এবারের ফিফা বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। দলের খেলোয়াড়রাই এখনও ভিসা পাননি যুক্তরাষ্ট্রের। এরই মধ্যে দেশটিকে নিয়ে নতুন করে বিপাকে পড়ে গেছে ফিফা। পাচ্ছে মামলার হুঁশিয়ারিও। ফিফা উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপ মাঠগুলোতে ইরানের প্রাক-বিপ্লব পতাকা, অর্থাৎ ‘সিংহ ও সূর্য’ চিহ্নের পতাকা নিষিদ্ধ করতে চাইছে। এই পতাকা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগে ইরানের প্রতীক ছিল।
ইরানকে নিয়ে ফিফা নতুন করে বিপাকে , পাচ্ছে মামলার হুঁশিয়ারিও
‘ইনস্টিটিউট ফর ভয়েসেস অব লিবার্টি’ নামের একটি সংস্থা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফিফাকে চিঠি দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, এ বিষয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার রাজ্য বা ফেডারেল আদালতে মামলা করা হতে পারে।
সংস্থার আইনজীবী শাহরখ মোখতারজাদেহ গত সপ্তাহে জানান, তিন দিনেও ফিফার কাছ থেকে কোনো জবাব আসেনি। তিনি বলেন, ‘সিংহ ও সূর্য পতাকা বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হলে আমরা উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
ফিফা সরাসরি কোনো জবাব না দিয়ে শুধু নিষিদ্ধ বস্তুর তালিকা দেখিয়েছে। সেই তালিকায় বলা হয়েছে, ‘রাজনৈতিক, আপত্তিকর বা বৈষম্যমূলক’ কিছু নিয়ে মাঠে ঢোকা যাবে না। তবে ‘সিংহ ও সূর্য’ পতাকা ঠিক কোন কারণে নিষিদ্ধ হচ্ছে, তা ফিফা স্পষ্ট করেনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও প্রবাসী ইরানিদের মধ্যে এই পতাকা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এই পতাকা তাদের কাছে গভীর সাংস্কৃতিক ও আবেগের প্রতীক। অন্যদিকে, মেহদি তাজ আগেই বলেছিলেন, অনানুষ্ঠানিক পতাকা, বিশেষত প্রাক-বিপ্লব সিংহ ও সূর্য পতাকার ওপর নিষেধাজ্ঞা না থাকলে ইরান বিশ্বকাপে অংশ নাও নিতে পারে।
রাজনৈতিক পরিস্থিতিও জটিল। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে ইরানকে বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছিলেন। পরে তিনি কিছুটা নরম হন। এর জবাবে ইরান বলেছিল, বরং যুক্তরাষ্ট্রকেই ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া উচিত।
নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণে ইরান তাদের ম্যাচ মেক্সিকোতে সরানোর কথাও ভেবেছিল। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাউম সেই প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছিলেন। পরে ফিফা নিশ্চিত করে, দলের অনুশীলন মাঠ অ্যারিজোনার টুকসন থেকে সরিয়ে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে হবে। ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে, ২১ জুন সফি স্টেডিয়ামে বেলজিয়ামের সঙ্গে এবং ২৬ জুন সিয়াটেলে মিশরের মুখোমুখি হবে ইরান।