Home অর্থ ও বাণিজ্য শিগগিরই মার্কিন–চীন চুক্তি হতে যাচ্ছে!

শিগগিরই মার্কিন–চীন চুক্তি হতে যাচ্ছে!

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সি চিন পিংয়ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সি চিন পিংয়

• চলমান এই বাণিজ্যযুদ্ধে বৈশ্বিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে
• এ বছর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির হারও কমে যাবে বলে আশঙ্কা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চীনের সঙ্গে বেশ কিছু কঠিন বিষয়ে তাদের ঐকমত্য হয়েছে। চার সপ্তাহের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে নতুন বাণিজ্যচুক্তি হতে পারে, যদিও বেশ কিছু বিষয়ে বাধা রয়েই গেছে। বিবিসি সূত্রে এই খবর পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে চীনও আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। চীনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া দেশটির প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, বাণিজ্য আলোচনায় যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বাণিজ্যযুদ্ধে ক্ষান্ত দিয়েছে। চলমান এই বাণিজ্যযুদ্ধে বৈশ্বিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চলতি বছর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির হারও কমে যাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘সবচেয়ে কঠিন বিষয়গুলোতে মার্কিন-চীন ঐক্য হয়েছে। তবে আমাদের আরও কিছু পথ পারি দিতে হবে’। চীনের সহকারী প্রধানমন্ত্রী লিউ হের সঙ্গে আলোচনার আগে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, চুক্তি করার মতো পরিস্থিতি হলে তিনি চীনা প্রেসিডেন্টকে নিয়ে এক শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করবেন। তিনি আরও বলেন, ‘এই চুক্তি চরিত্রগত দিক থেকে হবে মহাকাব্যিক, ঐতিহাসিক। এটা হবে চুক্তির জগতের পিতামহ, যা হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে’।

তবে আরোপিত শুল্ক কত দ্রুত প্রত্যাহার করা হবে এবং চুক্তি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে তা নিয়ে অনৈক্য রয়ে গেছে। সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প সে কথা বলেছেন। তিনি এও বলেছেন, নতুন চুক্তি বাস্তবায়িত না হলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে চীনকে পুরোনো কায়দায় বাণিজ্য করতে দেওয়া সম্ভব হবে না।

বাণিজ্যযুদ্ধের প্রেক্ষাপট

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীন মার্কিন কোম্পানিগুলোর বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ চুরি করার পাশাপাশি তাদের চীনের কাছে প্রযুক্তি হস্তান্তরে বাধ্য করছে। চীন ভর্তুকি ও অন্যান্য সহায়তার মাধ্যমে অন্যায্যভাবে দেশীয় কোম্পানির স্বার্থ রক্ষা করছে—এই অভিযোগ তুলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চায়, চীন বাণিজ্যনীতিতে পরিবর্তন আনুক। আর চীন যেন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও বেশি পণ্য কিনে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনে।

অন্যদিকে চীনের অভিযোগ হলো, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেছে। এবং তারা অর্থনীতিতে বৃহত্তর কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে অনিচ্ছুক।

ঝুঁকি

তবে নতুন চুক্তি না হলে বিপদ আছে। সেই অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র চীনের ২০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে আরোপিত শুল্কের হার ১০ শতাংশ থেকে দ্বিগুণ ২০ শতাংশে উন্নীত করতে পারে। পাশাপাশি তারা নতুন চীনা পণ্যেও শুল্ক আরোপ করতে পারে। আর ডোনাল্ড ট্রাম্প তো আগেই সব চীনা পণ্যে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে রেখেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ২৫০ বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্যে শুল্ক আরোপ করেছে। প্রতিশোধ হিসেবে চীন যুক্তরাষ্ট্রের ১১০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে শুল্ক আরোপ করেছে।

 চীনের ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকস (এনবিএস) জানায়, বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ২০১৮ সালে দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ, যা ২৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। তবে এ হার দেশটির সরকারি লক্ষ্য সাড়ে ৬ শতাংশের তুলনায় একটু বেশি। এর আগে ২০১৭ সালে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল চীনের। এ কারণে চলতি বছর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির হারও কমবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Check Also

ভারতে ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর ৫০ রাজ্য!

ভারতে ২০২৪ সালে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের পর রাজ্যের সংখ্যা ৫০ হবে! সাধারণ কেউ কথাটি বলেনন…