Home জাতীয় সমুদ্র সম্পদ নিয়ে যৌথভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ-ভারত
জাতীয় - নভেম্বর ৫, ২০২০

সমুদ্র সম্পদ নিয়ে যৌথভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ-ভারত

নিউজ ডেস্কঃ সমুদ্র সম্পদ নিয়ে যৌথভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ ও ভারত। একইসঙ্গে বন্ধুপ্রতিম দেশটি বাংলাদেশে ডেইরি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প গ্রহণের আগ্রহের কথা জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের সাক্ষাতে আসেন ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী। বৈঠক শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান।মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘বন্ধুপ্রতিম দুটি দেশ মিলে কীভাবে সমুদ্র সম্পদ আহরণ করা যায় এবং আহরিত সম্পদ দুদেশের চাহিদা অনুযায়ী আমদানি-রপ্তানি করা যায় সে লক্ষ্যে ভারত সব ধরনের সহযোগিতা দেবে। এর মধ্যে মেরিটাইম রিসোর্স সেন্টার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ভারত আগ্রহ প্রকাশ করেছে।’

সমুদ্রে মৎস্যসম্পদ প্রাপ্তিস্থান শনাক্তকরণে স্যাটেলাইট ডাটা ব্যবহার, অত্যাধুনিক ফিশিং ট্রলার প্রদান, জেলেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সুরক্ষা, আবহাওয়া সংক্রান্ত সহযোগিতাসহ অন্যান্য সহযোগিতা দিতে ভারত আগ্রহী বলে জানান মন্ত্রী।

শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘আমাদের সমুদ্র বা উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরা বন্ধ থাকাকালে যাতে অবৈধভাবে কোনো নৌকা বা জাহাজ মাছ ধরতে না পারে সেজন্য ভারতীয় কোস্টগার্ড ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমাদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে।’

বৈঠকে ডেইরি, পোল্ট্রি ও মৎস্য খাতে উভয় দেশ কীভাবে কাজ করতে পারে সে বিষয়ে ভারত আলোচনা করেছে বলেও জানান মৎস্য ও প্রাণীসম্পদমন্ত্রী।

মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের মাছ ও মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধি ও চাহিদা অনুযায়ী বিদেশে রপ্তানির ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ভারত।

আগামীতে মা ইলিশ আহরণ ও জাটকা আহরণ বন্ধে একই সময়ে আমাদের সাথে ভারতও ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান শ ম রেজাউল করিম।

মন্ত্রী বলেন, ‘মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে দেশের অভ্যন্তরে গবেষণাগার নির্মাণ, রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য সীমান্ত এলাকায় মাছ, মাংস, দুধ, ডিম সংরক্ষণে কোল্ড স্টোরেজ তৈরী, প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভারত।’

ভারত বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, ‘ভারত মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের এক কোটি মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তাদের সৈন্যরা আমাদের সাথে মিত্র বাহিনীতে যুদ্ধ করেছেন। বাংলাদেশের যেকোন প্রয়োজনে ভারত পাশে দাঁড়ায়।’

অতীতের তুলনায় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন অনেক ভালো বলেন শ ম রেজাউল করিম।

ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব আরও নিবিড় করে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে চান বলেও জানান মন্ত্রী।

এছাড়া বাংলাদেশে ডেইরি খাতের অপার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে এ খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প নিয়ে বাংলাদেশের সাথে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার।

মৎস্য রপ্তানির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে ভারতে বিশেষ করে ত্রিপুরা রাজ্যে বাংলাদেশের মাছের প্রচুর চাহিদা রয়েছে বলেও জানান হাইকমিশনার। এজন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প গ্রহণেরও কথাও উল্লেখ করেন বিক্রম দোরাইস্বামী।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Check Also

মসজিদে মানতে হবে ৯ নির্দেশনা

দেশজুড়ে বৈশ্বিক মহামারিকরোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করাসহ ছয়…