Home Uncategorized বিশ্বসেরা গবেষকের তালিকায় জাবি অধ্যাপক ইব্রাহিম খলিল

বিশ্বসেরা গবেষকের তালিকায় জাবি অধ্যাপক ইব্রাহিম খলিল

জাবি সংবাদদাতা ॥ বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় বিষয়ভিত্তিক গবেষণা কার্যক্রমে অবদানের ভিত্তিতে গবেষকদের এক বৈশ্বিক ডাটাবেজ তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়টির “PLOS Biology” নামক আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জার্নালে বিশ্বের শীর্ষ দুই শতাংশ গবেষকের এ তালিকাটি প্রকাশিত হয়েছে।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব বায়োমেডিকেল ডাটা সায়েন্সের গবেষক জন আইওয়ান্নিডিস, নিউমেক্সিকোভিত্তিক সাইটেক স্ট্র্যাটেজিসের বিশেষজ্ঞ কেভিন ডব্লিউ বয়াক ও নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামভিত্তিক এলসেভিয়ারবিভির রিসার্চ ইন্টেলিজেন্সের গবেষক জেরোয়েন বাস বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় অবদান রাখা ১ লাখ ৫৯ হাজার ৬৮৩ জন বিজ্ঞানীর এ বিষয়ভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করেন। প্রত্যেক বিজ্ঞানীকে তাদের নিজস্ব গবেষণাকাজের সংখ্যা ও সাইটেশনের ভিত্তিতে এ তালিকায় স্থান দেয়া হয়েছে।

“PLOS Biology”তে অক্টোবর ২০২০ এ প্রকাশিত এক গবেষণা প্রবন্ধে ‘কম্পোজিট সাইটেশন ইনডেক্স’ এর উপর ভিত্তি করে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়। গবেষণার সংখ্যা, সাইটেশন, গবেষণার প্রভাব, কী ধরনের জার্নালে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে এ ধরনের নানা দিক বিবেচনায় নিয়ে এ ডাটাবেজ করা হয়েছে। বিশ্বসেরা এ গবেষকদের তালিকাতে স্থান করে নিয়েছেন বাংলাদেশের ৫৬ জন গবেষক। প্রত্যেক বিজ্ঞানীকে তাদের নিজস্ব গবেষণা কাজের সংখ্যা ও ২০১৯ সালের সাইটেশনের ভিত্তিতে এ তালিকায় স্থান দেয়া হয়েছে। সাইটেশন (উদ্ধৃত করা) প্রক্রিয়া হলো বিজ্ঞানীদের গবেষণা কর্ম স্কলারে অন্তর্ভূক্ত করা। যেখানে অন্যান্য গবেষকরা আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্র থেকে তথ্য সূত্র হিসেবে ব্যবহার করেন।

বিশ্বের শীর্ষ দুই শতাংশ গকেষকের এ তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এর প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ইব্রাহিম খলিল। ২.৫৬ স্কোর নিশ্চিত করার মাধ্যমে তিনি ‘কমপ্লিমেন্টারি এ্যান্ড অলটারনেটিভ মেডিসিন, ফুড সায়েন্স ও ক্লিনিক্যাল মেডিসিন’ শাখার ৯৫১৮ জন বিজ্ঞানীর মধ্যে ৫৪ তম স্থান অর্জন করেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিভিন্ন গবেষণা জার্নালে তার ১১০ টি প্রকাশনা রয়েছে। তার প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধ সমূহ থেকে ২০১৯ সালে মোট ৪৫০ বার সাইটেড (উদ্ধৃত) হওয়ায় ‘সাইটেশন ইম্প্যাক্ট’ এ বিশ্বের সেরা শতকরা ২ ভাগ বিজ্ঞানীর মধ্যে অন্তর্ভূক্ত হওয়ার বিরল সম্মাননা অর্জন করেছেন। তার গবেষণার বিষয় ‘Complementary and Alternative Medicine’। তিনি মূলত মধুর ঔষধি গুণাগুণ নিয়ে গবেষণা করেন।

এর আগে তিনি যুক্তরাজ্যের জার্নাল অব ফুড সায়েন্সে প্রকাশিত মালয়েশিয়ান মধুর উপর একটি গবেষণা কাজের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্সটিটিউট অব ফুড টেকনোলজিস্টস থেকে ২০১৪ সালে ‘মোস্ট সাইটেড পেপার’ অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। এছাড়া, ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স মালয়েশিয়া থেকে মানসম্মত প্রকাশনার জন্য একাধিকবার ‘মেরিট অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেছেন।

ড. ইব্রাহিম খলিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৯৯৪ সালে স্নাতক ও ১৯৯৫ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ২০০৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘Complementary and Alternative Medicine’ এর উপর পিএইচডি ডিগ্রী সম্পন্ন করেন। পিএইচডি সম্পন্ন করার পর ২০০৪ সালেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। পাঁচ বছর শিক্ষকতার পর শিক্ষা ছুটি নিয়ে তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স মালয়েশিয়াতে পোস্ট ডক্টোরাল ফেলো হিসেবে যোগদান করেন। তিনি সেখানে মালয়েশিয়ান মধুর উপর কাজ শুরু করেন। ২০১২ সালে দেশে এসে দুই বছর শিক্ষকতার পর আবার ২০১৪ সালে সেখানে ভিজিটিং রিসার্চ ফেলো হিসেবে যোগদান করেন। ২০১৮ সালে তিনি দেশে ফিরে আসেন।

তার এই কৃতিত্বের জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি থেকে এক অভিনন্দন বার্তায় জানানো হয়, অধ্যাপক খলিল সহ উক্ত তালিকায় বাংলাদেশের মোট ৫৬ জন বিজ্ঞানী স্থান পেলেও মাত্র ৫ শতাংশ ‘সেল্ফ সাইটেশন’ নিয়ে তার এরকম একটি মর্যাদাজনক তালিকায় স্থান পাওয়া সত্যিই প্রশংসনীয়।

বিশ্বের শীর্ষ দুই শতাংশ গবেষকের তালিকায় নিজের নাম দেখার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে ড. ইব্রাহিম খলিল বলেন, “আমার এক ছাত্র আছে গত বছর সে আমেরিকাতে পিএইচডি করতে গিয়েছে। প্রথমে সে আমাকে ফোন কলে বিষয়টি জানায়। এটা জানার পর আমি সত্যিই অনেক অভিভূত হয়েছি। ইউনিভার্সিটি সাইন্স মালয়েশিয়াতে থাকা অবস্থায় যে কাজগুলো করেছিলাম সেটারই ফল এটা।”

নতুন গবেষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আমি সবসময় যেটা বিশ্বাস করি এবং আমরা ছাত্রদের যেটা বলি একদম মিনিমাম রিসোর্স নিয়েও অনেক কিছু করা যায়। সবসময় চেষ্টা করতে হবে যা আছে তাই নিয়েই কাজ শুরু করার। আমার এই ফিল্ডে যারা কাজ করে তারা আমার গবেষণাগুলো দেখলেই বুঝবে এগুলো মিনিমাম রিসোর্স থেকে করা।”

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Check Also

সুপ্রিম কোর্টের ১২ বিচারপতি করোনায় আক্রান্ত

ঢাকা: কয়েক দিন ধরে সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের ১২ জন বিচারপতি করোনা আক্রান্ত হও…