নীলফামারীর ডিমলায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে ১৪ বছর বয়সী ষষ্ঠ শ্রেণির এক কিশোরীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করেছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (২৪ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের একটি গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রওশন কবির। পুলিশ ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা দেখতে পান, অপ্রাপ্তবয়স্ক ওই কিশোরীর বিয়ের আয়োজন চলছিল।
১৪ বছরের কিশোরীর বাল্যবিবাহ বন্ধ,ডিমলায় মধ্যরাতে প্রশাসনের অভিযান:
পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক এবং এর আইনগত পরিণতি সম্পর্কে সচেতন করেন। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী বিয়ের আয়োজন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলে কিশোরীর বাবা নিজের ভুল স্বীকার করেন। একই সঙ্গে মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বিয়ে দেবেন না মর্মে প্রশাসনের কাছে মুচলেকা দেন। এ ঘটনায় কোনো আর্থিক জরিমানা করা হয়নি।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কিশোরীর পড়াশোনা যাতে চলমান থাকে, সে বিষয়টি বিবেচনা করে উপজেলা প্রশাসন, ডিমলার পক্ষ থেকে তাকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবিরের নেতৃত্বে সময়মতো অভিযান পরিচালনা করায় একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীর বিয়ে বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। জরিমানার পরিবর্তে পরিবারকে সচেতন করে বিয়ে বন্ধ এবং কিশোরীর পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে সহযোগিতা করার উদ্যোগটি প্রশংসনীয়।
তারা আরও বলেন, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, পরিবার ও সমাজকে সচেতন করার মধ্য দিয়েও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা সম্ভব। প্রশাসনের এমন মানবিক ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেবে।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রওশন কবির বলেন, “বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের ভবিষ্যৎ ও সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। কোথাও বাল্যবিবাহের আয়োজনের খবর পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের মানুষকে সচেতন করে বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইমরানুজ্জামান বলেন, “মেয়েটির পড়াশোনা চলমান রাখার স্বার্থে উপজেলা প্রশাসন, ডিমলার পক্ষ থেকে তাকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।”
স্থানীয়রা জানান, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সচেতন মানুষদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।