ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো-এর বিচার হওয়া উচিত তার নিজ দেশের আদালতে, যুক্তরাষ্ট্রে নয়। এমন মন্তব্য করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। লুলা এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, যদি মাদুরোর বিচার করতে হয়, তাকে তার দেশেই বিচার করতে হবে। এখন যা গুরুত্বপূর্ণ তা হল ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। এটি ভেনেজুয়েলার জনগণকে সমাধান করতে দেওয়া উচিত, বিদেশি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নয়।” তিনি ল্যাটিন আমেরিকায় মার্কিন-সমর্থিত একনায়কতন্ত্রের ইতিহাস উল্লেখ করে বলেন, “আমরা এটা মেনে নিতে পারি না যে এক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান অন্য দেশে হামলা চালান বা কোনো প্রেসিডেন্টকে বন্দি করেন।”
যুক্তরাষ্ট্রে নয় মাদুরোকে বিচার করতে হবে ভেনেজুয়েলায়, : ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা
তথ্য অনুযায়ী, ৩ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নির্দেশে পরিচালিত সামরিক অভিযানে মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণের চেষ্টা হয়। অভিযানের পর মাদুরোকে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তার বিরুদ্ধে মাদক পরিবহনের পরিকল্পনার অভিযোগসহ অন্যান্য মামলা আনা হয়েছে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, মার্কিন সরকারের তথ্য অনুযায়ী ভেনেজুয়েলা বিশ্বের প্রধান মাদক উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে নেই। তবে ট্রাম্প প্রশাসন অভিযোগ করেছে, মাদুরো এবং তার সহযোগীরা কলম্বিয়া ও মেক্সিকোর বৃহত্তম মাদক পাচারকারী গোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করছে।
লুলা উল্লেখ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং সামুদ্রিক অবরোধের মাধ্যমে মাদক পাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করার কথা বললেও, তেলের ব্যবসায় যুক্ত উপকৃত হওয়াও লক্ষ্য করা গেছে। ট্রাম্প আমেরিকান তেল কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলায় আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং বলেছেন, তেলের বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের উপকারে আসুক।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলার এই মন্তব্য ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেই আসে। তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো দেশ অন্য দেশের শীর্ষ নেতাকে বিদেশে বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা করতে পারবে না এবং জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা উচিত।