Home সর্বশেষ খবর রামগতি-কমলনগরবাসীর ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে যেতে চাই
সর্বশেষ খবর - সাক্ষাৎকার - আগস্ট ১৮, ২০১৮

রামগতি-কমলনগরবাসীর ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে যেতে চাই

আজকে এমন একজনের সাক্ষাতকার প্রকাশ করা হয়েছে যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক মেধাবী ছাত্রনেতা, কমলনগর উপজেলার গর্বিত সন্তান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠনের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক, কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রফেসর ড. শামছুল কবির। তিনি লক্ষ্মীপুর- ৪ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী। আজকে তাঁর বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে তুলে ধরা হলো। সাক্ষাতকারটি গ্রহণ করেছেন দৈনিক বাংলার ডাক পত্রিকার রিপোর্টার এ কে সাইফুল ইসলাম ।

প্রশ্নঃ কেমন আছেন স্যার?

শামছুল কবিরঃ আলহামদুলিল্লাহ ভাল আছি।

প্রশ্নঃ রাজনীতিতে কখন কীভাবে পদার্পণ হলো আপনার?

শামছুল কবিরঃ স্কুল জীবন থেকেই রাজনীতি ভাল লাগে আমার যদিও সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলাম না। রাজনীতির বিভিন্ন প্রোগ্রামে যেতাম। তারপর কলেজ জীবনে এসে ঢাকা কলেজে পড়া অবস্থায় তৎকালীন ঢাকা কলেজের ছাত্রনেতা পলাশ ভাইয়ের হাত ধরে আমার রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয়। তারপর ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত হই। ২০০২ সালে জিয়া হল ছাত্রলীগ শাখার কার্যনির্বাহি সদস্য হই। পরবর্তীতে হল শাখার যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই। পড়াশুনা শেষে কর্মজীবন শুরু হয় উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে। সেখানেও আওয়ামী লীগ প্যানেল থেকে শিক্ষক সমিতির সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আওয়ামী লীগের প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠনের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হই। বর্তমানে আমার উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি।

প্রশ্নঃ রাজনীতিতে আপনার আদর্শ কে?

শামছুল কবিরঃ আমার রাজনৈতিক আদর্শ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যিনি ধর্মনিরপেক্ষ, অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করার প্রয়াস চালান। আমি সেই আদর্শেই বিশ্বাসী।

প্রশ্নঃ আপনি শিক্ষকতার সাথে রাজনীতিকে কীভাবে সমন্বয় করেন?

শামছুল কবিরঃ শিক্ষকতা পেশা একটি সেবামূলক পেশা। শিক্ষার মাধ্যমেই একটি জাতি উন্নতি করতে পারে, সমাজ আলোকিত হয়। শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। আমার পিতা একজন শিক্ষক হওয়ায় আমারও ছোটবেলা থেকে এই পেশাকে ভাল লাগে। কর্মজীবনেও আমি এ পেশাকেই বেছে নিয়েছি। এ পেশায় এসে দেখতে পাই সমাজ যেভাবে কলুষিত হচ্ছে, জাতি যেভাবে অনগ্রসরতার দিকে যাচ্ছে তখন এটা আমার মনে খুব দাগ কাটে। একটি আদর্শ সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে শিক্ষকরা অনেক অবদান রাখতে পারে। আর একজন আদর্শ শিক্ষক এ দিকে বিরাট ভূমিকা পালন করতে পারে। তাই মনে করি একজন শিক্ষক রাজনীতিতে প্রবেশ করলে সমাজ পরিবর্তনে তারা অগ্রগণ্য ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রশ্নঃ একজন সংসদ সদস্য মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আপনি কতটা আশাবাদী ?

শামছুল কবিরঃ এ ক্ষেত্রে আমাকে ইতিহাস টানতে হয়। বঙ্গবন্ধু যতদিন ছিলেন ততদিন আওয়ামী লীগের প্রার্থীই এই রামগতি কমলনগর অঞ্চলে ক্ষমতায় ছিলেন। কিন্তু তিনি সপরিবারে নৃশংসভাবে শহীদ হওয়ার পর যারাই ক্ষমতায় ছিলেন তারা কেউ আওয়ামী লীগের সরাসরি রাজনীতিক ছিলেন না। আবার কেউ বিভিন্ন দল থেকে এসে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেও জয়ী হতে পারেন নি। যেহেতু আমি ছাত্র জীবন থেকেই আওয়ামী ভাবধারায় নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছি তাই আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আশাবাদী যে, আমি মনোনয়ন পাব এবং নৌকার হাল ধরবো। আমি যদি মনোনয়ন পাই তাহলে আমি আশাবাদী যে আমি বিপুল ভোটে জয়ী হবো।

প্রশ্নঃ মনোনয়ন পেলে আপনার রামগতি কমলনগর নিয়ে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন?

