Home অপরাধ বায়তুল মোকাররম এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা, ৫০০-৬০০ জন আসামি
অপরাধ - আইন-আদালত - সারাদেশ - মার্চ ২৯, ২০২১

বায়তুল মোকাররম এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা, ৫০০-৬০০ জন আসামি

রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। রাজধানীর পল্টন থানায় এ মামলা হয়। পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক এ তথ্য জানান।

ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ২৬ মার্চ রাতে মামলা হয়। মামলায় ৫০০ থেকে ৬০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার বায়তুল মোকাররম এলাকায় সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও সরকারি দলের কর্মীদের সংঘর্ষে আহত হন অন্তত ৭০ জন। সেখানে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ১০ জন সাংবাদিকও আহত হন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে সফরে প্রতিবাদের অংশ হিসাবে হেফাজতে ইসলামের দেশজুড়ে চালানো সহিংসতা-তাণ্ডবের খবর প্রকাশ করেছে প্রথম সারির নানা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। নিউ ইয়র্ক টাইমসের সংবাদে জানানো হয়, মোদির আগমনে হেফাজত ই ইসলাম নামের একটি ইসলামিস্ট গ্রুপ রাজপথে একত্রিত হয়। শুক্রবার বায়তুল মোকাররম মসজিদে জমায়েতের কথাও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। উঠে আসে সারাদেশে চলা সহিংসতার কথাও।

সকাল-সন্ধ্যা হরতালে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের পর নতুন কর্মসূচি দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। হরতাল শেষে রোববার বিকালে ঢাকার পল্টনে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতের মহাসচিব নুরুল ইসলাম নতুন এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালে দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে সংগঠনটির সমর্থকরা। নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তারা পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়েছে। সিলেটে আওয়ামী লীগের হরতালবিরোধী সমাবেশের সময় ঢিল ছোড়ার পর দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে হেফাজতের হরতালের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বেসরকারি টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। ভাংচুর করা হয় ক্যামেরা। ছিনিয়ে নেয়া হয় মোবাইল ফোন।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলামের গত তিন দিনের বিক্ষোভ ও হরতাল কর্মসূচিতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ১৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠনটির দাবি দেশের তিন জেলায় তাদের ১৭ জন নিহত হয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এক বিক্ষোভকারীর দাড়ি টেনে ধরা হয়েছে। ২৬ মার্চ, শুক্রবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের সামনে এ ঘটনা ঘটে। দাড়ি টেনে ধরার এই ছবিটি ইতোমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also

দেশের তিনটি অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ, বিদায় নিচ্ছে শীত

দেশের তিনটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তবে সপ্তাহখানেক পর থেকে ক্রমাগত তাপমা…