বলার অপেক্ষা রাখে না, ব্যাংক খাতের দুর্দশার অন্যতম কারণ খেলাপি ঋণ। গত আওয়ামী রেজিমে খেলাপি সংস্কৃতির যে উদ্বেগজনক যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা এখন দ্রুতগতি পেয়েছে, বেড়েছে উদ্বেগ। ঋণখেলাপির সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। গত বছরের মার্চে ঋণখেলাপির সংখ্যা ছিল ২২ লাখ, চলতি বছরের মার্চে তা এখন ৪৬ লাখ। অর্থাৎ ১ বছরের মাথায় খেলাপির সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, বড় ঋণগ্রহীতা এবং বড় শিল্পগুলোই খেলাপি বেশি।
খেলাপি ঋণ ক্রমবাড়ন্ত
গত বছরের মার্চে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ২৪ দশমিক ৬ শতাংশ, ডিসেম্বরে খেলাপির হার দাঁড়ায় ৩১ দশমিক ২ শতাংশ। আর চলতি বছরের মার্চে তা আরও বেড়ে হয় ৩২ দশমিক ৭ শতাংশ। খেলাপি ঋণের এই গ্রাফ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য এক সতর্কবার্তা বৈকি।
প্রতিবেদন থেকে পাওয়া গেছে, খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বগতির পেছনে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ও বড় করপোরেট হাউজগুলোই দায়ী। বস্তুত খেলাপি সংস্কৃতি এখন ব্যাংক খাতের এক অনিবার্য উপসর্গ। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে তদবির, ঘুস-বাণিজ্য ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ঋণের নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। শুধু প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকেই খেলাপি ঋণের পরিমাণ মোট ঋণের ৬১ শতাংশ।
পুরোনো সিন্ডিকেটগুলো এখনো সক্রিয়। বস্তুত ফ্যাসিবাদী সরকার ব্যাংক খাতকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এ ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা খুব কঠিন কাজ। সবচেয়ে বড় কথা, খেলাপি সংস্কৃতি দূর করতে না পারলে কোনো আশাবাদই ফল বয়ে আনবে না। বলা নিষ্প্রয়োজন, বর্তমানে ব্যাংক খাতের যে দশা, তাতে এ খাতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। ঋণ প্রদান ও ঋণ আদায় প্রক্রিয়ায় আনতে হবে ব্যাপক পরিবর্তন। ঋণখেলাপিদের জন্য সামাজিক প্রতিরোধও প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
তাদের সামাজিকভাবে বয়কট এবং নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার নিয়ম চালু করলে অনেক ফল পাওয়া যাবে বলা যায়। অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংককে গভীরভাবে সমস্যার ভেতরে যেতে হবে এবং এমন এক শৃঙ্খলা উদ্ভাবন করতে হবে, যাতে খেলাপি ঋণের কুফল থেকে অর্থনীতিকে রক্ষা করা যায়।