Home Uncategorized প্রাণের সন্ধানে লাল গ্রহে নাসার রোভার

প্রাণের সন্ধানে লাল গ্রহে নাসার রোভার

প্রায় সাত মাসের পথ মাড়িয়ে মঙ্গল গ্রহের মাটি ছুঁল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সর্বাধুনিক রোভার ‘পারসিভেরেন্স’। বাংলাদেশ সময় গত বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে মঙ্গলের বিষুবরেখার কাছাকাছি জেজেরো গহ্বরে নামে মহাকাশযানটি। সেখানে শত শত কোটি বছর আগে বিশাল হ্রদ ছিল বলে ধারণা করা হয়ে থাকে।

লাল গ্রহে কখনো প্রাণের অস্তিত্ব ছিল কি না, তা অনুসন্ধান করবে যানটি। আগামী কয়েক বছর মঙ্গলের মাটি খুঁড়ে পাথর, জীবাশ্ম, মাটি ইত্যাদি ৩০ ধরনের নমুনা সংগ্রহ করবে। ২০৩০ সাল নাগাদ যানটি পৃথিবীতে পৌঁছবে বলে আশাবাদী নাসার বিজ্ঞানীরা। এরপর সেসব নমুনা ল্যাবে পরীক্ষা করা হবে। পারসিভেরেন্সের সাতটি দুই মিটার লম্বা হাত আছে। তাতে লাগানো আছে ১৯টি ক্যামেরা। মাইক্রোফোন আছে দুটি। সেই সঙ্গে পাথর কাটা ও মাটি সংগ্রহের নানা সরঞ্জামও রয়েছে।

পারসিভেরেন্স অভিযানের গাইডেন্স, নেভিগেশন ও কন্ট্রোলস অপারেশনসের (জিএনঅ্যান্ডসি) প্রধান স্বাতী মোহন জানান, স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে পারসিভেরেন্স নিরাপদে মঙ্গলের মাটি ছুঁয়েছে, তা প্যাসাডেনায় নাসার জেট প্রপালসন ল্যাবরেটরি থেকে তিনিই নিশ্চিত করেন। সঙ্গে সঙ্গে করতালিতে একে অপরকে অভিনন্দন জানান সেখানে কর্মরত সবাই।

অবশ্য নাসার ঘোষণার প্রায় ১১ মিনিট আগে মঙ্গলে অবতরণ ঘটে মহাকাশযানটির। কারণ মঙ্গল থেকে  পৃথিবীতে রেডিও সিগন্যাল এসে পৌঁছতে ১১ মিনিট সময় লাগে। নেমেই মঙ্গল পৃষ্ঠের ছবি পাঠিয়েছে রোভারটি।

ঐতিহাসিক অবতরণের পর নাসাকে অভিনন্দন জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। টুইটারে তিনি লেখেন, ‘নাসা এবং সেসব মানুষ যাঁরা পারসিভেরেন্সের এই ঐতিহাসিক অভিযানকে সফল করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তাঁদের সবাইকে অভিনন্দন। আজ আরেকবার প্রমাণ হয়ে গেল যে বিজ্ঞান ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।’

নাসা জানিয়েছে, অবতরণের আগে ‘আতঙ্কের ৭ মিনিট’ পেরোনো সব থেকে কঠিন ছিল। এই সময়ের মধ্যেই বেশির ভাগ মহাকাশ অভিযান শেষ হয়ে যায়। এই সময়টা পেরোতে পারলেই তার পর কোনো গ্রহ বা উপগ্রহে অবতরণের আর সমস্যা থাকে না। এ ধরনের ঝুঁকি এড়াতে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল পারসিভেরেন্স তৈরির সময়। তাই এত মাস ধরে মহাকাশে থাকার পরও কোনো সমস্যা হয়নি এই মহাকাশযানের। নাসার এক বিজ্ঞানী জানিয়েছেন, ১৯৬৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মঙ্গলের উদ্দেশে যতগুলো অভিযান করেছেন তাঁরা, তার মধ্যে ‘পারসিভেরেন্স’ সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী পদক্ষেপ।

মঙ্গলে হেলিকপ্টার চালানো যায় কি না, সেটির পরীক্ষাও চালানো হবে এবারের অভিযানে। এ লক্ষ্যে রোভারের পেটে একটি ছোট আকারের হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে। এটি ওড়ানো সম্ভব হলে তা হবে পৃথিবীর বাইরে ভিন্ন কোনো গ্রহে প্রথমবারের মতো রাইট ব্রাদার্সের মুহূর্ত উপভোগ করার মতো ঘটনা। ইনজেনুইটি নামের ১.৮ কেজি ওজনের যানটিকে হেলিকপ্টার বলা হলেও আসলে এটি দেখতে অনেকটা ছোট আকারের ড্রোনের মতো। কয়েক বছরে এই যানটিকে মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলের জন্য উপযোগী করে তোলা হয়েছে। চার ফুট উচ্চতার এই যানটির রয়েছে বাক্স আকৃতির অবয়ব। দুটি ক্যামেরা, কম্পিউটার ও নেভিগেশন সেন্সরও আছে। রাতে মঙ্গলের তাপমাত্রা মাইনাস ৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়ে যায় বলে যানটির ব্যাটারি রিচার্জ করার জন্য আছে সোলার সেল।

হেলিকপ্টারটির প্রধান প্রকৌশলী বব বলরাম বলেছেন, যদি এটি সফল হয় তাহলে তা মঙ্গল আবিষ্কারে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। ধীরগতির রোভারের তুলনায় এই যানটি আরো ভালোভাবে মঙ্গল সম্পর্কে ধারণা দিতে পারবে। এর সাফল্যের ওপর নির্ভর করে পরবর্তী যানগুলোর নকশা তৈরি করা যাবে।

যানটি উড্ডয়নস্থল থেকে এটি ১৬০ ফুট পর্যন্ত এগিয়ে যাবে। এর পর আবার সেই জায়গায় ফিরে আসবে। এর প্রতিটি ফ্লাইট দেড় মিনিটের মতো স্থায়ী হতে পারে। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Check Also

বাজেট অধিবেশন বসছে ৫ জুন

একাদশ জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশন আগামী ৫ জুন শুরু হবে। ওই দিন বিকাল ৫টায় অধিবেশন শুরু হব…