ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ও সমৃদ্ধ পদার্থের মজুদ নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া জল্পনা সরাসরি নাকচ করেছে তেহরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে পারমাণবিক কর্মসূচির কারিগরি বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা চলছে না। বরং ইরানের প্রধান লক্ষ্য এখন চলমান যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনা বন্ধ করা। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পারমাণবিক মজুদ নিয়ে যেসব খবর প্রকাশিত হচ্ছে, তার বেশিরভাগই অনুমাননির্ভর। তিনি দাবি করেন, এসব আলোচনা অতীতের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরি করা হচ্ছে এবং বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে এর মিল নেই।
ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে জল্পনা উড়িয়ে দিল
ইসমাইল বাঘাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের অগ্রাধিকার সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বলেন, “এখন মূল বিষয় হলো আমেরিকা ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ বন্ধ করা।” একই সঙ্গে তিনি জানান, পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের একটি বার্তা তেহরান পেয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের “অতিরিক্ত ও পরিবর্তনশীল দাবি”র কারণে সেই বার্তার বিস্তারিত প্রকাশ করা হচ্ছে না।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ-এর বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ এবং পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগের কারণে বিষয়টি আবারও আলোচনায় উঠে আসে।
সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সংলাপ নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন ইসমাইল বাঘাই। জবাবে তিনি বলেন, কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখা ইরানের দায়িত্বের অংশ। যদিও তেহরান এমন এক পক্ষের সঙ্গে কথা বলছে, যারা বারবার নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে। তার মতে, এই পরিস্থিতি আলোচনা কঠিন করে তুললেও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কূটনৈতিক পথ খোলা রাখা জরুরি।
আইএইএ মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির সাম্প্রতিক মন্তব্য প্রসঙ্গেও প্রতিক্রিয়া জানায় ইরান। ইসমাইল বাঘাই স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে সরে গিয়েছিল। এরপরই ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তার দাবি, বর্তমান অচলাবস্থার বড় কারণ যুক্তরাষ্ট্রের “বৈপরীত্যপূর্ণ আচরণ”।
২০১৫ সালের যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বা জেসিপিওএ চুক্তির মাধ্যমে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপে সম্মত হয়েছিল। এর বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তবে ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর উত্তেজনা আবারও বাড়তে শুরু করে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে পারমাণবিক আলোচনা এখন আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তবুও তেহরান কূটনৈতিক সমাধানের পথ পুরোপুরি বন্ধ করতে চাইছে না বলেই ইরানের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তথ্যসূত্র : তাসনিম নিউজ