ইরানের ৯২ শতাংশ কমেছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হার

Total Views : 10
Zoom In Zoom Out Read Later Print

দ্য জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চলমান সামরিক অভিযানের (‘অপারেশন এপিক ফিউরি’) দশম দিনে এসে ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। ডেটা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনের তুলনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার হার ৯২ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যেখানে দৈনিক ৪৮০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল, ৯ মার্চ সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৪০টিতে। একইভাবে, ড্রোন হামলার সংখ্যাও ৭২০ থেকে কমে ৬০-এ দাঁড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে ইরানের ৩০টিরও বেশি প্রদেশে ৩,০০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এতে ইরানের ৬০ শতাংশের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া ইরানের নৌবাহিনীর ৪৩টি যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে এবং তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ৮০ শতাংশই অকেজো হয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হয় প্রতিবেদনে।

 

এবারের যুদ্ধে শুধু ইসরায়েল নয়, পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) যুদ্ধের একটি বড় অংশ বহন করেছে এবং তাদের ওপরই সবচেয়ে বেশি প্রজেক্টাইল (ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন) আঘাত হেনেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ১১৯.৫০ ডলারে পৌঁছেছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

এই দশ দিনে ইরানে অন্তত ১,৭০৮ জন নিহত এবং ৬,০০০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া অন্তত ১ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইসরায়েল ও অন্যান্য দেশেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকজন বিদেশি সেনা ও বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।

 

ইসরাইলি গণমাধ্যমটিতে দাবি করা হয়, ২০২৬ সালের যুদ্ধের মাত্র ১০ দিনেই ইরান প্রায় ২,৪১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩,৫৬০টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। বিপরীতে, ২০২৫ সালের পুরো ১২ দিনের যুদ্ধে ইরান মোট ৬২৭টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৭৩৫টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল। অর্থাৎ, মাত্র ৩ দিনেই এবারের যুদ্ধ ২০২৫ সালের যুদ্ধের পুরো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে।২০২৬ সালে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিন থেকেই ইরান যে পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, তা ছিল ২০২৫ সালের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। ২০২৫ সালে ইরান অনেকটা ধীরগতিতে শুরু করেছিল (প্রথম ১৮ ঘণ্টা কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়েনি), কিন্তু ২০২৬ সালে আক্রমণের শুরু থেকেই ছিল চরম তীব্রতা।

 

জেরুজালেম পোস্টার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান তাদের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। তবে তারা এখন ‘অপ্রতিসাম্য’ যুদ্ধের দিকে ঝুঁকতে পারে, যেমন—সাইবার আক্রমণ, গোপন সেলের মাধ্যমে নাশকতা বা প্রক্সি বাহিনীর ব্যবহার। একইসাথে, রাশিয়া থেকে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার বিষয়টি যুদ্ধের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

 

এতে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধের এই গতিপথ যদি অব্যাহত থাকে, তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের হামলার হার আরও কমে একক সংখ্যায় নেমে আসার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ন্যাটো বা অন্য কোনো বৈশ্বিক শক্তির সরাসরি জড়িয়ে পড়ার মতো ‘ব্ল্যাক সোয়ান’ বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পুরো পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।বর্তমানে যুদ্ধের এই ১০ দিনে খরচ ছাড়িয়েছে ৬.৫ বিলিয়ন ডলার, যা দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

See More

Latest Photos