পণ্যের হালাল সনদ নিতে ঘুস দিতে হয়। কখনো সনদ প্রদানকারী সংস্থার কর্মকর্তা যাতায়াতের জন্য গাড়ি চান, কখনো রপ্তানির পণ্যের ওজনের ওপর টাকা দাবি করেন। আবার কখনো ভারত থেকেও সনদ নিতে হয়। শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) আয়োজিত কর্মশালায় ব্যবসায়ীরা এ অভিযোগ করেন। বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজের সভাপতিত্বে সভায় অতিথি ছিলেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ।
হালাল সনদ নিতে ঘুস দিতে হয়
স্বাগত বক্তব্যে আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের হালাল পণ্য রপ্তানির পরিমাণ মাত্র ৮৫ কোটি ডলার। কিন্তু ২০২৫ সালে হালাল পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা ছিল ৩ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন বা ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলার। ২০৩৪ সালে যা বেড়ে হবে ৯ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন বা ৯ লাখ ৪৫ হাজার কোটি ডলার। প্রতি বছর গড় প্রবৃদ্ধি ১২ শতাংশের বেশি।’
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বিএসটিআই আলাদাভাবে হালাল পণ্যের সনদ দিয়ে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করছে। এতে ব্যবসার খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত হালাল পণ্যের সার্টিফিকেট চাহিদা ব্যবসায়ীদের নিকট থেকেই আসছে। মালয়েশিয়া হালাল অর্থনীতিকে কাজে লাগিয়ে তাদের দেশে হালাল পণ্যের রপ্তানি ও আমদানি বাজারকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে গেছে।
ইজি প্রসেস ফুডের চেয়ারম্যান ও বিসিআই-এর পরিচালক জিয়া হায়দার মিঠু বলেন, হালাল সনদের জন্য আবেদন করলে ইন্সপেকশনের জন্য গাড়ি পাঠাতে বলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। যার ফলে ব্যবসায়িক খরচ বেড়ে যাচ্ছে। আবার ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে সনদ নিতে হলে ফি দিতে হয়। সনদ নেওয়ার পর পণ্য কত প্রোডাকশন হচ্ছে তার ওপরও শতাংশ হারে ফি দিতে হয়। ফলে সনদের ফি অনেক বেড়ে যায়। তিনি হালাল সনদ বিনামূল্যে প্রদানের প্রস্তাব করেন।
বোম্বে সুইটসের মহাব্যবস্থাপক খুরশীদ আহমাদ ফরহাদ বলেন, অনেক দেশ বাংলাদেশের সনদ গ্রহণ করে না। যেমন সৌদি আরব। কেননা সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের চুক্তি নেই। বাধ্য হয়ে ভারত, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর থেকে সনদ নিতে হয়।
মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে যোগাযোগের অভাব ও সমন্বয়হীনতা একটি বড় দুর্বলতা হিসাবে কাজ করছে। ইপিবি বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা করবে।
সভায় বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআই সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের মহাপরিচালক মোহা. আমিনুল ইসলাম, অ্যাসোসিয়েশন অব টেস্টিং ল্যাব বাংলাদেশের সভাপতি আহাশান হাবিব প্রমুখ।