বাংলাদেশের হাতে ডারউইন টেস্টের লাগাম

Total Views : 7
Zoom In Zoom Out Read Later Print

মেহেদি হাসান মিরাজের ব্যাটে লিডটা দুইশ পার করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ চার ব্যাটারকে ফিরিয়ে ডারউইন টেস্টে আরও একটি ভালো দিন পার করেছে বাংলাদেশ। তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৫৩ ওভারে ৪ উইকেটে ১৬১ রান। এখনও ৬৭ রানে পিছিয়ে স্বাগতিকরা।

ক‍্যামেরন গ্রিন দুই চারে ৮৬ বলে ৪৩ রানে ব‍্যাট করছেন। একবার তিনি বেঁচে যান স্টাম্পে বল লাগার পরও। কিপার-ব‍্যাটসম‍্যান অ‍্যালেক্স কেয়ারি ৫০ বলে তিন চারে ব‍্যাট করছেন ১৯ রানে। পঞ্চম উইকেটে তাদের জুটি থেকে এসেছে ৯৪ বলে ৩৯ রান।

এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। লিড পায় ২২৮ রানের।

মারারা স্টেডিয়ামে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে শনিবার তৃতীয় দিন শুরু করে বাংলাদেশ। প্রথম সেশনে ২৩ ওভার বোলিং করে কেবল হাসান মাহমুদ ও তাইজুল ইসলামের উইকেট নিতে পারে অস্ট্রেলিয়া। দুই ব‍্যাটসম‍্যানকেই ফিরিয়েছেন জশ হেইজলউড।

মিরাজকে দারুণ সঙ্গ দিয়ে গেছেন তাইজুল, তারও আগে হাসান মাহমুদ। হেইজলউডের বলে হাসানের এলবিডব্লিউ হওয়ার মধ্য দিয়েই ভাঙে সপ্তম উইকেটে ১৭০ বলে ৪৬ রানের জুটি। হাসানের ৯২ বলে ১৪ রান যেখানে মনি-মুক্তার মতো মহামূল্যবান।

আগের দিন নতুন বলে অবিশ্বাস্য নিবেদন আর মনোযোগের নজির গড়েছিলেন হাসান।

এরপর তাইজুল ফেরেন হেইজলউডের শিকার হয়ে। জুটিতে ১৮ রানের ১৭ রানই আসে তাইজুলের ব্যাট থেকে। ২৩ বলে একটি করে ছক্কা-চারে ১৭ রান করেন এই স্পিনার।

এরপর তাসকিনকে নিয়ে আবার প্রতিরোধ গড়ে তোলেন মিরাজ।

মধ্যাহ্নভোজনের পর বেশিদূর যেতে পারেনি বাংলাদেশ। হাতের ২ উইকেটে ৫ ওভারে ৯ রান যোগ করে ১৩৮ ওভারে ৪২৬ রানে গুটিয়ে যায় দল।

ঘরের মাঠে ৭২ ইনিংস পর প্রতিপক্ষকে অলআউট করতে এত বেশি বোলিং করতে হলো অস্ট্রেলিয়াকে।

বিরতির পর দুই বল খেলেই উইকেটের পিছনে ধরা পড়েন মিরাজ। এর আগে এই মিডলআর্ডার ব্যাটার খেলেছেন ১৫৪ বলে ৬৫ রানের মহাগুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। সপ্তম, অষ্টম ও নবম উইকেটে গড়েছেন যথাক্রমে ৪৬, ১৮ ও ৪৬ রানের জুটি।

মিরাজের উইকেটটি ছিল জশ হেইজলউডের ক্যারিয়ারের ৩০০তম টেস্ট উইকেট। এটি দিয়ে ম্যাচে ৫ উইকেটও পূর্ণ করেন ডানহাতি এই পেসার।

ইবাদত হোসেনের উইকেটটিও যায় তার ঝুলিতে। তৃতীয় দিন বাংলাদেশের শেষ চার উইকেট নিলেন জশ হেইজেলউড। ম্যাচে তার বোলিং ফিগার ২৮-৩-৮৯-৬।

Geographic Reference

১৮ বলে ৭ রান করেন ইবাদত। ৩২ বলে ১৪ রানে অপরাজিত থেকে যান তাসকিন।

তবে বাংলাদেশের ইনিংসের মূল কারিগর তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রথ ম বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেঞ্চুরি তুলে নেন তানজিদ (১০১)। ৮৪ রানের অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলেন শান্ত।

প্রথম ইনিংসের মতো এবারও অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনারকে ফেরান হাসান। নিজের প্রথম ও দলীয় দ্বিতীয় ওভারেই জেইক ওয়েদেরল্ডকে ইনসাইড এজ বোল্ড করে দেন তিনি।

একাদশ ওভারে আক্রমণে ফিরে আবারও আঘাত হানেন প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া এই ডানহাতি পেসার। অফ স্টাম্প ঘেঁষা ডেভিভারিতে কাট করতে চেয়েছিলেন হেড। ঠিকঠাক পারেননি, কানায় লেগে আঘাত হানে লেগ স্টাম্পে। ভাঙে ৫৪ বল স্থায়ী ৩৩ রানের জুটি। ৩৫ বলে তিন চারে ১৭ রান করেন হেড।

পরে ৫৯ বলে দুই চারে ৩১ রান করা মার্নাস লাবুশেনকে বোল্ড করে দেন তাইজুল। ভাঙে ৯.৪ ওভারে ৩৬ রানের জুটি। ৭৩ রানে তৃতীয় উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।

এরপর আবার জুটি গড়ার চেষ্টা করে স্বাগতিকরা। ফিরতি ক্যাচ বানিয়ে সবচেয়ে বড় বাধা স্টিভেন স্মিথকে আউট করেন মিরাজ। নিজের বলে ডানদিকে ঝাঁপিয়ে ক্যাচটি লুফে নেন এই ডানহাতি স্পিনার। ইনিংস হার এড়াতে অস্ট্রেলিয়ার তখনও বাকি ১০৪ রান।

৮৮ বলে ৪৪ রান করেছেন স্মিথ। তার বিদায়ে ভাঙে ১০৬ বল স্থায়ী ৪৯ রানের জুটি।

এরপর অ্যালেক্স কেয়ারিকে নিয়ে আর বিপদ ছাড়ায় দিন পার করে দেন ক্যামেরন গ্রিন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ১৯৮

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: (আগের দিন ৩৫১/৬) ১৩৮ ওভারে ৪২৬ (মিরাজ ৬৫, হাসান ১৪, তাইজুল ১৭, তাসকিন ১৪*, ইবাদত ৭; স্টার্ক ২৬-৩-৭৯-২, হেইজলেউড ২৮-৩-৮৯-৬, গ্রিন ১০-২-৩৪-০, কামিন্স ২৭-৪-৭৫-১, লায়ান ৩১-৪-১০২-১, ওয়েবস্টার ১০-১-২৮-০, হেড ২-০-৩-০, লাবুশেন ৪-১-৪-০)


অস্ট্রেলিয়া ২য় ইনিংস: ৫৩ ওভারে ১৬১/৪ (হেড ১৭, ওয়েদেরল্ড ০, লাবুশেন ৩১, স্মিথ ৪৪, গ্রিন ৪৩*, কেয়ারি ২৩*; তাসকিন ১২-৩-৩৮-০, হাসান ১১-২-৩৩-২, ইবাদত ৮-০-৩৮-০, তাইজুল ৯-০-২৮-১, মিরাজ ১৩-৪-২০-১)

See More

Latest Photos