২০২০ সালে বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দিয়েগো ম্যারাডোনার শরীরে বেশ কিছু ‘সতর্কতার লক্ষণ’ দেখা গিয়েছিল। কিন্তু সেগুলো উপেক্ষা করা হয়। আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তির মৃত্যু নিয়ে চলা বিচারে মঙ্গলবার এক সাক্ষী আদালতকে এমনটাই জানান। ম্যারাডোনার মৃত্যুতে অবহেলার অভিযোগে গত এপ্রিল মাঝামাঝি থেকে সাতজন স্বাস্থ্যকর্মীর বিচার চলছে আর্জেন্টিনায়। অস্ত্রোপচারের দুই সপ্তাহ পর হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা হারিয়ে এবং ফুসফুসে তরল জমা হওয়ার সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান এই বিশ্বকাপজয়ী তারকা।
ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এল
ফরেনসিক চিকিৎসক কার্লোস কাসিনেল্লি জানান, তিনি বেশ কিছু ‘সতর্কতার লক্ষণ’ লক্ষ্য করেছিলেন। এর মধ্যে ছিল পায়ের নিচের অংশে, আঙুলে ফোলাভাব, শ্বাসকষ্ট, উচ্চ রক্তচাপ এবং অস্বাভাবিক দ্রুত হৃদস্পন্দনের লক্ষণ।
বুয়েনস আইরেসের উত্তরে সান ইসিদ্রোর আদালতে তিনি বলেন, ‘কেউ গিয়ে দেখেননি, ওই ফোলাভাব আসলে কী নিয়ে হচ্ছে।’ যদিও এটি ছিল ‘জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ’ একটি বিষয়।
কাসিনেল্লি একটি চিকিৎসা বোর্ডের সদস্য। এই বোর্ড ম্যারাডোনার স্বাস্থ্যের অবস্থা নির্ধারণের জন্য বিভিন্ন নথি এবং বিবৃতি বিশ্লেষণ করেছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস, চিকিৎসকরা এই সতর্কতার লক্ষণগুলো আমলে নেননি। কারণ তাদের চিকিৎসার পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।’ তিনি আরও বলেন, বাড়িতে চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্তটিই ছিল একটি ভুল।
সাক্ষীর তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর কয়েকদিনের মধ্যেই এই ফুটবলারের অবস্থার অবনতি হতে থাকে।
তিনি বলেন, ‘তার অবস্থার অবনতি ধারাবাহিকভাবে হচ্ছিল... এই বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া যেত।’
বার্সেলোনা এবং নাপোলির সাবেক এই তারকা মৃত্যুর আগে প্রায় ১২ ঘণ্টা কষ্ট সহ্য করেছিলেন বলে জানান কাসিনেল্লি।
অভিযুক্তরা ম্যারাডোনার মৃত্যুর দায় অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, বছরের পর বছর কোকেন এবং মদ্যপানের আসক্তির সঙ্গে লড়াই করা এই কিংবদন্তি স্বাভাবিক কারণেই মারা গেছেন।
এই বিচারকাজ আগস্ট মাস পেরিয়েও চলতে পারে।