রাশিয়ার তেল ছাড়া বিশ্বের জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখা অসম্ভব : মস্কো

Total Views : 11
Zoom In Zoom Out Read Later Print

রাশিয়ার তেল ছাড়া বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজার কোনোভাবেই স্থিতিশীল রাখা সম্ভব নয়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় রাশিয়ার ওপর থেকে আরও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়ছে। ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা ও এর জবাবে তেহরানের পাল্টা আক্রমণের ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, যা বিশ্ব জ্বালানি ও পরিবহণ খাতকে চরম বিপর্যয়ে ফেলেছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) এক বিবৃতিতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে এ বার্তা দিয়েছে মস্কো। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ওপর আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞাগুলো শিথিল করতে শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ সরবরাহ বৃদ্ধি ও বাজারে তেলের দাম কমাতে রাশিয়া থেকে সাময়িকভাবে তেল বিক্রির অনুমতি দিয়েছে। চলতি সপ্তাহে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারে পৌঁছেছে, যা করোনা মহামারির পর সর্বোচ্চ।

ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের পর রাশিয়ার অর্থনৈতিক দূত কিরিল দিমিত্রিভ টেলিগ্রামে এক পোস্টে জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত এই সত্যটি স্বীকার করে নিচ্ছে যে, রুশ তেল ছাড়া বিশ্ববাজার অচল। তিনি আরও বলেন, ব্রাসেলসের আমলাতন্ত্রের বিরোধিতা সত্ত্বেও জ্বালানি সংকট নিরসনে রাশিয়ার ওপর থেকে আরও নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এখন সময়ের দাবি।

তবে ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে জি-৭ জোটের দেশগুলো। বর্তমানে এই জোটের সভাপতিত্ব করা ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার অজুহাতে রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি ইউক্রেন ইস্যুতে পশ্চিমা দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানান।

এদিকে, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ একটি বিশেষ লাইসেন্স জারি করেছে, যা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জাহাজে লোড করা রুশ তেল সরবরাহের অনুমতি দেয়। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট দাবি করেছেন, এটি একটি স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা ও এর ফলে রুশ সরকার বড় কোনো আর্থিক সুবিধা পাবে না।

সংঘাতের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ফ্লোরিডায় মার্কিন ও রুশ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি ‘ফলপ্রসূ’ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক আলোচনা, যা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের আভাস দিচ্ছে।

See More

Latest Photos