সিভি তৈরির সময় কিছু সাধারণ ভুলের কারণে অনেক যোগ্য প্রার্থীরও চাকরি পাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায়। চাকরিদাতাদের কাছে নিজের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে সিভি লেখার সময় যে বিষয়গুলো থেকে অবশ্যই বিরত থাকা উচিত, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো সিভি লেখার সময় যা বর্জন করা উচিত ১. বানান ও ব্যাকরণগত ভুল সিভিতে বানান বা ব্যাকরণের ভুল প্রার্থীর অসচেতনতা ও খামখেয়ালিপনাকে প্রকাশ করে। এটি চাকরিদাতার ওপর শুরুতেই একটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই সিভি ফাইনাল করার আগে একাধিকবার রিভিশন দেওয়া এবং প্রয়োজনে অন্য কাউকে দিয়ে চেক করিয়ে নেওয়া উচিত। ২. অতিরিক্ত দীর্ঘ বা অপ্রাসঙ্গিক তথ্য
সিভিতে যে ভুলগুলো করবেন না চাকরি পেতে চাইলে
সিভি কখনোই একটি বিশাল আত্মজীবনী নয়। আপনার কর্মজীবন এবং শিক্ষার প্রধান ও প্রাসঙ্গিক অংশগুলোই এখানে স্থান পাওয়া উচিত। অপ্রাসঙ্গিক শখ, ছোটবেলার অর্জন বা যে পদের জন্য আবেদন করছেন তার সাথে মিল নেই এমন তথ্য দিয়ে সিভির পাতা ভারী করা থেকে বিরত থাকুন। একটি আদর্শ সিভি ১ থেকে ২ পৃষ্ঠার মধ্যে হওয়াই শ্রেয়।
৩. অবাস্তব বা মিথ্যা তথ্য প্রদান
অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা বা দক্ষতার বিষয়ে সিভিতে কোনো ধরনের অসত্য বা বাড়িয়ে বলা তথ্য দেওয়া একদমই উচিত নয়। ভাইভা বোর্ডে বা পরবর্তীতে ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশনের সময় মিথ্যা প্রমাণিত হলে চাকরি পাওয়ার সুযোগ চিরতরে নষ্ট হতে পারে, এমনকি ক্যারিয়ারে স্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
৪. পেশাদারিত্বহীন ইমেইল ঠিকানা
ব্যক্তিগত জীবনে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা ক্যাজুয়াল বা অদ্ভুত নামের ইমেইল ঠিকানা সিভিতে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। সিভিতে যোগাযোগের জন্য সবসময় নিজের নাম সংবলিত একটি পেশাদার ইমেইল আইডি ব্যবহার করা উচিত।
৫. সব চাকরির জন্য একই সিভি ব্যবহার
যেকোনো পদের সার্কুলার পেলেই হুবহু একই সিভি পাঠিয়ে দেওয়া একটি বড় ভুল। প্রতিটি পদের দায়িত্ব ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা আলাদা হয়। তাই যে কোম্পানিতে ও যে পদের জন্য আবেদন করছেন, সেই জব ডেসক্রিপশন ভালো করে পড়ে সিভির দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে সেই অনুযায়ী কিছুটা কাস্টমাইজ বা পরিমার্জন করে নেওয়া প্রয়োজন।
৬. অস্পষ্ট ও অগোছালো ফরম্যাটিং
অতিরিক্ত রঙিন ফন্ট, নানারকম হিজিবিজি ডিজাইন কিংবা ভিন্ন ভিন্ন ফন্টের ব্যবহার সিভির পেশাদারিত্ব নষ্ট করে। অতিমাত্রায় গ্রাফিক্সের কাজ করা সিভি অনেক সময় করপোরেট সফটওয়্যার রিড করতে পারে না। তাই সাধারণ, পরিষ্কার, মার্জিত ফন্ট এবং সঠিক স্পেসিং ব্যবহার করা উচিত।
গোছানো ও ভুলত্রুটিহীন সিভি ইন্টারভিউ কল পাওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই সিভিতে অপ্রয়োজনীয় তথ্যের ভিড় এড়িয়ে কেবল নিজের মূল যোগ্যতা ও দক্ষতাকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলুন।