সংস্কার জরুরি জ্বালানি খাতকে টেকসই করতে

Total Views : 13
Zoom In Zoom Out Read Later Print

জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের জন্য নীতিগত পরিবর্তন যথেষ্ট নয়, বরং পুরো ব্যবস্থার আমূল কাঠামোগত সংস্কার জরুরি বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করেন, বিদ্যমান কাঠামোর পরিবর্তন না আনলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে গণসংহতি আন্দোলন আয়োজিত ‘জ্বালানি নিরাপত্তা ও জনবান্ধব জ্বালানিনীতি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভায় কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, জ্বালানি খাতের বর্তমান কাঠামোটি এমনভাবে তৈরি হয়েছে যেখানে সংকটের সময়েও একটি নির্দিষ্ট সুবিধাভোগী গোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করা হয়। এই কাঠামোগত দুর্নীতির কারণে সাধারণ ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই চক্র ভাঙতে না পারলে যেকোনো সরকারই শেষ পর্যন্ত এই ব্যবস্থার অংশ হয়ে পড়বে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সমালোচনা করে বলেন, বর্তমানে প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে কেবল তাৎক্ষণিক খরচ বিবেচনা করা হয়। পরিবেশগত ক্ষতি কিংবা দীর্ঘমেয়াদি সাশ্রয়ের কৌশলগত লাভ এখানে উপেক্ষিত থাকে।

সভায় জ্বালানি সংকট সমাধানে তিন স্তরের পরিকল্পনার কথা জানান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হাসান আশরাফ বলেন, স্বল্প মেয়াদে জ্বালানির ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করা ও অপচয় রোধ করতে হবে। মধ্য মেয়াদে সৌরশক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে স্থানীয় পর্যায়ে জ্বালানি ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণ। এবং দীর্ঘ মেয়াদে বর্তমান উন্নয়ন মডেল পুনর্বিবেচনা করে একটি পরিবেশবান্ধব ও বৈষম্যহীন জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

গণসংহতি আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য তাসলিমা আখতার, ফিরোজ আহমেদ এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।

See More

Latest Photos