স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ঈদ উৎসবে কী খাবেন কী খাবেন না

Total Views : 9
Zoom In Zoom Out Read Later Print

রমজানের এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। এ আনন্দঘন দিনে পরিবার-পরিজনকে নিয়ে ঘরে ঘরে তৈরি হয় নানা সুস্বাদু ও মুখরোচক খাবার। তবে আনন্দের মাঝেও সুস্থতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রতিটি পরিবারেই বিভিন্ন বয়সি মানুষ যেমন থাকেন, তেমনি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা হজমজনিত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিও থাকেন। তাই ঈদের খাবারের মেন্যু হওয়া উচিত পরিমিত, পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত।

এক মাস রোজার পর হঠাৎ করে অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত ও মসলাদার খাবার খেলে অনেকের গ্যাস, অ্যাসিডিটি বা বদহজম হতে পারে। কারণ দীর্ঘদিনের নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের পর শরীরকে নতুন খাবারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় লাগে। এজন্য ঈদের দিনটি সহজপাচ্য ও হালকা খাবার দিয়ে শুরু করা ভালো, যা হজমে সহায়ক এবং শরীরকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে ফিরিয়ে আনে।

সকালের বা বিকালের নাস্তায় দুধ-সেমাই, পায়েশ, পুডিং বা কাস্টার্ড খাওয়া যেতে পারে, তবে তা অবশ্যই পরিমিত হতে হবে। মিষ্টান্ন তৈরিতে কনডেন্সড মিল্ক, অতিরিক্ত চিনি, বাটার বা মার্জারিন ব্যবহার না করে ব্রাউন সুগার, গুড় বা মধু ব্যবহার করা ভালো।

ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে স্টেভিয়া একটি নিরাপদ বিকল্প হতে পারে। আরও ভালো হয় যদি মিষ্টির পরিবর্তে মৌসুমি ফল বা মিক্সড ফ্রুট সালাদ নাস্তায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়, যা শরীরকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও ফাইবার সরবরাহ করে।

ঈদের প্রধান খাবারে সাধারণত পোলাও, বিরিয়ানি, তেহারি বা খিচুড়ির সঙ্গে লাল মাংসের বিভিন্ন পদ থাকে। তবে যাদের শারীরিক জটিলতা রয়েছে, তাদের জন্য অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার পরিহার করা জরুরি। তারা সাদা ভাতের সঙ্গে অল্প পরিমাণে (প্রায় ৫০ গ্রাম) মাংস খেতে পারেন এবং একই বেলায় অন্য প্রোটিনজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। বিকল্প হিসেবে মাছ বা ডিম রাখা যেতে পারে। আইবিএস রোগীদের জন্য দুধজাত খাবার ও কাঁচা সালাদ এড়িয়ে সামান্য দই গ্রহণ করা তুলনামূলক নিরাপদ।

ডায়াবেটিস ও অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তিদের মিষ্টান্ন কম খাওয়া উচিত এবং ফলকে প্রাধান্য দেওয়া ভালো। একবারে বেশি না খেয়ে ৪–৫ বার অল্প অল্প করে খাওয়া, ধীরে ধীরে চিবিয়ে খাওয়া এবং খাবারের শুরুতে সবজি বা সালাদ ও প্রোটিন গ্রহণ করে পরে ভাত বা পোলাও খাওয়া হজমের জন্য উপকারী এবং রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি কমাতে সহায়তা করে।

স্বাস্থ্যকর রান্নার ক্ষেত্রে মাংস ছোট টুকরো করে লেবুর রস, টক দই, আদা-রসুন দিয়ে কিছুক্ষণ মেরিনেট করে কম তেলে রান্না করা ভালো। ভাজা বা ভুনা খাবারের পরিবর্তে বেক, গ্রিল, রোস্ট বা স্টিম করা খাবার বেছে নেওয়া উচিত। এতে খাবারের পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ন থাকে এবং অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ কম হয়। ঘি ও মাখনের ব্যবহার যতটা সম্ভব সীমিত রাখতে হবে।

কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ ও সার্বিক সুস্থতার জন্য ঈদের দিনেও প্রতিদিন অন্তত ১০০ গ্রাম সবজি বা সালাদ খাওয়া উচিত এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। ইসুবগুলের ভুসি খাওয়া উপকারী হতে পারে। ভারী খাবারের পর হজমে সহায়ক হিসেবে বোরহানি, লেবু পানি, জিরা পানি, আদা পানি, ডাবের পানি বা ঘরে তৈরি ফ্রেশ জুস পান করা যেতে পারে। কোল্ড ড্রিঙ্কস ও কৃত্রিম রঙ-ফ্লেভারযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলো অপ্রয়োজনীয় ক্যালরি বাড়ায় এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়া ঠিক নয়—অন্তত ২ ঘণ্টা বিরতি রাখা ভালো। ঈদের দিনে বা রাতে কিছুটা হাঁটাহাঁটি বা হালকা ব্যায়াম করলে অতিরিক্ত ক্যালরি বার্ন হয়, হজম ভালো হয় এবং শরীর চাঙ্গা থাকে।

সচেতন খাদ্যাভ্যাস, পরিমিতি ও স্বাস্থ্যকর রান্নার অভ্যাস—এই তিনটি বিষয় মেনে চললে ঈদের আনন্দ হবে আরও নির্মল ও স্বাস্থ্যসম্মত। সুস্থ শরীরেই উৎসবের প্রকৃত আনন্দ নিহিত। যাদের বিশেষ শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তারা ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী পুষ্টিবিদের পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন। 

See More

Latest Photos