বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালী যুগের জনপ্রিয় অভিনেতা ইলিয়াস জাভেদ ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্ত্রী ও চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরী।
ইলিয়াস জাভেদ বাংলা সিনেমার সোনালী যুগের নায়ক আর নেই
ডলি চৌধুরী জানান, বুধবার সকালে হঠাৎ করেই ইলিয়াস জাভেদের শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং চিকিৎসা চলছিল। এক পর্যায়ে তাকে বাসায় রেখে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। হাসপাতাল থেকে একজন চিকিৎসক ও দুজন নার্স নিয়মিত বাসায় এসে তার দেখভাল করছিলেন। বুধবার সকালে নার্সরা এসে লক্ষ্য করেন, তার শরীর সম্পূর্ণ ঠান্ডা হয়ে গেছে। পরে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
১৯৬৪ সালে উর্দু ভাষার চলচ্চিত্র ‘নয়ি জিন্দেগি’ দিয়ে নায়ক হিসেবে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন ইলিয়াস জাভেদ। তবে ১৯৬৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পায়েল’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ওই ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানা। এরপর একের পর এক সফল সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নিজেকে সময়ের অন্যতম শীর্ষ নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি ইলিয়াস জাভেদ ছিলেন একজন দক্ষ নৃত্য পরিচালক। তার প্রকৃত নাম রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। নৃত্য পরিচালনার মাধ্যমেই চলচ্চিত্র জগতে তার যাত্রা শুরু হলেও পরবর্তীতে শতাধিক সিনেমায় নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন তিনি। তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে ‘নিশান’ বিশেষভাবে আলোচিত।
১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশোয়ারে জন্মগ্রহণ করেন ইলিয়াস জাভেদ। পরে তিনি পরিবারসহ পাঞ্জাবে বসবাস শুরু করেন। ব্যক্তিজীবনে ১৯৮৪ সালে চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি।
তার মৃত্যুতে বাংলা চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক। ভক্ত, সহকর্মী ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই গুণী শিল্পীর প্রয়াণে শোক ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।