রূপ বদলাতে কতকিছুই না করছি আমরা। দামি প্রসাধনী, ফেসিয়াল আর নামি ব্র্যান্ডের সিরামের ভিড়েও ত্বক যা— তাই। কাঙ্ক্ষিত জেল্লা অধরাই থেকে যাচ্ছে? আসলে উপর থেকে প্রসাধনী মেখে রূপচর্চার দিন এখন অতীত। এভাবে এখন আর কেউ রূপচর্চা করে না।
এক চুমুকেই কমবে বয়স দামি প্রসাধনী নয় , জেনে নিন সেই রহস্য
আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে রয়েছে আপনার অন্দরমহলেই। শুধু প্রসাধনী আর ফেসিয়াল করলেই হবে না, খেতে হবে স্বাস্থ্যকর খাবারও। সম্প্রতি সৌন্দর্যপ্রেমীদের ভরসা কেড়েছে— ‘বিউটি ড্রিংক’ । অকালবার্ধক্য রুখতে এবং ত্বকে তারুণ্যের চমক ফিরিয়ে আনতে এখন ঘরে ঘরে জায়গা করে নিচ্ছে কোলাজেন মাচা ও নানা ভেষজ নির্যাস। এ যেন জাদু কি ঝাপ্পি। এক চুমুকেই এবার কমবে বয়স।
আজকাল দেখা যায়, অনেক তরুণীকে দৈনন্দিন অভ্যাসে স্থান করে নিয়েছে ‘কোলাজেন মাচা লাটে’। সতেজ সবুজ রঙের এ পানীয়টি মাচা ও হাইড্রোলাইজড কোলাজেন পেপটাইডের এক অদ্ভুত মেলবন্ধন। সাধারণত আমন্ড মিল্ক বা ওটস মিল্কের সঙ্গে সামান্য প্রাকৃতিক মিষ্টি মিশিয়ে এটি তৈরি হয়। প্রোটিনে ভরপুর এ পানীয় ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে, স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায় এবং বলিরেখা দূর করে ত্বককে ভেতর থেকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
একঘেয়ে নরম পানীয় ছেড়ে এখন অনেকেই ঝুঁকেছেন কোলাজেনসমৃদ্ধ ভেষজ আইসড টির দিকে। কোল্ড-ব্রু করা জবা, গোলাপ কিংবা অপরাজিতা চায়ের সঙ্গে লিচু বা বেদানা এবং কোলাজেন পেপটাইডের সংমিশ্রণ সত্যি অনন্য। অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর এ পানীয় ক্ষতিকর ফ্রি-র্যাডিক্যালের হাত থেকে ত্বককে রক্ষা করে। ফলে বার্ধক্যের ছাপ সহজে চেহারায় থাবা বসাতে পারে না।
মানসিক ক্লান্তি ত্বকের উজ্জ্বলতা কাড়তে ও অকালবার্ধক্যের অন্যতম বড় কারণ। আর তাই ইদানীং জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ‘অ্যাডাপটোজেনিক মাচা টনিক’। সাধারণ মাচার সঙ্গে অশ্বগন্ধা, রেইশি মাশরুম কিংবা তুলসীর মতো উপাদান মিলিয়ে তৈরি হয় এই বিশেষ পানীয়। এটি যেমন মানসিক উদ্বেগ কমায়, তেমনই ত্বকের প্রদাহ দূর করে ত্বককে কোমল ও মসৃণ রাখে।
আয়ুর্বেদের ঐতিহ্যবাহী আসব ও অরিষ্টের আদলে তৈরি ফারমেন্টেড বিউটি টনিকও এখন ট্রেন্ডিং। গুডুচি, কুটকি কিংবা আমলকীর প্রাকৃতির উপাদানে তৈরি এই এলিক্সির পরিপাকতন্ত্র ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। ফলে রক্ত পরিশ্রুত হয় এবং তার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে ত্বকের ওপর।
এর পাশাপাশি ওয়ার্কআউটের পর আজকাল সাধারণ প্রোটিন স্মুদির বদলে কোলাজেন, বায়োটিন ও ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ স্মুদি বেছে নিচ্ছেন রূপ সচেতনরা। ফলস্বরূপ ভেতর থেকেই ফুটে উঠছে কাঙ্ক্ষিত জেল্লা।