মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সংস্থার কাছ থেকে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তার আশ্বাস পেয়েছে। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আইএমএফ–বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠকের ফাঁকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। বৈঠকের সাইডলাইনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিজনিত চাপ মোকাবিলায় আমরা একটি বিশেষ সহায়তা প্যাকেজের দিকে এগোচ্ছি। আলোচনা ইতিবাচক এবং ফলপ্রসূ হয়েছে।” অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল গত চার দিন ধরে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক এবং জাইকার মতো দাতা সংস্থার সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছে।
বাংলাদেশের পাশে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক,অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায়
সরকারের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, আগামী জুন পর্যন্ত জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং সার আমদানিতে অতিরিক্ত প্রায় ২.৬১ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। একই সময়ে এসব খাতে মোট আমদানি ব্যয় প্রায় ৫.৬২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৮৬.৭ শতাংশ বেশি।
এই বাড়তি চাপ সামাল দিতে সরকার দাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের জরুরি অর্থসহায়তা চেয়েছে। আইএমএফ ইতিমধ্যেই উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ৫০ বিলিয়ন ডলারের জরুরি সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংক আগামী ১৫ মাসে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা তহবিল ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়েছে। বাংলাদেশ এসব উদ্যোগ থেকে সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা করছে।
আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন ওয়াশিংটনে বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে অতিরিক্ত সহায়তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় বৈশ্বিক সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে। আমরা নীতি সহায়তা ও কর্মসূচির মাধ্যমে কাজ করছি।”
তবে নিয়মিত অর্থছাড়ের জন্য বাংলাদেশকে আইএমএফের নির্ধারিত কিছু সংস্কার শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, বিনিময় হার সমন্বয় এবং আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। দাতা সংস্থাগুলো এ বিষয়ে এখনো কিছু উদ্বেগ প্রকাশ করছে।