Home অর্থ ও বাণিজ্য সাফল্যের এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে

সাফল্যের এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে

বাংলাদেশের জন্য একটি আশাব্যাঞ্জক খবর দিয়েছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম। সম্প্রতি এ ফোরামের প্রকাশিত গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ ইনডেক্স ২০১৮-তে বলা হয়েছে, চার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের সব দেশের ওপরে স্থান করে নিয়েছে। আর নারী-পুরুষের সমতার দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের ওপরে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা খাতে বাংলাদেশে নারী-পুরুষের ব্যবধান খুবই কমে এসেছে। তবে উচ্চশিক্ষায় ব্যবধান তুলনামূলক বেশি।

যে চার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে সেগুলো হচ্ছে- ছেলে ও মেয়েশিশুদের স্কুলে ভর্তি, মাধ্যমিকে ছেলে ও মেয়েদের সমতা, সরকারপ্রধান হিসেবে দীর্ঘসময় ধরে নারীর অবস্থান এবং জন্মের সময় ছেলে ও মেয়েশিশুর সংখ্যাগত সমতা। অবশ্য  চতুর্থ এ ক্ষেত্রটিতে মানুষের হাত নেই। এটি প্রাকৃতিক বিষয়। তবে এ অর্জন বর্তমান সময়ে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ বিষয়ে যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে তাতে ১৪৯ দেশের নারী-পুরুষের সমতার চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে মোট চারটি মূল সূচকের ওপরে দেশের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। এগুলো হলো নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও সুযোগ, শিক্ষায় অংশগ্রহণ, স্বাস্থ্য ও আয়ু এবং রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন। সবচেয়ে বড় অগ্রগতি হয়েছে নারীর ক্ষমতায়নে। নারীর ক্ষমতায়ন উপসূচকে বিশ্বে শীর্ষ পাঁচটি দেশের মধ্যে অবস্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ।

সার্বিক বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ৪৮তম। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক যুগে নারী-পুরুষ সমতার ক্ষেত্রে বেশ ভালো উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের। ২০০৬ সালেও বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯১তম। নারী-পুরুষ সমতায় দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতিবেশী দেশগুলো বাংলাদেশের চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছে। বাংলাদেশের পরে রয়েছে শ্রীলঙ্কা, অবস্থান ১০০তম। এছাড়া নেপাল ১০৫, ভারত ১০৮, মালদ্বীপ ১১৩, ভুটান ১২২ ও পাকিস্তান ১৪৮তম অবস্থানে রয়েছে। র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকা পাঁচ দেশ হচ্ছে- আইসল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড ও নিকারাগুয়া। আর সবার শেষে রয়েছে ইয়েমেন।

বাংলাদেশের জন্য এটি নিঃসন্দেহে আনন্দের সংবাদ। কিছুদিন আগে পাকিস্তানের বতর্মান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আক্ষেপ করে বলেছেন, পাকিস্তানের চেয়ে এখন সব সূচকেই বাংলাদেশ এগিয়ে। বাংলাদেশের অদম্য গতির উন্নয়ন দেখে তিনি বিস্মিত। তিনি বলেছেন, এক সময় বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) আমাদের বোঝা ছিল। আমরা অত্যাচার ও নির্যাতন করেছি, অন্যায় আচরণ করেছি অথচ তারা আজ সবদিক থেকে আমাদের চেয়ে এগিয়ে।

কিন্তু এতে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে এখানে থেমে থাকলে চলবে না। আমাদের এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে এবং পর্যায়ক্রমে নিজেদের অবস্থান আরও ওপরে নিয়ে যেতে হবে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারীর অবস্থান দেশে এখনো দুর্বল। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও তারা পিছিয়ে। দেশকে উন্নত বিশ্বের কাতারে নিতে হলে এসব ক্ষেত্রে দ্রুত এগিয়ে যেতে হবে।

আমরা মনে করি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সব পক্ষের আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে লিঙ্গবৈষম্য সূচকে উত্তরোত্তর সাফল্য পাওয়া কঠিন কিছু হবে না। জনসংখ্যার বিরাট একটি অংশ নারী হওয়ায় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। আমরা আশা করব, প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীবান্ধব নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে লিঙ্গগত সমতায় বাংলাদেশ বিশ্বের সামনে আরও বড় নজির স্থাপন করবে। আমাদের প্রত্যাশা বাংলাদেশ এক সময় যেমন একটি মযার্দাসম্পন্ন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে, তেমনি অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে। আর এতে বিশ্ব আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Check Also

সুপ্রিম কোর্টের ১২ বিচারপতি করোনায় আক্রান্ত

ঢাকা: কয়েক দিন ধরে সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের ১২ জন বিচারপতি করোনা আক্রান্ত হও…