শামছুল কবিরঃ আমার লক্ষ্মীপুর-৪ আসনটি মেঘনা নদী বেষ্টিত উপকূলীয় অঞ্চল, মেঘনার ভাঙনে এ অঞ্চলের মানুষ অতিষ্ঠ। যদিও মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর একটি বড় প্রকল্প হাতে নেন। আর আমি যদি মনোনয়ন পাই এবং আমার এলাকাবাসী যদি আমাকে সমর্থন দিয়ে জাতীয় সংসদে পাঠায়, আমার প্রথম কাজ হবে এই অঞ্চলের মানুষকে নদী ভাঙন থেকে রক্ষা করা, নদী শাসন করা, নদী ড্রেজিং করা এবং শক্ত বাঁধ নির্মান করা। এছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ দরিদ্র, আমার কাজ হবে তাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা। সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক স্থাপনা তৈরি করা। এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটানো। যারা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত আমি যদি নির্বাচিত হই তাহলে আমি আমার অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে সচেষ্ট থাকবো এবং বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় বদ্ধপরিকর থাকবো।

প্রশ্নঃ একজন শিক্ষক হয়ে রাজনীতিতে আসা ব্যক্তি হিসেবে কীভাবে একটি সমাজ পরিবর্তন করা যায় সে ব্যাপারে যদি কিছু বলেন।

শামছুল কবিরঃ একজন শিক্ষক হয়ে রাজনীতিতে আসা ব্যক্তি হিসেবে আমি মনে করি, একজন শিক্ষক একটি আদর্শ সমাজ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অনবদ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। একটি সমাজ পরিবর্তন করতে শিক্ষার মান নিশ্চিত করা, তার জন্য স্কুল কলেজ প্রতিষ্ঠা, অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটানো তার সাথে সমাজের আইন শৃঙ্খলা বৃদ্ধি করা। আর এভাবেই একটি সমাজ পরিবর্তন করা যেতে পারে যা একজন শিক্ষক অগ্রগণ্য ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রশ্নঃ শেখ হাসিনার ২০৪১ সালের যে ভিশন এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ের সাথে আপনার কমলনগরের কীভাবে সমন্বয় ঘটাতে চান?

শামছুল কবিরঃ জননেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী প্রযুক্তি খাতে ব্যপক গুরত্ব দিচ্ছেন এবং আইসিটি খাতকে উন্নত করার বহু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। যার অন্যতম উদাহরণ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। আর এর সাথে আমার রামগতি কমলনগরবাসীকে তাল মিলিয়ে নিয়ে যেতে চাই। তাদের কারিগরি শিক্ষায়, বহুমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত করে সমাজ পরিবর্তন করতে চাই।

প্রশ্নঃ স্যার আপনি আসছে আগামী ২২ আগস্ট পবিত্র ঈদুল আযহা কোথায়, কীভাবে পালন করতে চান?

শামছুল কবিরঃ আমি আমার এলাকা রামগতি কমলনগরবাসীর সাথেই ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে, এলাকার গরীব, অসহায়, দুস্থ সবার পাশে থেকেই তাদের সাথে সুখ দুঃখ ভাগাভাগির মাধ্যমে ঈদ পালন করতে চাই।

প্রশ্নঃ দেশবাসী ও বিশ্ববাসীর কাছে এম. টিভি ও জাতীয় দৈনিক বাংলার ডাক পত্রিকা সম্পর্কে যদি কিছু বলেন।

শামছুল কবিরঃ এম. টিভি ও দৈনিক বাংলার ডাকের জন্য শুভ কামনা, তারা যেন বাংলার ও বিশ্বের বিভিন ঘটনা সত্য ও সুন্দর নিউজ প্রকাশে তৎপর থাকে সেই কামনা করি।

প্রশ্নঃ ধন্যবাদ স্যার আপনাকে আপনার মূল্যবান সময় দেয়ার জন্য। এম. টিভি ও দৈনিক বাংলার ডাক পত্রিকা থেকে আপনাকে জানাই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন, তার সাথে শুভ কামনা।

শামছুল কবিরঃ আপনাদেরও অনেক ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Check Also

সুইডেন-ফিনল্যান্ডের ন্যাটোর সদস্য হতে আবেদন

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছে রা…