Home জাতীয় বনানীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড বহুতল ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

বনানীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড বহুতল ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

বনানীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

বনানীর আগে চকবাজার, নিমতলী, তাজরীন ফ্যাশনসসহ অন্যান্য অগ্নিকাণ্ডে শত শত মানুষের মৃত্যু দেখেছি আমরা। কিন্তু তাতে আমাদের হুঁশ হয়েছিল কি? বনানীর অগ্নিকাণ্ডে আমাদের হুঁশ হবে কি? জানা যায়, বনানীর ভবনটিতে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। রাজউক থেকে ১৮ তলার অনুমোদন নিয়ে করা হয়েছে ২৩ তলা। অগ্নিকাণ্ডে জরুরি অবতরণের জন্য অত্যন্ত অপ্রশস্ত একটি সিঁড়ি ছিল, যা দিয়ে এত লোকের নামাটা ছিল অসম্ভব। তার ওপর জরুরি বহির্গমনের কলাপসিবল গেট বন্ধ ছিল। ভেতরে ফায়ার অ্যালার্ম ছিল না। যথেষ্ট অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রপাতি ছিল না। যা ছিল তা-ও ব্যবহারের অনুপযোগী ছিল। অগ্নিনির্বাপণে প্রশিক্ষিত জনবল ছিল না। ছিল না ফায়ার হাইড্রেন্ট বা জরুরি পানির মজুদ। এমন ঘটনায় মানুষ দৌড়ে ছাদে যায়, সেখান থেকে উদ্ধারকর্মীরা তাদের উদ্ধার করে। কিন্তু এই ভবনটির ছাদেও মানুষের দাঁড়ানোর মতো জায়গা ছিল না। ফলে ভবনটিতে অগ্নিকাণ্ডের সময় থাকা নিরুপায় মানুষের এই মৃত্যুকে কি শুধুই দুর্ঘটনা বলা যাবে?

আমরা শুধু আইন মানি না, তা নয়। আইন না মানাকে আমরা যেন নিজেদের ‘অধিকার’ মনে করি। ইমারত নির্মাণ বিধিমালা একটি আইন, যা সবাইকে মানতে হবে। বাস্তবে ঢাকা শহরের ভবনগুলোর বেশির ভাগের ক্ষেত্রেই দেখা যাবে তা মানা হয়নি। চকবাজার ও নিমতলীতে অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা ও বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যুর কারণ আবাসিক ভবনে দাহ্য রাসায়নিক পদার্থের গুদাম থাকা। পরবর্তীকালে সেগুলো উচ্ছেদ করতে গেলেও দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদে মিছিল করছেন। উচ্ছেদকারী দলকে প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন। এভাবে গায়ের জোরে আইন না মানার প্রবণতা রোধ করা না গেলে এর চেয়েও ভয়ংকর পরিণতি আমাদের দেখতে হতে পারে। আইন মানাতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। ঢাকা মহানগরীর ভবনগুলো ঠিকমতো তৈরি হচ্ছে কি না তা দেখার দায়িত্ব রাজউকের। অতীতে এমন অনেক ঘটনায় রাজউকের চূড়ান্ত অবহেলাই সামনে এসেছে। গণপূর্তমন্ত্রী বলেছেন, বনানীর ঘটনায় রাজউকের অবহেলা বা কোনো অনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের ক্ষমা করা হবে না। আমরা চাই, এটা যেন শুধু কথার কথা না হয়। জানা যায়, বনানীতে যাঁরা হতাহত হয়েছেন, তাঁদের একটি বড় অংশই ভয়ে লাফিয়ে পড়েছিলেন। আগেও এমনটা দেখা গেছে। অগ্নিকাণ্ডে করণীয় সম্পর্কে সচেতনতার অভাবই এর জন্য দায়ী। এ ক্ষেত্রে বহুতল ভবন, স্কুল-কলেজসহ নানা জায়গায় বড় পরিসরে মহড়াসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া জরুরি হয়ে উঠেছে। আমরা আশা করি, শিগগিরই তেমন কর্মসূচি নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Check Also

সুপ্রিম কোর্টের ১২ বিচারপতি করোনায় আক্রান্ত

ঢাকা: কয়েক দিন ধরে সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের ১২ জন বিচারপতি করোনা আক্রান্ত হও…