হাইকোর্টের রুল দুবারের বেশি প্রসূতি ছুটি না থাকা ও সীমিত করার বিধানের বৈধতা নিয়ে

Total Views : 126
Zoom In Zoom Out Read Later Print

কোনো নারী কর্মীর দুবারের বেশি প্রসূতি ছুটি না থাকা এবং কোনো প্রতিষ্ঠানে ছয় মাস চাকরি না করলে প্রসূতি ছুটি না থাকা সম্পর্কিত বিধি ও আইনি বিধান নিয়ে করা রিটের প্রাথমিক শুনানির পর রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ৪৬(২) ধারা এবং ৪৬(১)-এর প্রভিসো এবং বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের ১৯৭ নম্বর রুল মাতৃত্বকালীন ছুটি ও মাতৃত্ব সুবিধা সীমিত করে কেন সংবিধানের ৭, ১৫, ১৮, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে বিষয়টি কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, সরকার কেন সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের কর্মজীবী নারীর জন্য সমান মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা ও মাতৃত্ব সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং কেন এ বিষয়ে একটি অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আশিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব রুল জারি করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। তাকে সহযোগিতা করেন তানজিলা রহমান, মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান ও ইফাত হাসান শাম্মি।

এর আগে গত ১৫ জুন কর্মজীবী নারীদের মাতৃত্বকালীন অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষে জনস্বার্থমূলক এ রিটটি দায়ের করা হয়। রিটে মন্ত্রিপরিষদসচিব, আইন মন্ত্রণালয় সচিবসহ মোট ১২ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনে বলা হয়, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধা কোনো জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নয়; এটি মা ও নবজাতকের মৌলিক স্বাস্থ্য, মর্যাদা, সমতা এবং সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত। তৃতীয় বা পরবর্তী সন্তানের ক্ষেত্রে এই অধিকার থেকে একজন কর্মজীবী নারীকে বঞ্চিত করা বৈষম্যমূলক এবং সংবিধান পরিপন্থি।

এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভিন্ন ভিন্ন নীতিমালা বিদ্যমান থাকায় কর্মজীবী নারীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে; যা সমতা ও আইনের সমান সুরক্ষার নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

রিটকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, সব কর্মজীবী নারীর জন্য বৈষম্যহীন ও সমান মাতৃত্বকালীন অধিকার নিশ্চিত করার জন্য এই রিট করা হয়েছে। মাতৃত্ব কোনো শাস্তির বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়। এই মামলার চূড়ান্ত রায় বাংলাদেশের মাতৃত্বকালীন অধিকার, কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গসমতা এবং শ্রম অধিকার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

See More

Latest Photos