Home সর্বশেষ সংবাদ “রাক্ষুসী পদ্মা একমূহুর্তে কেড়ে নিলো ৪ একর ভূমি” ৩৫ জন নদী গর্ভে!
সর্বশেষ সংবাদ - আগস্ট ৮, ২০১৮

“রাক্ষুসী পদ্মা একমূহুর্তে কেড়ে নিলো ৪ একর ভূমি” ৩৫ জন নদী গর্ভে!

এইচ এম অাতিক ইকবাল, শরিয়তপুর প্রতিনিধিঃ শরিয়তপুর জেলার নড়িয়া’র সাধূরবাজার লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকায় প্রধান সড়ক সহ প্রায় ৪একর ভূমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অাজ ৭ই অাগষ্ট দুপুর অানুমানিক ২টার সময় হঠাৎ ঘটনাটি ঘটে।
এসময় ঘটনাস্তলে বিভিন্ন এলাকা হতে ভাঙ্গন দেখতে অাসা দর্শনার্থী সহ পথচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে প্রায় ৩৫ জন নদী গর্ভে পতিত হয়, ৩টি দোকান ঘর, ১টা নসিমন, ১টা ট্রলি, ১টা মাহিন্দ্রর বডি, ৩টি অটোগাড়ি, ২ মোটরসাইকেল নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায়।
ভূমি সমেত নদীগর্ভে পড়ে যাওয়া লোকজনকে স্তানীয়রা উদ্ধারের চেষ্টা চালায়, এবং প্রায় সকলকেই উদ্ধার করা গিয়েছে জানালেও স্থানীয়দের অনেকেই দাবী করেছেন বেশ কয়েকজন নিখোজ, তবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না তাদের পরিচয়।

উদ্ধারকৃতদের অবস্থায় নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় অাছেন এবং ০৬জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় শরীয়তপুর সদর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেফার করা হয়েছে বলে জানায় হাসপাতাল কতৃপক্ষ।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং অাহতদের স্বজনরা জানায়, সকাল থেকে অনেকেই এ স্থানে নিজেদের ঘর-বাড়ি সরাতে ব্যাস্ত ছিলো, ভাঙ্গন পরিদর্শন করতে ইউএনও, এসিল্যান্ড, উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান সহ অনেকেই এসেছিলেন, তারা চলে যাওয়ার পর ২টার সময় হঠাৎ সব নিয়ে তলিয়ে যায়, কেউ বুঝতেও পারে এভাবে সব নিয়ে তলিয়ে যাবে!
তারা বলেন, অাহতদের মাথা সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রক্তাক্ত জখম সহ হাত পা কেটে ছিলে গেছে,অতিরিক্ত রক্তপাতও হয়েছে কয়েকজনের।

খবর পেয়ে ইউএনও নড়িয়া সানজিদা ইয়াসমিন দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। এসময় নড়িয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) সহ পুলিশ সদস্য এবং উদ্ধারকাজে সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে উদ্ধার কার্য়ক্রম পরিচালনা করেন।

আজ দুপুর ২টার দিকে সাধুর বাজার লঞ্চঘাটে প্রায় ৪একর জায়গা নিয়ে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায়।

পদ্মার তান্ডবে বিলীন হচ্ছে একের পর এক গ্রাম, গত ০১মাসের ভাঙ্গনে অসহায় শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মোক্তারের চর, কেদারপুর ইউনিয়ন সহ নড়িয়া পৌরশহরের স্থানীয় জনসাধারন। ভাঙ্গনের অাগ্রাসনের শিকার অসহায় মানুষগুলো ভিটেবাড়ি হারিয়ে এখন নির্বাক। বিগত কয়েক বছরের ভাঙ্গনে নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার মানচিত্রই বদলে গেছে কিন্তু প্রতিকারের যথাযথ ব্যবস্থা না না করায় স্থানীয়রা নির্বাক, সর্বস্ব হারিয়ে চাপা ক্ষোভ নিয়ে বলছেন “অামরা অবহেলার শিকার, অামাদের জন্য কেউ নেই, অামরা বাঁচতে চাই, এ কেমন মানবিকতা? শুকনো মৌসুমে নদীতীর রক্ষা করতে অাসে না কেউ, ভাঙ্গন শুরু হলেই নানা রকম ব্যাখ্যা অার লোক দেখানো পাড় রক্ষা করার ধূম! এর পরিত্রান কোথায়? অামরা কি মানুষ না?” অামরা বাঁচতে চাই, প্রধানমন্ত্রী অামাদের বাঁচতে দিন।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also

দেশের তিনটি অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ, বিদায় নিচ্ছে শীত

দেশের তিনটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তবে সপ্তাহখানেক পর থেকে ক্রমাগত তাপমা…