আওয়ামী লীগ ২৫টির বেশি আসন পাবে না ‘সুষ্ঠু নির্বাচন হলে

Total Views : 66
Zoom In Zoom Out Read Later Print

সরকারের পদত্যাগ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে শনিবার রাজধানীর ১০টি স্থানে মানববন্ধন করেছে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা গণতন্ত্র মঞ্চসহ সমমনা দল ও জোট। মানববন্ধন থেকে ১৮ মার্চ সারা দেশের সব মহানগরে সমাবেশের অভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিএনপিও একইদিন এ কর্মসূচি পালন করবে। পৃথকভাবে সাত দলের গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, ১২ দলের জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, এলডিপি, গণফোরাম ও বাংলাদেশ পিপলস পার্টি, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য এবং ১৫ সংগঠনের সমমনা পেশাজীবী গণতান্ত্রিক জোট মানববন্ধন করে। এ সময় নেতারা বলেন, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ক্ষমতাসীন ২৫টির বেশি আসন পাবে না। এ কারণে ক্ষমতাসীনরা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে চায় না।

গণতন্ত্র মঞ্চ : পল্টন মোড়ে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতাকর্মীরা এক ঘণ্টার মানববন্ধন করেন। এতে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাত কাইয়ূমের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির অ্যাডভোকেট কেএম জাবির প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের শহিদুল্লাহ কায়সার, ভাসানী অনুসারী পরিষদের হাবিবুর রহমান রিজু, জেএসডির কামাল পাটোয়ারী, গণঅধিকার পরিষদের রাশেদ খান, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মীর মোফাজ্জল হোসেন মোস্তাক প্রমুখ। 

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী বিশাল বহর নিয়ে জনগণের টাকায় দেশ-বিদেশে ঘুরছেন। কিন্তু সরকার যতই টালবাহানা করুক, শেখ হাসিনার (প্রধানমন্ত্রী) অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। গণতন্ত্র মঞ্চসহ যুগপৎ আন্দোলনে যারা আছেন কেউ তার অধীনে নির্বাচনে যাবে না। সাইফুল হক বলেন, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এ সরকারের পতন নিশ্চিত করা ছাড়া উপায় নেই। দেশের মানুষকে বন্ধক রেখে এ সরকার অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতে চায়। তাদের পতন নিশ্চিত করতে হবে। 

১২ দলীয় জোট : বিজয়নগর পানির ট্যাংকসংলগ্ন সড়কে ১২ দলীয় জোট মানববন্ধন করে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ জাতীয় দলের অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, বাংলাদেশ এলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) ক্বারি মুহাম্মদ আবু তাহের, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মুফতি গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (বিএমএল) অ্যাডভোকেট শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ইকবাল হোসেন, ন্যাপ-ভাসানীর অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির আবুল কাশেম, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা আব্দুল করিম প্রমুখ। 

মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য। 

জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, এ ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরাতে হলে শুধু শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সম্ভব কিনা, এ প্রশ্ন পুনরায় বিবেচনার দাবি রাখে। আমরা শান্তির পক্ষে। কিন্তু সরকার অশান্তি করছে। সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়ে জনগণের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। মিছিলের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। আন্দোলন কর্মসূচিকে বানচাল করে দিচ্ছে। 

গণভবনে অনুষ্ঠিত কোনো সংলাপে অংশ নেবে না জানিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, এবার রাজপথে সব সংলাপ, আলাপ-আলোচনা হবে।

এলডিপি : ঢাকা মহানগর উত্তর এলডিপির উদ্যোগে বাড্ডায়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে এফডিসিসংলগ্ন এলডিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে, ঢাকা মহানগর পূর্বের উদ্যোগে যাত্রাবাড়ী এবং ঢাকা মহানগর পশ্চিমের উদ্যোগে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) মানববন্ধন করে। এতে অংশ নেন এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আওরঙ্গজেব বেলাল, ড. নেয়ামূল বশির, অ্যাডভোকেট এসএম মোরশেদ, উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান, ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহে আলম চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজি, আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল হাসেম, সহসাংগঠনিক সম্পাদক এবিএম সেলিম, ঢাকা মহানগর উত্তরের অবাক হোসেন রনি, ঢাকা মহানগর পূর্বের অসিম ঘোষ, ঢাকা মহানগর পশ্চিমের সাহাদাত হোসেন মানিক, গণতান্ত্রিক যুবদলের আমান সোবহান, গণতান্ত্রিক স্বেচ্ছাসেবক দলের খালিদ বিন জসিম, গণতান্ত্রিক শ্রমিক দলের এফএমএ আল মামুন প্রমুখ। 

জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট : রাজধানীর বিজয়নগরে আল রাজি কমপ্লেক্সের সামনে মানববন্ধন করে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট। এতে জোটের সমন্বয়ক ও এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, যত চেষ্টা করুক, আওয়ামী লীগ এবার পদত্যাগ ও সংসদ বিলুপ্ত করে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে। কারণ দেশের মানুষ আর কোনো প্রহসনের নির্বাচন হতে দেবে না। 

এনপিপির মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফার সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের অধ্যাপক নুরুল আমিন বেপারি, জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, গণদলের এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী, ডেমোক্রেটিক লীগের সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, বাংলাদেশ ন্যাপের এমএন শাওন সাদেকী, সাম্যবাদী দলের ডা. নুরুল ইসলাম প্রমুখ।

গণফোরাম ও পিপলস পার্টি : আরামবাগে গণফোরাম চত্বরে গণফোরাম ও বাংলাদেশ পিপলস পার্টির উদ্যোগে মানববন্ধন করা হয়। এতে গণফোরামের একাংশের চেয়ারম্যান মোস্তফা মহসীন মন্টু বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত লুটপাট কখনো হয়নি। সমগ্র জাতি এ সরকারকে নিয়ে এক মহাসংকটে আছে। এতে বক্তব্য দেন পিপলস পার্টির বাবুল সর্দার চাখারী, গণফোরামের অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, অ্যাডভোকেট একেএম জগলুল হায়দার আফ্রিক, আবদুল হাসিব চৌধুরী, খান সিদ্দিকুর রহমান, আইয়ুব খান ফারুক, মুহাম্মদ উল্লাহ মধু প্রমুখ। 

সমমনা পেশাজীবী গনতান্ত্রিক জোট : জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে সমমনা পেশাজীবী গণতান্ত্রিক জোট মানববন্ধন করে। এতে জোটের প্রধান সমন্বয়কারী ও বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মুহাম্মদ সাইদুর রহমান, সহকারী সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মাইনুদ্দিন মজুমদার, জাতীয়তাবাদী নাগরিক দলের শাহজাদা সৈয়দ মোহাম্মদ ওমর ফারুক, সংবিধান সংরক্ষণ পরিষদের অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধ-৭১ এর আনসার রহমান সিকদার, জাতীয় যুব ঐক্য পরিষদের ওমর ফারুক সেলিম প্রমুখ অংশ নেন।

এছাড়া জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক ঘণ্টার মানববন্ধন করে গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য। 

See More

Latest Photos