নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে এক ইজিবাইকচালকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ‘চিকিৎসকদের অবহেলায় মৃত্যু হয়েছে’—এমন অভিযোগ তুলে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভাঙচুর চালান। পরে পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
হাসপাতালে ভাঙচুর নেত্রকোনায় ‘রোগীর মৃত্যুতে চিকিৎসায় অবহেলার’ অভিযোগে
রোববার (১২ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মৃত সজীব মিয়া (২৩) নেত্রকোনা পৌর শহরের আমগাছতলা এলাকার শুকুর আলীর ছেলে। তিনি পেশায় ইজিবাইকচালক ছিলেন।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, গ্যাসের ব্যথা ও বমি নিয়ে রোববার সন্ধ্যায় সজীবকে জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও বিদ্যুৎ না থাকার অজুহাতে দায়িত্বরত চিকিৎসক সুজন পাল যথাযথ চিকিৎসা দিতে সময়ক্ষেপণ করেন। একপর্যায়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন হাসপাতালে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে জরুরি বিভাগে ভাঙচুর চালান। এতে জরুরি বিভাগ ও পাশের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের কয়েকটি জানালার কাচ এবং একটি দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে স্থানীয় ব্যক্তিদের সহযোগিতায় বিক্ষুব্ধ স্বজনদের শান্ত করা হয়।
এ সময় হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মাজহারুল আমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ নাকচ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাজহারুল আমিন যুগান্তরকে বলেন, রোববার সন্ধ্যা থেকে হাসপাতালে বিদ্যুৎ ছিল না। জেনারেটরের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা চলছিল। রাত ৮টা ৮ মিনিটে রোগীকে হাসপাতালে আনা হলে সঙ্গে সঙ্গে তার ইসিজি করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, তিনি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে ছিলেন। তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং স্বজনদের বিষয়টি জানানো হয়। তবে রেফার করার প্রস্তুতির মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। এরপর স্বজন ও স্থানীয় লোকজন হাসপাতালে এসে ভাঙচুর চালান।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক একরামুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, হাসপাতালে বিদ্যুৎ ছিল না। বারবার পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলীকে ফোন দিলেও সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। চিকিৎসায় কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে দায়িত্বরত চিকিৎসক সুজন পালের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।