দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দীর্ঘ ৮০ বছর পর এই প্রথমবারের মতো কোনো মার্কিন সাবমেরিন থেকে ছোড়া টর্পেডোর আঘাতে শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করার ঘটনা ঘটল। গত বুধবার (৫ মার্চ) ভারত মহাসাগরে শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে মার্কিন হামলায় ইরানের অন্যতম শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’ সমুদ্রের তলদেশে বিলীন হয়ে গেছে। খবর আলজাজিরার।
যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো টর্পেডো ছুঁড়ল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর
পেন্টাগন এই অভিযানের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যায় একটি শক্তিশালী টর্পেডোর আঘাতে বিশাল জাহাজটি মাঝখান দিয়ে দ্বিখণ্ডিত হয়ে মুহূর্তের মধ্যে ডুবে যাচ্ছে।
পেন্টাগনের ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই সফল অভিযানকে ‘নীরব মৃত্যু’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানান, এই হামলায় অত্যাধুনিক ‘মার্ক-৪৮’ হেভিওয়েট টর্পেডো ব্যবহার করা হয়েছে। প্রায় ৩ হাজার ৮০০ পাউন্ড ওজনের এই টর্পেডোটি সোনার প্রযুক্তি ব্যবহার করে জাহাজের ঠিক নিচে গিয়ে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট বিশাল গ্যাসের বুদ্বুদ জাহাজের মূল কাঠামো বা ‘মেরুদণ্ড’ ভেঙে দেয়। যার ফলে আইআরআইএস ডেনা দুই টুকরো হয়ে খাড়াভাবে পানিতে তলিয়ে যায়।
শ্রীলঙ্কার সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটিতে মোট ১৮০ জন ক্রু ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত মাত্র ৩২ জন ইরানি নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের ভাগ্য নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
পেন্টাগনের ভিডিওতে দেখা যায়, টর্পেডোর আঘাতে জাহাজটির পেছনের অংশ উড়ে গিয়ে বিশাল জলরাশি আকাশের দিকে কয়েকশ ফুট উপরে উঠে যাচ্ছে।

ইউএস নেভি হিস্ট্রি অ্যান্ড হেরিটেজ কমান্ডের তথ্যমতে, ১৯৪৫ সালের ১৪ আগস্ট জাপানি জাহাজ ধ্বংস করার পর মার্কিন সাবমেরিন থেকে টর্পেডো ব্যবহারের ঘটনা আর ঘটেনি। মাঝখানের এই দীর্ঘ সময়ে সাবমেরিন থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বা টমাহক মিসাইল ব্যবহার করা হলেও টর্পেডোর মাধ্যমে সরাসরি জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার ঘটনা ছিল অকল্পনীয়।