ইরানের ড্রোন হামলা বাহরাইনে

Total Views : 5
Zoom In Zoom Out Read Later Print

গত সপ্তাহে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আবারও বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা শুরু হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) ইরান জানায়, তারা তাদের দক্ষিণ উপকূলে মার্কিন বিমান হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে সফল হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর হিসেবে পরিচিত বাহরাইন তাদের ভূখণ্ডে ইরানের ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। চার মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় দুই পক্ষই এখন একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ তুলছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের এই ‘আত্মরক্ষামূলক’ হামলার সুনির্দিষ্ট স্থানগুলোর নাম প্রকাশ না করলেও জানিয়েছে, সিরিক বন্দর নগরীর একটি যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন ‘বর্বর’ বিমান হামলার জবাব দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার (২৬ জুন) মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছিল, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক মালবাহী জাহাজে ইরানি ড্রোন হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই তারা ওই বিমান হামলা চালিয়েছিল। অন্যদিকে, বাহরাইন সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি প্রচেষ্টাকে তোয়াক্কা না করে ইরানের এই ধারাবাহিক হামলা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব এবং গত ১৭ জুনের ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের স্পষ্ট লঙ্ঘন। এই পরিস্থিতিতে বাহরাইন নিজেদের রক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

এদিকে, এই চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সাথে যুদ্ধ বন্ধের একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যেখানে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রিকরণ এবং লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। তবে হিজবুল্লাহ এই চুক্তিতে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। 

অপরদিকে, হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের কর্তৃত্ব দাবি করে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি অনুযায়ী এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে এবং তেহরানের নির্ধারিত রুট অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর জবাবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক্স (টুইটার) বার্তায় ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি মেনে চলছে, কিন্তু যেকোনো সহিংসতার জবাব কঠোর সহিংসতা দিয়েই দেওয়া হবে।

এই নতুন করে শুরু হওয়া সহিংসতার ঠিক আগেই শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল, কারণ দীর্ঘ চার মাস বন্ধ থাকার পর সৌদি আরামকো তাদের রাস তানুবা টার্মিনাল থেকে পুনরায় তেল সরবরাহ শুরু করেছিল। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপসাগরীয় দেশগুলো সফর শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালিতে কোনো টোল বা নিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টা ছাড়াই সম্পূর্ণ মুক্ত ও শর্তহীন নৌযান চলাচলের আহ্বান জানিয়েছেন। 

তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার শীর্ষ উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি ওয়াশিংটনের মিত্র উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছেন, এই অঞ্চলে তাদের টিকে থাকা তেহরানের সহনশীলতার ওপরই নির্ভর করছে।

সূত্র: রয়টার্স।

See More

Latest Photos