জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমার পূর্বাভাস এডিবির

Total Views : 17
Zoom In Zoom Out Read Later Print

বিশ্ব ব্যাংকের পর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবিও বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন-জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিডিপি ৪ শতাংশ বাড়তে পারে।

অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির হার না কমে বরং ৯ শতাংশে থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ম্যানিলাভিত্তিক ঋণদাতা সংস্থা এডিবি।

১০ এপ্রিল প্রকাশিত এডিবির এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক এপ্রিল সংস্করণে নতুন করে এ পূর্বাভাস মিলেছে। 

এর আগে সেপ্টেম্বর সংস্করণে সংস্থাটি বলেছিল, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হতে পারে ৫ শতাংশ।

প্রবৃদ্ধির সম্ভাব্য এই হার আগের বছরের চেয়ে সামান্য বেশি হলেও রপ্তানি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা বাড়তি শুল্ক প্রবৃদ্ধিকে চাপে ফেলতে পারে বলে এডিবি সতর্ক করে তখন।

একই সঙ্গে বলা হয়, অনুকূল পরিবেশ ও আঁটসাট মুদ্রানীতির ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল সংস্থাটি।

তবে হালনাগাদ প্রতিবেদনে সহযোগী এ সংস্থাটি বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হবে না, এমন চিন্তা থেকে ধারণা করা হচ্ছে পরের ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে উঠতে পারে।

জাতীয় নির্বাচন শেষে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে আসার ফলে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি আসবে ধারণা করে সংস্থাটি বলছে, তখন মূল্যস্ফীতিও কিছুটা কমতে পারে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৮ দশমিক ৫ শতাংশে মূল্যস্ফীতি নামতে পারে বলে পূর্বাভাস সংস্থাটির। 


এডিবির ডেভেলপমেন্ট আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয় সাড়ে ৪ শতাংশ, যা গত অর্থবছরের ২ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেশি।

এ ধারা পুরো অর্থবছর ধরেই থাকবে, যদিও মধ্য প্রাচ্যের যুদ্ধ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে সরবরাহে বিঘ্ন, তেল আমদানি ও রপ্তানির জাহাজে বাধার মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলতে পারে বলে শঙ্কা ও সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেছে এডিবি।

এর আগে বিশ্ব ব্যাংকও প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে আনে।

বুধবার প্রকাশিত বিশ্ব ব্যাংকের দ্বিবার্ষিক প্রতিবেদন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট (এপ্রিল) সংস্করণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ হিসেবে জানুয়ারির পূর্বাভাস থেকে দশমিক ৭ শতাংশ পয়েন্ট কম প্রবৃদ্ধির নতুন পূর্বাভাস দেওয়া হয়।

এর পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সমস্যা, যেমন-উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কম বিনিয়োগ এবং আর্থিক খাতের দুর্বলতার কথা তুলে ধরা হয়েছে বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে।

এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে আশা জাগানিয়া প্রবৃদ্ধির দেখা পেলেও পরের বা দ্বিতীয় প্রান্তিকে এসেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ।

৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, চলতি অর্থবছরের অক্টোবর–ডিসেম্বর প্রান্তিকে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ০৩ শতাংশ, যা জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ ছিল। 


মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির সংকট ঘিরে উৎপাদন ও সরবরবাহ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কার মধ্যেই প্রবৃদ্ধির গতি কমে আসার এ তথ্য দেয় সরকারি এ সংস্থাটি। 

এ সময় শিল্প খাতে সবচেয়ে কম ১ দশমিক ২৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। কৃষি খাতে উৎপাদন বেড়েছে ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ। আর সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

গত অর্থবছর থেকেই প্রবৃদ্ধির দিশা খুঁজে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। বিনিয়োগের মন্দায় শিল্প, কৃষি ও সেবাসহ সব খাতেই ধাক্কা লাগে।

তাতে চূড়ান্ত হিসাবে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি পাঁচ অর্থবছরের মধ্যে সবচেয়ে কম, ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশে দাঁড়ায়।

এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৪ দশমিক ২২ শতাংশ, যা ছিল চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম।

কোভিড পরবর্তী অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের মধ্যে চব্বিশের আন্দোলনের প্রভাবেই জিডিপি প্রবৃদ্ধি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা।

এর আগে কোভিডের আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেকর্ড ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। এরপর আসে মহামারী। সেই ধাক্কায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে হয় ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশে।

একটি দেশে সারা বছর উৎপাদিত পণ্য ও সেবা মিলিয়ে জিডিপি হিসাব করা হয়।

See More

Latest Photos