছু নেতাকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছেন, ‘নোয়াখালীর মানুষজন বলে, শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা বেড়েছে। এটি সত্য। কিন্তু আপনাদের (নোয়াখালীর আওয়ামী লীগ নেতা) জনপ্রিয়তা বাড়েনি। আপনারা প্রতিদিন ভোট কমান। টাকা দিয়ে বড় জনসভা করা, মিছিল করা কোনো ব্যাপার নয়। টাকা দিলে, গাড়ি দিলে আমিও অনেক লোক জড়ো করতে পারব। না হয় রাজনীতি থেকে বিদায় নেব।’ ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে আবদুল কাদের মির্জা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার মেয়র পদে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন।

ওবায়দুল কাদেরের ভাইয়ের এমন বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, নোয়াখালীতে মির্জা কাদের সাহেব যে বক্তব্য দিয়েছেন, আমাদের দলে এরকম বক্তব্য বহু আগে অনেকেই দিয়েছেন। আমাদের দলে মুক্তভাবে কথা বলার অধিকার সবার আছে। তার বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে মির্জা কাদের সাহেবের বক্তব্য। তিনি বলেন, কিন্তু আগের বক্তব্যগুলো এত প্রকাশ হয়নি। কারণ তখন যারা বক্তব্য দিয়েছেন তারা তো দলে সাধারণ সম্পাদকের ভাই ছিলেন না। এখন যেহেতু সাধারণ সম্পাদকের ভাই বক্তব্য দিয়েছেন এজন্য এগুলো প্রতিদিন প্রচার পায়। এই হচ্ছে পার্থক্য। আমাদের দলে যে মন খুলে সবাই কথা বলতে পারে সেটিরই বহিঃপ্রকাশ এটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Check Also

গুরুতর অসুস্থ ভ্লাদিমির পুতিন ব্রিটিশ গুপ্তচরের দাবি‌

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ‘গুরুতর অসুস্থ’ বলে দাবি করেছেন ব্রিটেনের সাবেক গুপ্তচ…