Home জাতীয় এক নজরে বিগত ১১টি সংসদ নির্বাচন

এক নজরে বিগত ১১টি সংসদ নির্বাচন

 
প্রথম নির্বাচন : স্বাধীনতা পরবর্তী প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ। দিনটি ছিল বুধবার। অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ছিল ১৪। প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ১০৯১ জন। ভোটার ৩ কোটি ৫২ লাখ ৫হাজার ৬৪২ জন। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিল ১ কোটি ৮৮ লাখ ৫১ হাজার ৮০৮ জন। মোট ভোট পড়েছিল ৫৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। প্রথম এই নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত ছিল এক হাজার টাকা।

অংশগ্রহণকারী ১৪ দলের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩০০ আসনের মধ্যে এককভাবে আসন পেয়েছিল ২৯২টি, সংরক্ষিত মহিলা ১৫সহ এ সংসদের তাদের প্রতিনিধিত্ব আসন দাঁড়ায় ৩০৭টি। এ নির্বাচনে দলটির ১১ জন সদস্য বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। বাকি দলগুলোর মধ্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল তিনটি, ন্যাপ (ভাসানী) একটি, বাংলাদেশ জাতীয় লীগ একটি এবং স্বতন্ত্র তিনজন প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এ সংসদের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন : রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অধীনে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৮ সালের ১৮ ফ্রেব্রুয়ারি (রোববার)। ২৯টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ২১২৫জন। মোট ভোটার ছিল ৩ কোটি ৮৩ লাখ ৬৩ হাজার ৮৫৮জন। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিল ১ কোটি ৯৬ লাখ ৭৬ হাজার ১২৪ জন। মোট ভোট পড়েছিল ৫১.২৮ শতাংশ। প্রার্থীদের জামানাত ছিল ২ হাজার টাকা।

এ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল বিএনপি বিজয়ী হয়ে সংরক্ষিত মহিলা আসন ১৫ থেকে বাড়িয়ে ৩০ নির্ধারণ করেন।

নির্বাচনে বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে এককভাবে ২২০টি পায়। এর সঙ্গে সংরক্ষিত ৩০টি আসন যোগ হয়ে মোট আসন দাঁড়ায় ২৫০টি। ওই নির্বাচনে বিরোধী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আসন পায় ৩৯টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ১২টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ ৮টি, ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ ৬টি, আওয়ামী লীগ (মিজান) ২টি, জাতীয় লীগ ২টি, গণফ্রন্ট ২টি, বাংলাদেশ গণতন্ত্রিক আন্দোলন ১টি, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল, জাতীয় একতা পার্টি ও ন্যাপ (মোজাফফর) ১টি করে আসন পায়। এছাড়া স্বতন্ত্র ৫জন এমপি নির্বাচিত হন।

এ সংসদের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শাহ আজিজুর রহমান এবং সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন আসাদুজ্জামান খান।

তৃতীয় সংসদ নির্বাচন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অধীনে এ সংসদ নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৬ সালের ৭ মে (বুধবার)। এ নির্বাচনে ২৮টি দলের বিপরীতে প্রার্থী ছিলেন ১৫২৭জন। মোট ভোটার ৪ কোটি ৭৩ লাখ ২৫ হাজার ৮৮৬ জনের মধ্যে ভোট দেন ২ কোটি ৮১ লাখ ৩ হাজার ৮৮৯জন। ভোটের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৩৮। জামানত ছিল ৫ হাজার টাকা।

বিএনপির নির্বাচন বর্জন করলেও জাতীয় পার্টি ১৮৩ আসন লাভ করে সরকার গঠন করে। বিরোধী দলে ছিল আওয়ামী লীগ। তাদের প্রাপ্ত আসন ছিল ৭৬টি। বাকি দলগুলোর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ ১০টি, কম্যুনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ৬টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ৫টি, মুসলীম লীগ ও জাসদ (রব) ৪টি করে, ওর্য়ার্কাস পার্টি (নজরুল)  ও জাসদ (সিরাজ) ৩টি করে, ন্যাপ (মোজাফফর) ২টি এবং স্বতন্ত্র ৪টি মোট ৩০০টি। আর সংরক্ষিত ৩০টিসহ মোট ৩৩০টি।

এ সংসদের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী এবং বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

