বিশেষ প্রতিনিধি: বাংলাদেশ এখন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের অপেক্ষায়। মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা। সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটি যাঁকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেবে, তিনিই যে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হবেন, তা অনেকটাই নিশ্চিত। বিএনপি জানিয়েছে, দলের স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আইনমন্ত্রীও জানিয়েছেন, সংসদের পরবর্তী অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে প্রজাতন্ত্রের প্রধান এবং দেশের প্রথম নাগরিক হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের ৪৮(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের অন্য সব ব্যক্তির ঊর্ধ্বে রাষ্ট্রপতির স্থান। তবে বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে রাষ্ট্রপতির পদটি কখনোই প্রত্যাশিত মর্যাদা ও কার্যকর ভূমিকা পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি। সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী সরকারপ্রধান ও প্রধান নির্বাহী হওয়ায় রাষ্ট্রপতির পদটি অনেকটা আনুষ্ঠানিক ও প্রতীকী হয়ে পড়েছে। বর্তমান সংবিধানেও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ছাড়া রাষ্ট্রপতিকে প্রায় সব বিষয়েই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হয়। বাস্তবেও এই দুই ক্ষেত্রেও কোনো রাষ্ট্রপতি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দৃষ্টান্ত খুব বেশি নেই। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও দেশের প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান বিচারপতি মো. সাহাবুদ্দীন আহমদ একবার রসিকতা করে বলেছিলেন, ‘কবর জিয়ারত ছাড়া রাষ্ট্রপতির কোনো কাজ নেই।’ কথাটির মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি পদের আনুষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতার একটি বাস্তব চিত্রই ফুটে ওঠে। সংসদে ভাষণ দেওয়া থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতির অধিকাংশ সাংবিধানিক ও আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমই সরকারের সিদ্ধান্ত ও পরামর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
রাষ্ট্রপতি হবেন জাতির অভিভাবক, কারও আজ্ঞাবহ নন