বিশ্ব রাজনীতির টানটান উত্তেজনার মধ্যে তিন দিনের এক রাষ্ট্রীয় সফরে চীন যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ বুধবার তিনি বেইজিং পৌঁছাবেন এবং ১৫ মে পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবেন। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে ট্রাম্পের এই সফরটি হতে যাচ্ছে দীর্ঘ ৯ বছর পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম চীন সফর। মার্কিন উপ-প্রেস সচিব অ্যানা কেলি জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যায় বেইজিং পৌঁছানোর পর ট্রাম্পকে এক রাজকীয় সংবর্ধনা দেওয়া হবে। সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দুই বিশ্ব নেতার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ট্রাম্প ঐতিহাসিক ‘টেম্পল অফ হেভেন’ পরিদর্শন করবেন এবং জিনপিংয়ের দেওয়া রাষ্ট্রীয় ভোজে অংশ নেবেন। এই সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে থাকছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা। হোয়াইট হাউস সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রতিনিধি দলে রয়েছেন টেসলা কোম্পানির প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক, অ্যাপল কোম্পানির প্রধান নির্বাহী টিম কুক, বোয়িংয়ের শীর্ষ নির্বাহী কেলি অর্টবার্গ এবং জিই অ্যারোস্পেসের ল্যারি কাল্পসহ আরও অনেকে। এ ছাড়া মেটা, ব্ল্যাকরক, মাইক্রন, মাস্টারকার্ড ও ভিসার মতো বড় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও এই সফরে যোগ দিচ্ছেন। তবে এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং এই সফরে থাকছেন না। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবার কৃষি ও বিমান চলাচল খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চীন যাচ্ছেন ট্রাম্প তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে
সফরের প্রধান লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান ভঙ্গুর বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো। এই সফরের সবচেয়ে বড় আলোচ্য বিষয় হতে পারে বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে চীনের সম্ভাব্য বড় বিমান ক্রয় চুক্তি। প্রায় ৫০০টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্সসহ কয়েক ডজন বড় আকারের বিমান কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। চুক্তিটি সফল হলে এটি ২০১৭ সালের পর চীনের সবচেয়ে বড় বিমান ক্রয় চুক্তি হবে এবং বৈশ্বিক বিমান শিল্পে অন্যতম বড় চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। পাশাপাশি চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য ও জ্বালানি কেনার ঘোষণা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ নিয়ে যে সাময়িক সমঝোতা রয়েছে, তার মেয়াদ বাড়ানো নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালী অবরোধের ফলে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট এবং তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে ওয়াশিংটন-বেইজিংয়ের মধ্যকার চরম উত্তেজনার মধ্যেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দক্ষিণ চীন সাগর এবং বাণিজ্য শুল্ক নিয়েও দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্ক বিদ্যমান। হংকং ভিত্তিক গণমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, এই সফরটি প্রতীকীভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর মাধ্যমে দুই শক্তিশালী অর্থনীতির দেশের মধ্যে বিদ্যমান বিরোধ নিরসনের পথ প্রশস্ত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র : এনপিআর, এসিএমপি।