চতুর্থ সংসদ নির্বাচন রাষ্ট্রপতি এরশাদের অধীনে ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ (বৃহস্পতিবার) চতুর্থ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে ৮টি দলের অধীনে ৯৭৭ জন প্রার্থী অংশ নেয়। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ অনেক দল অংশ নেয়নি। ৪ কোটি ৯৮ লাখ ৬৩ হাজার ৮২৯ জন ভোটারের মধ্যে ভোটদান করেন ২ কোটি ৮৮ লাখ ৭৩ হাজার ৫৪০জন। ভোট পড়েছিল ৫৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ। জামানত ছিল ৫ হাজার টাকা।

এ সংসদেও জাতীয় পার্টি ২৫১টি আসন পায়। বাকি আসনগুলো পায় সম্মিলিত বিরোধী দল ১৯টি, জাসদ (সিরাজ) ৩টি, ফ্রিডম পার্টি ২টি এবং স্বতন্ত্র ২৫টি। এ সংসদের সংরক্ষিত আসন ৩০টি। প্রধানমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ও কাজী জাফর আহমেদ এবং বিরোধী দলীয় নেতা আ স ম আবদুর রব।

পঞ্চম সংসদ নির্বাচন ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৫টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ছিলেন ২৭৮৭ জন। ৬ কোটি ২০ লাখ ৮১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটারের মধ্যে ৩ কোটি ৪৪ লাখ ৭৭ হাজার ৮০৩ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট পড়ার হার ৫৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ।  প্রার্থীদের জামানত ছিল ৫ হাজার টাকা।

এ নির্বাচনে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন এবং তার দল বিএনপি আসন পায় ১৪০টি (সংরক্ষিত-২৮টি), বিরোধী দলে থাকা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ পায় ৮৮টি, জাতীয় পার্টি ৩৫টি, সিপিবি ও বাকশাল ৫টি করে, ন্যাপ (মোজাফফর), জাসদ (সিরাজ), এনডিপি, ইসলামী ঐক্যজোট, ও গণতান্ত্রিক পার্টি ১টি করে, জামায়াতে ইসলামী ১৮টি (সংরক্ষিত-২টি) এবং স্বতন্ত্র ৩টি।

৬ষ্ঠ সংসদ নির্বাচন : এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। অংশগ্রহণকারী ৪২টি দলের প্রার্থী ছিলেন ১৪৫০ জন। ৫ কোটি ৬৭ লাখ ২ হাজার ৪২ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দেন ১ কোটি ১৭ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮১জন।

আওয়ামী লীগসহ অনেকে অংশ না নেওয়ায় এ সংসদের বিরোধী দল ছিল না। মাত্র চার দিন সংসদ ছিল। অংশগ্রহণকারী দলের মধ্যে বিএনপি পায় ২৭৮টি (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৪৮ জন), ফ্রিডম পার্টি একটি ও স্বতন্ত্র ১০টি। এ সংসদের রাষ্ট্রপতি ছিলেন আবদুর রহমান বিশ্বাস এবং প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

সপ্তম সংসদ নির্বাচন ১৯৯৬ সালের ১২ জুন এ নির্বাচন হয়। নির্বাচনে ৮১টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। প্রার্থী ৫৭২জন। ৫কোটি ৬৭ লাখ ২ হাজার ৪২২ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দেন ৪ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার ৫৬৪ জন। মোট ভোট পড়ে ৭৫ দশমিক ৬০ শতাংশ। সব দলের অংশগ্রহণে এ নির্বাচন হয়। জামানত ছিল ৫ হাজার টাকা।

দীর্ঘদিন পর এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪৬ (সংরক্ষিত-৩০) আসনে এবং জোট নিয়ে সরকার গঠন করে প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। বিরোধী দলের নেতা হন খালেদা জিয়া। তার দল বিএনপি এ নির্বাচনে আসন পায় ১১৬টি। বাকি আসনগুলোর মধ্যে জাতীয় পার্টি পায় ৩২টি, জামায়াত ৩টি, ইসলামী ঐক্যজোট, জাসদ (রব) ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১টি করে আসন পায়।

অষ্টম সংসদ : ২০০১ সালের ১ অক্টোবর এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। অংশ নেয় ৫৫টি দল। প্রার্থী ১৯৩৯জন। ভোটার ৭ কোটি ৪৯ লাখ ৪৬ হাজার ৩৬৮ জন।  ভোট দেয় ৫ কোটি ৬১ লাখ ৮৫ হাজার ৭০৭জন। ভোট পড়ার হার ছিল ৭৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ। প্রার্থীদের জামানত ছিল ১০ হাজার টাকা ।

তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ নির্বাচনে তার দল আসন পায় ১৯৩ (সংরক্ষিত-৩৬টি), বিরোধী দলে থাকেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তার দল আওয়ামী লীগ আসন পায় ৬২টি, জামায়াত ১৭টি (সংরক্ষিত-৪টি), জাতীয় পার্টি (এন-এফ) ৪টি, ইসলামী ঐক্যজোট ২টি (সংরক্ষিত-২টি), জাতীয় পার্টি (ইসলামী ঐক্যফ্রন্ট) ১৪ (সংরক্ষিত-৩টি), জাতীয় পার্টি (ম) ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ১টি করে এবং স্বতন্ত্র ৬টি।

নবম জাতীয় সংসদ ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ভোট অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু করার পর সব শর্তপালন করে ৩৯টি দল নির্বাচনে অংশ নেয়। প্রার্থী ১৫৬৭ জন। ভোটার ৮ কোটি ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৩ জন। ভোট দেয় ৭ কোটি ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৪৮৫ জন। ভোট পড়ার হার ছিল ৮৬.৩৪ শতাংশ। এ নির্বাচনের জামানত ছিল ১০ হাজার।

দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। তাদের প্রাপ্ত আসন ছিল ২৩০ জন (সংরক্ষিত-৪১জন), বিএনপি ৩০জন (সং-৫), জাতীয় পার্টি ২৭ (সং-৪জন), জাসদ ৩, ওর্য়ার্কাস পার্টি ২, জামায়াত ২, বিজেপি ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি ১টি করে এবং স্বতন্ত্র ৪টি।

এ সংসদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া।

দশম জাতীয় সংসদ : বিএনপিসহ কয়েকটি দলের বর্জনের মধ্যে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে ১১টি দল অংশ নেয়। একতরফা নির্বাচনে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। এ নির্বাচনে তার দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির রওশান এরশাদ। এ নির্বাচনে ভোট পড়ার হার ছিল ৪১ শতাংশ।

 একাদশ জাতীয় সংসদ আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয়

 

 একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৮টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এরমধ্যে ২৫৯টি আসনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। এই জয়ের মাধ্যমে ইতিহাস সৃষ্টি করলেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন তিনি।

সোমবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে আসনভিত্তিক ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত ২৯৮ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ এককভাবে পেয়েছে ২৫৭টি আসন, আর মহাজোটগতভাবে তাদের আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮৮টি।

এরশাদের জাতীয় পার্টি পেয়েছে ২২টি আসন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে বিএনপি ৫ আসন এবং গণফোরাম দুটি আসন পেয়েছে। অন্য দলগুলোর মধ্যে স্বতন্ত্র ৩টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ৩টি, জাসদ ২টি, বিকল্পধারা ২টি, গণফোরাম ২টি, তরিকত ফেডারেশন ও জেপি পেয়েছে ১টি করে আসন।

তিনটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত হওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের ফল স্থগিত করা হয়েছে। ওই কেন্দ্রগুলোতে নতুন করে ভোট হওয়ার পর ফল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে ইসি।

এর আগে রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে ৪০ হাজারের বেশি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হয়। এরপর কেন্দ্রে কেন্দ্রে গণনার কাজ শুরু হয়। এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে গাইবান্ধা-৩ আসনের ভোট স্থগিত করে নতুন তফসিল ঘোষণা করা হয়। সে অনুযায়ী ওই আসনে ২৭ জানুয়ারি ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।

বিজয়ী দলকে অভিনন্দন জানিয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগকে অভিনন্দন জানাই, তারা বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন। এই নির্বাচন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, যেন গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। রোববার রাতে রাজধানীর বেইলি রোডের বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন ফল প্রত্যাখ্যানের কথা বলে এ দাবি জানান।

ঐক্যফ্রন্টের কারচুপির অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম বলেন, ‘কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব- সেটা প্রমাণ হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিদেশি পর্যবেক্ষকরা এ নির্বাচনের প্রশংসা করেছেন। তারা বলেছেন, অত্যন্ত সুন্দর সুষ্ঠু এবং সুন্দরভাবে এই নির্বাচন পরিচালিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনেরও প্রশংসা করেছেন তারা। সে জন্য আমরা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’

প্রসঙ্গত, এর আগে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশের অধিক আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ফের সরকার গঠন করে। সেবার বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো নির্বাচন বর্জন করেছে।

এ ছাড়া ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে এবং প্রথমবারের মত প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Check Also

সুপ্রিম কোর্টের ১২ বিচারপতি করোনায় আক্রান্ত

ঢাকা: কয়েক দিন ধরে সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের ১২ জন বিচারপতি করোনা আক্রান্ত হও…