রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় এবং চারুকলা বিভাগের আয়োজনে রবীন্দ্রনাথের শিল্পকর্মের অনুলিপি ও বাংলাদেশের বরেণ্য শিল্পীদের শিল্পকর্ম নিয়ে বিশেষ আয়োজন। প্রদর্শনীর নাম - রবির চিত্র - চিত্রের রবী কিউরেটর- আব্দুল হালিম চঞ্চল, পরিচালক, চারুকলা বিভাগ, বাশিএ সহকারী কিউরেটর - আয়শা নাজমিন
রবীন্দ্রনাথের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী: শিল্পকলা একাডেমিতে বসছে ‘রবির চিত্র - চিত্রের রবী’ প্রদর্শনী
শিল্পচিন্তার পরিসরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক বহুমাত্রিক সৃজনশীল ব্যক্তিত্ব; সাহিত্য, সংগীত ও চিত্রকলার মাধ্যমে যার শিল্পভাবনা মানবচেতনার গভীরে পৌঁছেছে। ৬৩ বছর বয়সে চিত্রকলায় রবীন্দ্রনাথ আত্মপ্রকাশ করেন এবং ১৯২৮ সাল থেকে তাঁর পূর্ণাঙ্গ শিল্পচর্চা বিকশিত হয়। একাডেমিক অনুশাসনের বাইরে গিয়ে স্বাধীন ও স্বতঃস্ফূর্ত চিত্রভাষা নির্মাণ করেন, যা ভারতীয় আধুনিক শিল্পচর্চায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
‘কি আঁকা হয়েছে’ তা রবীন্দ্রনাথের ছবির মূল ভাবনা নয়; বরং কী অনুভব করা হচ্ছে তা প্রকাশ করা। তাই তাঁর চিত্রকর্মে বাস্তবের চেয়ে মানসিক অবস্থা, রূপান্তর, আর কল্পনার জগৎ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপীয় আভা গার্দ শিল্পধারার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের চিত্রের সাদৃশ্য অনুকরণের ফলে নয়; বরং তা ছিল আদিমতাবাদী শিল্পভাবনার এক সমান্তরাল বিকাশ। তাঁর শিল্পের মৌলিক বৈশিষ্ট্য ও একান্ত নিজস্ব শৈলীর সূচনা হয়েছিল তাঁর লেখার খসড়ায় কাটা শব্দ ও দাগ থেকে নতুন আকার সৃষ্টির খেলায় - যাকে তিনি বলতেন “erasures” (মুছে ফেলার প্রক্রিয়া)। লেখার খসড়ায় তিনি প্রায়ই বাংলা লিপি ও পৃষ্ঠার বিন্যাস নিয়ে নানা দৃষ্টিনন্দন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতেন। কলম, কালি ও ওয়াশের সীমিত রঙ ব্যবহারে নির্মিত তাঁর ‘erasures’ ধীরে ধীরে মানুষ ও প্রাণীর আকৃতি ধারণ করতে শুরু করে। এতে উত্তর আমেরিকার পশ্চিম উপকূলের হাইদা জনগোষ্ঠী এবং ওশেনিয়ার টোটেমিক শিল্পের প্রতি তাঁর আগ্রহ প্রতিফলিত হয়।
রবীন্দ্রনাথের চিত্রভাষা ছিল এক অন্তর্জাগতিক ও স্বতন্ত্র নন্দনভাষা, যেখানে অবচেতন, আদিমতা ও মানবিক অনুভব একসঙ্গে প্রতিফলিত হয়েছে। তাঁর চিত্রকলায় প্রচলিত ন্যাচারালিজমের পরিবর্তে দেখা যায় মুখাবয়ব, প্রাণী ও কাল্পনিক সত্তার এক প্রতীকী ও অভিব্যক্তিবাদী উপস্থাপন। রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলায় শব্দের পরিবর্তে রেখা, রঙ ও আকৃতিই হয়ে ওঠে অনুভূতির প্রধান ভাষা।
রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে প্রদর্শনী ‘রবির চিত্র - চিত্রের রবী’। আয়োজিত এই বিশেষ প্রদর্শনীতে রবীন্দ্রনাথের অঙ্কিত নির্বাচিত চিত্রকর্মের অনুলিপির পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রথিতযশা শিল্পীদের রবীন্দ্র-ভাবনা, দর্শন ও সৃজনচেতনা দ্বারা অনুপ্রাণিত শিল্পকর্ম উপস্থাপিত হয়েছে। এই আয়োজনের লক্ষ্য রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ ও সম্মান জানানোর পাশাপাশি তাঁর শিল্পভাবনা ও সমকালীন সময়ে পুনরায় অনুধাবন, চর্চা ও নতুন প্রজন্মের কাছে তাৎপর্যপূর্ণভাবে উপস্থাপন করা। বাংলাদেশের শিল্পীদের অংশগ্রহণ এই প্রদর্শনীকে আন্তঃপ্রজন্ম ও আন্তঃশৈল্পিক বিনিময়ের একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিসর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে, যেখানে রবীন্দ্রনাথ বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শিল্পচিন্তার সক্রিয় প্রেরণা হয়ে উঠবেন।
প্রদর্শনীর উদ্বোধক – মাননীয় মন্ত্রী জনাব নিতাই রায় চৌধুরী এমপি, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়
প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী বরেণ্য শিল্পীদের তালিকা - কাইয়ুম চৌধুরী, হাশেম খান, রফিকুন নবী, হামিদুজ্জামান খান, সমরজিৎ রায় চৌধুরী, সৈয়দ আবুল বারক্ আলভী, বীরেন সোম, মোহাম্মদ ইউনুস, নাসরিন বেগম, রোকেয়া সুলতানাসহ প্রমুখ প্রবীণ ও তরুণ শিল্পী।
প্রদর্শিত শিল্পকর্ম সংখ্যা – ৪৫ টি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিল্পকর্মের অনুলিপি , ৫০টি বরেণ্য শিল্পীদের শিল্পকর্ম।
প্রদর্শিত রবীন্দ্রনাথের চিত্রকর্মের অনুলিপির ধরণ- ল্যান্ডস্কেপ চিত্রকলা, জিওম্যাট্রিক ফর্ম, প্রতিকৃতি ও আত্মপ্রতিকৃতি ও প্রাথমিক পর্যায়ের খোসড়া চিত্র ।