Home আজকের সংবাদ ভোটের প্রচারে মুখর বন্দরনগরী

ভোটের প্রচারে মুখর বন্দরনগরী

বাংলার ডাক ডেস্কঃ দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বন্দরনগরী চট্টগ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনের প্রচার অভিযান। ফলে প্রায় ১০ মাস পর নগরে ফিরে এসেছে ভোটের আমেজ।

প্রচারকাজ শুরুর প্রথম দিনেই দিনভর গণসংযোগ করেছেন নির্বাচনের সম্ভাব্য মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী ও বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। মহানগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে দিনভর জমজমাট প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন অন্য মেয়র এবং কাউন্সিলর প্রার্থীরাও।

প্রচার অভিযানের সময় নির্বাচিত হলে নগরবাসীকে স্বচ্ছ ও স্মার্ট সিটি উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন নৌকার মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম নগরকে বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার পাশাপাশি নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন ডা. শাহাদাত হোসেন।

প্রার্থীদের দিনভর প্রচার অভিযানের ফলে প্রথম দিনেই সরগরম হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম সিটির ভোটের মাঠ।

চট্টগ্রাম নগরের বহরদার বাড়ি জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় ও পারিবারিক কবর স্থানে মা-বাবা ও পূর্বপুরুষদের কবর জেয়ারত এবং শাহ আমানত মাজার জেয়ারতের মাধ্যমে গতকাল শুক্রবার সকালে নির্বাচনী প্রচারে নামেন নৌকার মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী। পরে নেতাকর্মীদের নিয়ে নগরের বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করেন তিনি। এ সময় রাজপথে নেতাকর্মীরা ছিলেন স্লোগানে মুখর। রেজাউল করিম চৌধুরীর সঙ্গে ছিলেন দলের মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, সদস্য সামশুল আলম, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ প্রমুখ।

পরে বিকেলের দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে নগরের ১নং দক্ষিণ পাহাড়তলী, ২নং জালালাবাদ ও ৩নং পাঁচলাইশ ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন রেজাউল করিম চৌধুরী।

গতকাল প্রচারকাজ শুরুর প্রথম দিনে দিনভর নেতাকর্মীদের নিয়ে গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনও। জুমার নামাজের পর আমানত শাহের মাজার জেয়ারতের মাধ্যমে প্রচার শুরু করেন তিনি। বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে মুখর ছিল মাজার প্রাঙ্গণ। নেতাকর্মীরা তার পক্ষে স্লোগান দিয়ে ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।

আমানত শাহের মাজার থেকে বেরিয়ে হজরত বদর আউলিয়ার মাজার জেয়ারত করেন ডা. শাহাদাত। জেয়ারত শেষে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে নগরের বক্সিরহাট, চেরাগি পাহাড়, পাথরঘাটা, ফিরিঙ্গীবাজার, কোতোয়ালি মোড়, লালদীঘি, আন্দরকিল্লাসহ কয়েকটি এলাকায় দিনভর গণসংযোগ করেন।

গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, কেন্দ্রীয় নেতা শওকত আজম, বিএনপির প্রান্তিক জনশক্তি সম্পাদক অপর্ণা রায়, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলার আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, মহানগর আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গাজী মোহাম্মদ সিরাজুল্লাহ প্রমুখ। এ সময় স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অন্য মেয়র প্রার্থীরাও নিজেদের এলাকায় প্রচার অভিযান চালিয়েছেন কাউন্সিলরদের নিয়ে। অন্য মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এমএ মতিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জান্নাতুল ইসলাম, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আবুল মনজুর এবং ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ।

নির্বাচনে সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ১৬১ জন ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৫৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

চসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, কমিশনের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু হয়েছে। আচরণবিধিসহ নির্বাচনের মাঠ পর্যায়ের যাবতীয় বিষয় তদারকি করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের তত্ত্বাবধানে ১৪ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাঠে নেমেছেন। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রচারকাজ পরিচালনার জন্য প্রার্থীদের কাছ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছে কমিশন।

ইভিএমের মাধ্যমে ২৭ জানুয়ারি চসিকের ভোট নেয়া হবে। গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি চসিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। তফসিল অনুযায়ী ২৯ মার্চ ভোট নেওয়ার কথা ছিল। এ উপলক্ষে ৯ মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেন প্রার্থীরা। এর মধ্যে বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ চট্টগ্রামসহ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে ২১ মার্চ নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দিতে বাধ্য হয় কমিশন। এ কারণে প্রায় ১০ মাস ধরে বন্ধ থাকে নির্বাচনী প্রচারসহ কমিশনের যাবতীয় কার্যক্রম। সূত্র: সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Check Also

সুপ্রিম কোর্টের ১২ বিচারপতি করোনায় আক্রান্ত

ঢাকা: কয়েক দিন ধরে সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের ১২ জন বিচারপতি করোনা আক্রান্ত হও…