বিশ্বের ধনকুবেরদের কাছে বিলাসবহুল সুপারইয়ট সাধারণত অবকাশযাপন, আড্ডা কিংবা ব্যক্তিগত ভ্রমণের মাধ্যম হিসেবেই পরিচিত। তবে গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সের্গেই ব্রিন সেই প্রচলিত ধারণাকে এক ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গেছেন। তিনি তাঁর ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৫,৪০০ কোটি টাকা) মূল্যের সুপারইয়টকে কেবল বিলাসিতার প্রতীক নয়, বরং একটি আধুনিক ভাসমান প্রধান কার্যালয়ে (Floating Headquarters) পরিণত করেছেন। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রিনের ‘ড্রাগনফ্লাই’ (Dragonfly) নামের ৪৬৬ ফুট দীর্ঘ এই সুপারইয়টের একটি পুরো ডেক শুধু অফিস ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে। ফলে সমুদ্রে অবস্থানকালেও তিনি গুগলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্তে নিরবচ্ছিন্নভাবে অংশ নিতে পারছেন।
অফিস অবকাশেও : ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের সুপারইয়টকে ভাসমান সদর দফতরে রূপ দিলেন গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা
জার্মানির খ্যাতনামা জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান লুরসেন (Lürssen) নির্মিত এই সুপারইয়টটি ২০২৪ সালে তাঁর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরিবেশবান্ধব হাইব্রিড প্রযুক্তি, শক্তিশালী স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অত্যাধুনিক সুবিধার সমন্বয়ে নির্মিত নৌযানটিকে বিশ্বের অন্যতম ব্যতিক্রমী ব্যক্তিগত ইয়ট হিসেবে গণ্য করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ার পর থেকে সের্গেই ব্রিন আবারও গুগলের AI প্রকল্পগুলোতে সরাসরি ভূমিকা রাখছেন। কাজের গতি ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই তিনি সমুদ্রের বুকেও এই স্থায়ী কর্ম পরিবেশ তৈরি করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা প্রায়শই তাঁদের ব্যক্তিগত জেট বা ইয়ট থেকে কাজ করলেও, সুবিশাল কোনো ইয়টের আস্ত একটি ডেককে স্থায়ী অফিসে রূপান্তরের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। ফলে ‘ড্রাগনফ্লাই’ এখন কেবল বিলাস ব্যসনের অংশ নয়, বরং করপোরেট কর্মসংস্কৃতির এক নতুন ধারার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল প্রযুক্তির বিকাশে অফিসের চিরাচরিত ধারণায় দ্রুত পরিবর্তন আসছে। উচ্চগতির স্যাটেলাইট ইন্টারনেট, নিরাপদ ডেটা নেটওয়ার্ক এবং ক্লাউডভিত্তিক সুবিধার কারণে এখন বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকেই বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব—সের্গেই ব্রিনের এই উদ্যোগ তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।