Home স্বাস্থ্য ভিটামিন ডি’র অভাবে হানা দিতে পারে করোনা
স্বাস্থ্য - নভেম্বর ১১, ২০২০

ভিটামিন ডি’র অভাবে হানা দিতে পারে করোনা

বাংলার ডাক ডেস্কঃ শরীরে যে সকল ভিটামিন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় তার মধ্যে ভিটামিন ডি প্রথম সারিতে অবস্থান করে। ভিটামিন ডি আমাদের শরীরের প্রতিটি অঙ্গের পোষণে সাহায্য করে। আমাদের ত্বক সূর্যের আলো থেকে ভিটামিন ডি তৈরি করে। এটি যেমন আমাদের শরীরে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস এর পরিমাণ বাড়িয়ে তোলে ঠিক তেমন ভাবেই দাঁত ও হাড় গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ভিটামিন ডির অভাবে শিশুদের রিকেট রোগ হয়। শিশুদের পা ধনুকের মতো বেঁকে যায় এবং মাথার খুলি বড় হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে এই রোগে ভুগলে শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কমে যায়। ভিটামিন ডির অভাবে চোয়ালের গঠন ঠিক হয় না, অসময়ে দাঁত পড়ে যায়। বড়দের অস্টিওম্যালেসিয়া নামে একপ্রকার রোগ হয়। এই রোগে বয়স্কদের হাড় থেকে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস ক্ষয় হয়ে পড়ে। কখনো কখনো কোমরে ও মেরুদণ্ডে বাতের ব্যথার মতো ব্যথা অনুভূত হয়। অনেক ক্ষেত্রে মেরুদণ্ড বেঁকে যায়।
বর্তমানে শরীরে ভিটামিন ডি ঘাটতি একধাক্কায় বাড়িয়ে দিচ্ছে করোনা সংক্রমণ। সম্প্রতি স্পেনের চিকিৎসকদের দ্বারা পরিচালিত এক সমীক্ষা, যার সিদ্ধান্তপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে এন্ডোক্রাইন সোসাইটির জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড মেটাবলিজম-এ। সেই সমীক্ষা দেখা গিয়েছে, ২০০ জন করোনা আক্রান্তের মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগ ক্ষেত্রেই সঙ্কটের কারণ হয়ে উঠেছে শরীরে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি!

গবেষকরা পরীক্ষা করে দেখেছেন যে যাদের বয়স হয়ে গিয়েছে, রয়েছে কোমর্বিডিটির প্রশ্নও, সেই সব রোগীদের ক্ষেত্রেই এই ভিটামিন ডি-র ঘাটতি বিপদ ডেকে আনছে। আমাদের শরীরের অভ্যন্তরে কিডনি থেকে এই হরমোন নিঃসৃত হয়। যা রক্তে ক্যালসিয়ামের ঘনত্ব সঠিক পরিমাণে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। ভিটামিন ডি-র অভাবে তাই হাড় দুর্বল হয়ে যায়, পাশাপাশি রক্তে ক্যালসিয়ামের ঘনত্ব কমে এলে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও পড়ে বিপদের মুখে।

আর এরই জেরে স্পেনের এই হাসপাতালে ভর্তি যে সব করোনায় আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি দেখা গিয়েছে শরীরে, তাদের ক্ষেত্রে সমস্যা গুরুতর আকার ধারণ করেছে। বাকি ২০ ভাগ রোগী, যাদের শরীরে ভিটামিন ডি ঠিকঠাক পরিমাণে আছে, তারা করোনায় আক্রান্ত হলেও তাদের নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ দেখা যায়নি।

এই প্রসঙ্গে গবেষকরা লকডাউন পর্বের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তারা বলেছেন যে সূর্যালোক হল এই ভিটামিনের প্রাকৃতিক উৎস। লকডাউন পর্বে অনেককেই ঘরে কাটাতে হয়েছে, তাই এই ভিটামিনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে অনেকের ক্ষেত্রেই। অন্য দিকে, যারা এর মধ্যেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, দিন কাটাচ্ছেন শয্যাশায়ী হয়ে, তাদের ক্ষেত্রেও সূর্যালোকের সংস্পর্শে আসার প্রশ্নটি অবান্তর!

সূর্যালোক থেকে ভিটামিন ডি আমরা সহজেই পেতে পারি। তবে কিছু খাবার আছে যা থেকে আমরা ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়ামে প্রচুর পরিমাণে পেতে পারি। যেমন – টুনা, ম্যাকরেল, স্যামন মাছ, ডিমের কুসুম, সয়া দুধ, দই, দুগ্ধজাত সামগ্রী, মাশরুম, কমলালেবুর রস, কোকোয়া। সব মিলিয়ে সচেতন হওয়াই ভালো! যদি মনে করেন, কীভাবে শরীরে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি পূরণ করা যায়, সে বিষয়ে পরামর্শ নিতে পারেন চিকিৎসকের।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Check Also

সুপ্রিম কোর্টের ১২ বিচারপতি করোনায় আক্রান্ত

ঢাকা: কয়েক দিন ধরে সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের ১২ জন বিচারপতি করোনা আক্রান্ত হও…